ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • 183

ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলা চালানোর সময়সীমা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আজ শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই বড় উল্লম্ফনকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই দরপতন দেখা গেছে।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০৬.১২ ডলারে নেমেছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ১০ দিনের আল্টিমেটাম মূলত তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইরানকে ১৫ দফা শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয় বা আলোচনায় বসতে রাজি না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী তাদের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

তেলের বাজারে এই সাময়িক দরপতন মূলত যুদ্ধের ধাক্কা এড়ানোর প্রত্যাশায়। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন না আসলে এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে দাম আবারও ১১০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং এশীয় আমদানিকারক দেশগুলো—যেমন চীন ও ভারত—এই সময়ে তাদের তেলের মজুত বাড়াচ্ছে।

আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন, বিশ্ব গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্পের সময় বাড়ানোর ঘোষণা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ক্ষণিক সুযোগ তৈরি করলেও, উভয় পক্ষই তাদের সামরিক শক্তি অব্যাহত রেখেছে। ফলে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা কতক্ষণ থাকবে, তা অজানা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

খুলনায় গুলি, খুন ও হামলার ধারাবাহিকতা, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

ট্রাম্পের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে কমতে শুরু করেছে তেলের দাম

Update Time : ০১:৫৩:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইরানের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে মার্কিন হামলা চালানোর সময়সীমা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড ও ডব্লিউটিআই—উভয় ধরনের তেলের দামেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, গতকাল বৃহস্পতিবার তেলের দাম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে আজ শুক্রবার দাম কিছুটা কমলেও তা আগের দিনের সেই বড় উল্লম্ফনকে পুরোপুরি কমিয়ে আনতে পারেনি। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে—এমন উদ্বেগের মধ্যেই এই দরপতন দেখা গেছে।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত আড়াইটায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১.৫ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৩.০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১.৮ শতাংশ কমে ব্যারেল প্রতি ১০৬.১২ ডলারে নেমেছে।

আলজাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই-এর দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি করেছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ১০ দিনের আল্টিমেটাম মূলত তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল বলে মনে করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে ইরানকে ১৫ দফা শর্ত মেনে নেওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়ে যদি ইরান হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয় বা আলোচনায় বসতে রাজি না হয়, তবে মার্কিন বাহিনী তাদের বৃহত্তম বিদ্যুৎকেন্দ্র ও তেল শোধনাগারগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

তেলের বাজারে এই সাময়িক দরপতন মূলত যুদ্ধের ধাক্কা এড়ানোর প্রত্যাশায়। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় কোনো পরিবর্তন না আসলে এবং হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ থাকলে দাম আবারও ১১০ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়ে যেতে পারে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো এবং এশীয় আমদানিকারক দেশগুলো—যেমন চীন ও ভারত—এই সময়ে তাদের তেলের মজুত বাড়াচ্ছে।

আইইএ প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন, বিশ্ব গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্পের সময় বাড়ানোর ঘোষণা কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ক্ষণিক সুযোগ তৈরি করলেও, উভয় পক্ষই তাদের সামরিক শক্তি অব্যাহত রেখেছে। ফলে তেলের বাজারে স্থিতিশীলতা কতক্ষণ থাকবে, তা অজানা।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং হামলা স্থগিত রাখার মেয়াদ ৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।