ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর ঘটনায় সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে ছাত্র-জনতাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন।
বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত থেকে দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এসব বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান শরিফ ওসমান হাদি। তার মৃত্যুর খবরে তাৎক্ষণিকভাবে দেশজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়।
বরগুনায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা। রাত প্রায় ১১টার দিকে বরগুনা প্রেসক্লাব সংলগ্ন সদর রোড থেকে শুরু হওয়া মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচিতে রূপ নেয়। প্রায় এক ঘণ্টা সেখানে সড়ক অবরোধ করে রাখেন বিক্ষোভকারীরা।
ফেনীতে শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ থেকে ‘ফ্যাসিবাদ বিরোধী ঐক্য’র ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল করেন সাধারণ ছাত্র-জনতা। ফরিদপুরে গভীর রাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি করেন এবং পরদিন ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
শেরপুরে জেলা নাগরিক পার্টির উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। খুলনায় ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনের সোনাডাঙার বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। গাইবান্ধায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে বিক্ষোভ ও শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল এলাকায় সড়ক অবরোধ করা হয়, এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে।
সিলেটে চৌহাট্টা শহীদ মিনার এলাকায় মধ্যরাতে বিক্ষোভ করে ছাত্র-জনতা। সুনামগঞ্জে পৌর শহরের আলফাত স্কয়ার থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় বিক্ষোভ মিছিলের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোক প্রজ্জ্বলন কর্মসূচি পালন করা হয়।
ঝালকাঠিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ছাত্র-জনতা। টাঙ্গাইলে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। লক্ষ্মীপুরে হাদির হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। পিরোজপুর, পটুয়াখালী, ভোলা, কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ীতেও বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শোক ও প্রতিবাদী মিছিল শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে রিকশায় ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ডেস্ক নিউজ 






















