রাতটা রাঙিয়ে তুললেন লিওনেল মেসি। অবিশ্বাস্য গোল আর ইতিহাস গড়া সব রেকর্ডে মাতালেন সমর্থকদের। দলকে এনে দিলেন টানা দ্বিতীয় জয়, পৌঁছে দিয়েছেন দ্বিতীয় রাউন্ডের দোরগোড়ায়।
প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক পেয়েছিলে, এবার অবশ্য তা হয়নি। তবে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল আদায় করব নিয়েছেন মেসি। তার এমন নৈপুণ্যে ২-০ গোলের জয় পেয়েছে আলবিসেলেস্তারা।
প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়েন মেসি। বিশ্বকাপের সর্বকালের সেরা ফুটবলার এখন তিনি। মিরোসাভ ক্লোসাকে পেছনে ফেলে বনে গেছেন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।
১৩ গোল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেন মেসি। প্রথম ম্যাচেই আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সংখ্যাটা নিয়ে যান ১৬তে। বসে যান বিশ্বকাপের তখনকার সর্বোচ্চ গোলদাতা ক্লোসার পাশে।
আজ অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ডালাসে তিনি পেরিয়ে যান জার্মান কিংবদন্তিকে, ২৮তম ম্যাচে পেয়ে যান ১৭তম গোল। এবারের বিশ্বকাপে যা দুই ম্যাচে তার চতুর্থ গোল। অবশ্য পরে আরো বেড়েছে সংখ্যাটা।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে ফাকুন্দো মেদিনার ক্রসে ধরে ডামি করেন থিয়াগো আলমাদা। সেখান বল পেয়ে যান মেসি। আর এরপরই দারুণ দক্ষতায় বল জড়ান জালে। এরপরই যেন গর্জে উঠে গ্যালারি।
রেকর্ড গোলটা পেয়ে যেতে পারতেন ৭ম মিনিটেই। লাওতারো মার্তিনেজকে বক্সের ভেতর ফাউল করেন অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডার স্তেফান পশ। ভিএআর দেয় পেনাল্টির সিদ্ধান্ত।
কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে ডান দিকের পোস্টের বাইরে বল মারেন মেসি। হতাশ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের ১৪৯তম পেনাল্টি নিয়ে ৩৩ বার মিস করলেন আর্জেন্টিনাইন মহা তারকা।
বিশ্বকাপে এখন সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ড মেসির। ২০১৮ ও ২০২২ সালেও একটি করে পেনাল্টি মিস করেন মেসি।
১৯ মিনিটে আবার গোল করার সুযোগ নষ্ট করেন মেসি! গোলরক্ষককে একা পেয়েও তার গায়ে মারেন। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠে তবে কি আজ দিনটা মেসির নয়?
তবে ৩৮ মিনিটে আসে সেই কাঙ্খিত মুহূর্ত। মেসি যেন বললেন দিন কিভাবে নিজের বানাতে হয়, তা তিনি জানেন। দলকে দারুণ গোলে যেমন এগিয়ে দিলেন, নিজেও গড়লেন রেকর্ড।
এই নিয়ে বিশ্বকাপে টানা ৬ ম্যাচে গোল করলেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপের শেষ ৪ ম্যাচ ও এবার টানা দুই ম্যাচে পেলেন গোল।
এই কীর্তি আছে কেবল ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জেয়ারজিনহোর
অবশ্য এই অর্ধে ভালো খেলে অস্ট্রিয়াও। বেশ কয়েকটি দারুণ আক্রমণও করে তারা।চাপ বাড়ায় আলবিসেলেস্তাদের রক্ষণে। যদিও গোল পায়নি। ১-০ তে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় মেসিরা।
২০১৪ বিশ্বকাপের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত টানা ২০ ম্যাচে আর্জেন্টিনা সব সময়ই এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করেছে। যা এক দারুণ কীর্তি।
বিরতির পর চলতে থাকে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ। তবে জালের দেখা পাচ্ছিল না কোনো দলই৷ শক্তিমত্তায় ঢের পিছিয়ে থাকলেও বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে পাল্লা দিয়েই লড়াই করে অস্ট্রিয়া।
এভাবেই শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা। তবে যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে আবারো জ্বলে ওঠেন মেসি। দ্রুতগতির কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফের গোল আদায় করে নেন তিনি।
এই আক্রমণ থেকে প্রথম শট প্রতিহত হলেও ফিরতি বলে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় জালে বল পাঠান তিনি। তাতেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ২-০ গোলের জয়। মেসি পেয়ে যান বিশ্বকাপে নিজের ১৮তম গোলটাও।
আর জাতীয় দলের হয়ে ২০১ ম্যাচে মেসির গোল হলো ১২২টি। তার ওপরে আছেন কেবল পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো (১৪৩)।আর এখন পর্যন্ত মেসিই এই বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা (৫)
এদিকে ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘জি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে আর্জেন্টিনা। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট দ্বিতীয় অস্ট্রিয়ার। তৃতীয় জর্ডান ও চতুর্থ আলজেরিয়া পয়েন্ট পায়নি এখনো।
ডেস্ক নিউজ 























