বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার স্থগিত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • 37

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও কড়াকড়ির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। খবর রয়টার্সের।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে।

তবে প্রশিক্ষণটি কতদিন চলবে বা নতুন সময়সূচি কবে থেকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার স্থগিতের খবরটি প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষায় থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইল করে জানানো হয়েছে, তাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, নতুন প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। এ ছাড়া ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় ও বহিষ্কারের পাশাপাশি ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়ও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বা অভিবাসন সুবিধা বাতিলের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে নীতিগুলো নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দেন, যার মাধ্যমে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কড়াকড়ির ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

মানবাধিকারকর্মীরা আরও বলছেন, অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তল্লাশি ও হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসনের নীতিতে শুধু অবৈধ নয়, বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র : রয়টার্স

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বিশ্বজুড়ে মার্কিন ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার স্থগিত

Update Time : ০৩:২৮:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান ও কড়াকড়ির মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। খবর রয়টার্সের।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, বিশ্বের সব মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রশিক্ষণের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিসা সেবার সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হবে।

তবে প্রশিক্ষণটি কতদিন চলবে বা নতুন সময়সূচি কবে থেকে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পররাষ্ট্র দপ্তর।

ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রথম ভিসা আবেদনকারীদের সাক্ষাৎকার স্থগিতের খবরটি প্রকাশ করে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, বিভিন্ন মার্কিন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে নির্ধারিত সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষায় থাকা অভিবাসী ভিসা আবেদনকারীদের ই-মেইল করে জানানো হয়েছে, তাদের সাক্ষাৎকারের তারিখ পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন তারিখ পরে জানানো হবে বলেও তাদের জানানো হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, নতুন প্রশিক্ষণের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করার সক্ষমতা বাড়ানো, যারা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। এ ছাড়া ভিসা আবেদনকারীদের আরও বিস্তৃত ও একই ধরনের মানদণ্ডে যাচাই করার জন্য কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ঠেকাতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছেন। এর অংশ হিসেবে অবৈধ অভিবাসীদের ধরপাকড় ও বহিষ্কারের পাশাপাশি ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিল এবং বিভিন্ন কারণে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়ও কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বা অভিবাসন সুবিধা বাতিলের কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করা। তবে নীতিগুলো নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে।

গত শুক্রবার এক মার্কিন বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের এমন একটি নীতি বাতিল করে দেন, যার মাধ্যমে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়া স্থগিত করা হয়েছিল। বিচারকের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছেন।

ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কড়াকড়ির ব্যাপক সমালোচনা করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ বৈষম্যমূলক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করছে।

মানবাধিকারকর্মীরা আরও বলছেন, অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ করে বিভিন্ন জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। তাদের কেউ কেউ জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তল্লাশি ও হয়রানির আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্প অবৈধ অভিবাসন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় ফিরে তার প্রশাসনের নীতিতে শুধু অবৈধ নয়, বৈধ অভিবাসনের পথও কঠিন হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, নির্দিষ্ট কিছু কর্মসংস্থানভিত্তিক ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন ও ব্যয়বহুল ফি আরোপসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

সূত্র : রয়টার্স