জীবন কার কোথায় থমকে যাবে, তা কেউ জানে না। ২০১৩ সালের রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরা নাসিমা বেগম (৪০) এবার আর ফিরে আসতে পারলেন না। গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।
নাসিমা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বাসিন্দা। জীবিকার সন্ধানে তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে ঢাকার সাভারে যান। পরে ঈদ উপলক্ষে স্বজনদের সঙ্গে ফরিদপুরে গিয়ে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঘটনার দিন বিকেলে নাসিমা তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমানকে নিয়ে বাসে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এতে তারা সবাই পানিতে ডুবে যান। পরে আব্দুল আজিজকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সময় নাসিমা সেখানে কর্মরত ছিলেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা তিন দিন আটকে থাকার পর জীবিত উদ্ধার হন তিনি। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে আবার ঢাকায় গিয়ে কাজ খুঁজছিলেন।
পার্বতীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ্দাম হোসেন জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নাসিমার পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
ডেস্ক নিউজ 






















