গ্যাং লিডার থেকে বিএনপির প্রচারণায়—কে এই বাবলা?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫
  • 182

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন সারোয়ার হোসেন বাবলা। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন এবং দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

একসময় ‘এইট মার্ডার’-এর আসামি ও সাজ্জাদ হোসেন খানের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান বাবলা। পরে গুরু সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে আলাদা দল গঠন করেন তিনি। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। বুধবারের ঘটনায় পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বাবলাকে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি বিএনপির নেতাদের হাত ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন বাবলা। তার সহযোগী নুরুন্নবী ম্যাক্সনের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে পরিচিত নাম ছিলেন। ২০১১ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি ছিলেন তারা। ২০১৭ সালে জামিনে বেরিয়ে কাতারে পালিয়ে যান। কাতারে মারামারির ঘটনায় সাজা ভোগের পর ২০২০ সালে দেশে ফেরত পাঠানো হলে আবারও অস্ত্রসহ ধরা পড়েন বাবলা।

কারাগার থেকে মুক্তির পর বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক মাস আগে তার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন এই দুই নেতা।

বুধবার বিকেলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি চালালে তিনজন আহত হন। এর মধ্যে বাবলা হাসপাতালে মারা যান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এরশাদ উল্লাহ নয়, টার্গেট ছিলেন সরোয়ার বাবলা। বাইরে থেকে আসা সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। সরোয়ারের বিরুদ্ধেও অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ ছিল।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা অশুভ সূচনা। রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারণা শুরুর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে।”

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই ঘটনায় বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের পুরোনো বিরোধের ফল।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

গ্যাং লিডার থেকে বিএনপির প্রচারণায়—কে এই বাবলা?

Update Time : ১১:৫৪:০৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গিয়ে গুলিতে নিহত হয়েছেন সারোয়ার হোসেন বাবলা। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন এবং দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।

একসময় ‘এইট মার্ডার’-এর আসামি ও সাজ্জাদ হোসেন খানের সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান বাবলা। পরে গুরু সাজ্জাদের সঙ্গে বিরোধের জেরে আলাদা দল গঠন করেন তিনি। এরপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ হয়। বুধবারের ঘটনায় পিঠে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয় বাবলাকে।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি বিএনপির নেতাদের হাত ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন বাবলা। তার সহযোগী নুরুন্নবী ম্যাক্সনের সঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ডে পরিচিত নাম ছিলেন। ২০১১ সালে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি ছিলেন তারা। ২০১৭ সালে জামিনে বেরিয়ে কাতারে পালিয়ে যান। কাতারে মারামারির ঘটনায় সাজা ভোগের পর ২০২০ সালে দেশে ফেরত পাঠানো হলে আবারও অস্ত্রসহ ধরা পড়েন বাবলা।

কারাগার থেকে মুক্তির পর বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে তার। পরে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ানের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। এক মাস আগে তার বিয়েতে উপস্থিত ছিলেন এই দুই নেতা।

বুধবার বিকেলে বায়েজিদ বোস্তামী থানার চালিতাতলী এলাকায় বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে গুলি চালালে তিনজন আহত হন। এর মধ্যে বাবলা হাসপাতালে মারা যান।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এরশাদ উল্লাহ নয়, টার্গেট ছিলেন সরোয়ার বাবলা। বাইরে থেকে আসা সন্ত্রাসীরা তাকে হত্যা করেছে। সরোয়ারের বিরুদ্ধেও অসংখ্য অপরাধের অভিযোগ ছিল।

তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের আগে এমন ঘটনা অশুভ সূচনা। রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারণা শুরুর আগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানালে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে।”

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই ঘটনায় বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এটি দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের পুরোনো বিরোধের ফল।”