নেপালে ফের ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • 33

নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার (২৬ আগস্ট) আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছে কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড)। তারা জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো একটি বিশাল বাধা আটকে আছে। এর ফলে যে কোনো সময় দ্বিতীয় একটি জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসতে পারে।

হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশ- ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান নিয়ে কাজ করে ইসিমোড। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসিমোড হিমালয়জুড়ে পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করা শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি।

গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি অববাহিকায় হঠাৎ করেই এই বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেলে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী দিয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছছিতে ত্রিশুলি নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এত অল্প সময়ে পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নির্গত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় ভাটির দিকের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোও বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইসিমোডের সবচেয়ে জোরালো সতর্কতাটি এসেছে সংস্থাটির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাংয়ের কাছ থেকে। তিনি বলেন, গত বছরের রাসুয়ার বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একই স্থান আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় একটি বরফধস এর কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো একটি বাধা আটকে থাকায়, দ্বিতীয় একটি বন্যা আশঙ্কা রয়েছে। জিলং বন্দর এলাকা থেকে এরই মধ্যে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের ক্রায়োস্ফিয়ার অর্থাৎ হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র থেকে উদ্ভূত বিপদগুলোর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই ঘটনা।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট, সিসমিক ও হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করে উজানের সন্দেহভাজন বাধার স্থিতিশীলতা নির্ধারণে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার তীরের বাসিন্দাদের জন্য বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছে ইসিমোড।

উল্লেখ্য, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেপালে ফের ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা

Update Time : ০২:৪৩:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

নেপালের রাসুয়া জেলায় বুধবার (২৬ আগস্ট) আঘাত হানা ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নতুন করে আরেকটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের সতর্কবার্তা দিয়েছে কাঠমান্ডুভিত্তিক আন্তঃসরকারি সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্ট (ইসিমোড)। তারা জানিয়েছে, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো একটি বিশাল বাধা আটকে আছে। এর ফলে যে কোনো সময় দ্বিতীয় একটি জলোচ্ছ্বাস ধেয়ে আসতে পারে।

হিমালয় অঞ্চলের আটটি দেশ- ভারত, নেপাল, ভুটান, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও আফগানিস্তান নিয়ে কাজ করে ইসিমোড। ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইসিমোড হিমালয়জুড়ে পার্বত্য পরিবেশ, হিমবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ঝুঁকি নিয়ে গবেষণা করা শীর্ষস্থানীয় বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি।

গত ২৬ আগস্ট ভোতে কোশি অববাহিকায় হঠাৎ করেই এই বন্যার সূত্রপাত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টার দিকে পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পেলে বিপুল পরিমাণ পানি, পলি ও পাথর ভোতে কোশি এবং ত্রিশুলি নদী দিয়ে নিচের দিকে নামতে শুরু করে। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যে গালছছিতে ত্রিশুলি নদীর পানির স্তর ৯ মিটার এবং মালেকুতে প্রায় ৭ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়।

এত অল্প সময়ে পানির এমন অস্বাভাবিক বৃদ্ধি উজান থেকে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ নির্গত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। সম্ভাব্য প্রভাবের আশঙ্কায় ভাটির দিকের নুয়াকোট ও ধাদিং জেলার অন্যান্য এলাকাগুলোও বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

ইসিমোডের সবচেয়ে জোরালো সতর্কতাটি এসেছে সংস্থাটির জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাংয়ের কাছ থেকে। তিনি বলেন, গত বছরের রাসুয়ার বন্যায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া একই স্থান আবারও হুমকির মুখে পড়েছে। লেন্দে খোলায় একটি বরফধস এর কারণ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে, তবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে এখনো একটি বাধা আটকে থাকায়, দ্বিতীয় একটি বন্যা আশঙ্কা রয়েছে। জিলং বন্দর এলাকা থেকে এরই মধ্যে মানুষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলের ক্রায়োস্ফিয়ার অর্থাৎ হিমবাহ ও তুষারক্ষেত্র থেকে উদ্ভূত বিপদগুলোর বিষয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে এই ঘটনা।

বর্তমানে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট, সিসমিক ও হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বিশ্লেষণ করে উজানের সন্দেহভাজন বাধার স্থিতিশীলতা নির্ধারণে নিরলস কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভোতে কোশি ও ত্রিশুলি নদী ব্যবস্থার তীরের বাসিন্দাদের জন্য বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি বলে সতর্ক করেছে ইসিমোড।

উল্লেখ্য, নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৪০৩ পর্যটক নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জনই বিদেশি নাগরিক। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সূত্র: এনডিটিভি