বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ২০ শতাংশ, চাপে ভোক্তা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 12

চিনি, ময়দা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ দেখিয়ে পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুরসহ শুকনা বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন দরে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি’ বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এরপর দুই দিন কারখানা বন্ধ রেখে নতুন মূল্য কার্যকরের প্রস্তুতি নেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। শনিবার থেকে বাড়তি দরে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু হয়।

নতুন দর অনুযায়ী, আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ডের একটি পাউরুটির দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ৫০ টাকার এক পাউন্ড পাউরুটির দাম করা হয়েছে ৬০ টাকা। এ ছাড়া সাধারণ চায়ের দোকানে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বেকারি পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো প্রধান কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কাঁচামালের খরচের পাশাপাশি কারখানা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েই পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, রুটি, বিস্কুট, কেক, বাটার বনসহ সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু পণ্যের ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হয়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেকারিগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। অনেক কারখানাকে দিনের বড় একটি সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ছোট উদ্যোক্তারা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।

তবে ব্যবসায়ীদের এ যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন ভোক্তারা। তাদের প্রশ্ন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা তুলনামূলক কম দামের এসব পণ্যের দাম একসঙ্গে এতটা বাড়বে কেন? ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় বা বেতন বাড়েনি; অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে পাউরুটি, বিস্কুটসহ অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বাড়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ আরও বেড়ে যাবে।

হঠাৎ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতা ও চা-দোকানিরা জানিয়েছেন, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বেকারি পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনছেন। কেউ কেউ বাড়তি দাম শুনে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

তবে সব বেকারি সমিতির নির্ধারিত নতুন দাম অনুসরণ করছে না। রাজধানীর মানিকনগরের ভাণ্ডারি বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. আকাইদ হোসেন জানান, তারা সমিতির বাড়ানো দাম অনুসরণ করছেন না। উৎপাদন খরচ ও পণ্যের মান বিবেচনায় নিয়ে তারা আগেই নিজেদের পণ্যের দাম নির্ধারণ করেছেন। তাই সমিতির নতুন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তারা আর দাম সমন্বয় করেননি।

মুগদা বাজারের আরেক বেকারি ব্যবসায়ীও জানান, তারাও সমিতির বর্ধিত দাম অনুসরণ করছেন না। তাদের বেকারিতে বিভিন্ন ধরনের কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও বাটার বন তৈরি হয়। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় গত জুনেই পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তাই নতুন করে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।

ফলে একই ধরনের বেকারি পণ্যের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে ভিন্ন দামের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও সমিতির নির্ধারিত নতুন দর কার্যকর হয়েছে, আবার কোথাও আগের দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে দাম বাড়ানো প্রয়োজন হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তার পকেটে। বিশেষ করে ১০০ টাকার পাউরুটি ১২০ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু বেকারি পণ্য ১৫ টাকা হওয়ায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্য ব্যয় আরও বাড়বে। নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান মূল্যচাপের মধ্যে বেকারি পণ্যের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ল ২০ শতাংশ, চাপে ভোক্তা

Update Time : ০২:০৫:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চিনি, ময়দা, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণ দেখিয়ে পাউরুটি, বিস্কুট, চানাচুরসহ শুকনা বেকারি পণ্যের দাম সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নতুন দরে এসব পণ্য বিক্রি শুরু হয়েছে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর ‘ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি’ বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। এরপর দুই দিন কারখানা বন্ধ রেখে নতুন মূল্য কার্যকরের প্রস্তুতি নেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। শনিবার থেকে বাড়তি দরে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত শুরু হয়।

নতুন দর অনুযায়ী, আগে ১০০ টাকায় বিক্রি হওয়া দুই পাউন্ডের একটি পাউরুটির দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। ৫০ টাকার এক পাউন্ড পাউরুটির দাম করা হয়েছে ৬০ টাকা। এ ছাড়া সাধারণ চায়ের দোকানে ১০ টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু বেকারি পণ্যের দাম বাড়িয়ে ১৫ টাকা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য বেকারি পণ্যের দামও বাড়ানো হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত কয়েক মাসে বেকারি শিল্পের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ময়দা, চিনি ও ভোজ্যতেলের মতো প্রধান কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এতে কাঁচামালের খরচের পাশাপাশি কারখানা পরিচালনার ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাধ্য হয়েই পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

ব্রেড বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন বলেন, রুটি, বিস্কুট, কেক, বাটার বনসহ সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু পণ্যের ওজন কমিয়ে দাম সমন্বয় করা হয়েছে, আবার কিছু পণ্যের দাম সরাসরি বাড়ানো হয়েছে। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাম বেড়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় সমিতির সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বেকারিগুলো স্বাভাবিকভাবে চালানো যাচ্ছে না। অনেক কারখানাকে দিনের বড় একটি সময় বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে ছোট উদ্যোক্তারা বেশি সমস্যায় পড়ছেন।

তবে ব্যবসায়ীদের এ যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন ভোক্তারা। তাদের প্রশ্ন, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা তুলনামূলক কম দামের এসব পণ্যের দাম একসঙ্গে এতটা বাড়বে কেন? ক্রেতাদের অভিযোগ, আয় বা বেতন বাড়েনি; অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এর মধ্যে পাউরুটি, বিস্কুটসহ অন্যান্য বেকারি পণ্যের দাম বাড়ায় পরিবারের দৈনন্দিন খরচ আরও বেড়ে যাবে।

হঠাৎ সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকার বিক্রেতা ও চা-দোকানিরা জানিয়েছেন, নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর বেকারি পণ্যের বিক্রি কমে গেছে। অনেক ক্রেতা আগের তুলনায় কম পরিমাণে পণ্য কিনছেন। কেউ কেউ বাড়তি দাম শুনে পণ্য না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন।

তবে সব বেকারি সমিতির নির্ধারিত নতুন দাম অনুসরণ করছে না। রাজধানীর মানিকনগরের ভাণ্ডারি বেকারির স্বত্বাধিকারী মো. আকাইদ হোসেন জানান, তারা সমিতির বাড়ানো দাম অনুসরণ করছেন না। উৎপাদন খরচ ও পণ্যের মান বিবেচনায় নিয়ে তারা আগেই নিজেদের পণ্যের দাম নির্ধারণ করেছেন। তাই সমিতির নতুন মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তারা আর দাম সমন্বয় করেননি।

মুগদা বাজারের আরেক বেকারি ব্যবসায়ীও জানান, তারাও সমিতির বর্ধিত দাম অনুসরণ করছেন না। তাদের বেকারিতে বিভিন্ন ধরনের কেক, বিস্কুট, পাউরুটি ও বাটার বন তৈরি হয়। উৎপাদন খরচ বিবেচনায় গত জুনেই পণ্যের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তাই নতুন করে দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই।

ফলে একই ধরনের বেকারি পণ্যের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে ভিন্ন দামের চিত্র দেখা যাচ্ছে। কোথাও সমিতির নির্ধারিত নতুন দর কার্যকর হয়েছে, আবার কোথাও আগের দামেই পণ্য বিক্রি হচ্ছে। এতে ভোক্তাদের মধ্যে বিভ্রান্তিও তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় সামাল দিতে দাম বাড়ানো প্রয়োজন হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভোক্তার পকেটে। বিশেষ করে ১০০ টাকার পাউরুটি ১২০ টাকা এবং ১০ টাকার কিছু বেকারি পণ্য ১৫ টাকা হওয়ায় সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্য ব্যয় আরও বাড়বে। নিত্যপণ্যের বাজারে চলমান মূল্যচাপের মধ্যে বেকারি পণ্যের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।