অনুকূল পরিবেশ না হলে ভারত যাবেন না প্রধানমন্ত্রী

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 65

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদেরও বাংলাদেশে ফেরত দেবে ভারত।

রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। তবে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ঘটনায় এই প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহীদ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাবে।

আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

অনুকূল পরিবেশ না হলে ভারত যাবেন না প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৪:০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের আগে অনুকূল পরিবেশ তৈরির তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ। ঢাকার পক্ষ থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় ফেরত পাঠানো এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদেরও বাংলাদেশে ফেরত দেবে ভারত।

রোববার (১৬ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ কে এম শহীদুল করিম প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।

মুখপাত্র জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের কর্মকর্তারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যোগাযোগ করছেন। তবে সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনার প্রকাশ্য মতবিনিময়ের ঘটনায় এই প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন।

এ কে এম শহীদুল করিম বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য পলাতক অপরাধীদের প্রত্যর্পণের বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী শহীদ ওসমান হাদির অভিযুক্ত খুনিদের বাংলাদেশের হাতে তুলে দিতে হবে। আমরা এ বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় আছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, জাতীয় মর্যাদা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে প্রতিবেশীসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করে যাবে।

আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পাশাপাশি তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত।

সম্প্রতি দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। পরে ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় সফর নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়।