সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 3

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ করবে। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।

ঋণ পেতে যাওয়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে একটি সরকারি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, তিন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের বার্ষিক সুদের হার হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে থাকবে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড।

অন্যদিকে, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাভোগী বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ বিতরণ করবে। এই সুদের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ফি ও চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।

সরকারি পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমাত্রার ব্যবহার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে, কম সুদে ও দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৫-২০৩০) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য অর্জনেও এই অর্থায়ন কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তহবিলের অর্থ সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন ও আধুনিকায়নে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে-

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ইনভার্টার ও ডিজিটাল মিটার এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।

ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরোনো ঋণ পরিশোধ, শেয়ার বা জমি কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া সুবিধাভোগীর ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থ বিভাগে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল এবং প্রতিবছর স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

স্ত্রীসহ আসিফ মাহমুদের তথ্য চেয়ে বিএফআইইউকে দুদকের চিঠি

সৌরবিদ্যুতে ঋণ দিতে ৩ প্রতিষ্ঠানকে দেড় হাজার কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

Update Time : ০২:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি-বেসরকারি তিন প্রতিষ্ঠানকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে সরকার। এসব প্রতিষ্ঠান পরবর্তী সময়ে শিল্প, প্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য গ্রাহকদের ঋণ বিতরণ করবে। গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ।

ঋণ পেতে যাওয়া প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০০ কোটি টাকা করে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে একটি সরকারি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী, তিন প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া ঋণের বার্ষিক সুদের হার হবে মাত্র শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে থাকবে এক বছরের গ্রেস পিরিয়ড।

অন্যদিকে, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুবিধাভোগী বা গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ বার্ষিক সুদে ঋণ বিতরণ করবে। এই সুদের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব ধরনের ফি ও চার্জ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ১ হাজার কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মাইক্রো, স্মল ও মিডিয়াম (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা পরিচালন ঋণ থেকে সংস্থান করা হবে।

সরকারি পরিপত্রে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমাত্রার ব্যবহার বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপ বৃদ্ধি এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সহজ শর্তে, কম সুদে ও দীর্ঘমেয়াদে অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৫-২০৩০) অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য অর্জনেও এই অর্থায়ন কার্যক্রম ভূমিকা রাখবে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই তহবিলের অর্থ সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন ও আধুনিকায়নে ব্যবহার করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে-

ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার ইনভার্টার ও ডিজিটাল মিটার এবং ব্যাটারি স্টোরেজ ব্যবস্থা।

ঋণের অর্থ কোনোভাবেই পুরোনো ঋণ পরিশোধ, শেয়ার বা জমি কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ কিংবা প্রশাসনিক ব্যয়ে ব্যবহার করা যাবে না।

এ ছাড়া সুবিধাভোগীর ঋণখেলাপি হওয়ার ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।

তহবিলের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা, প্রতি তিন মাস অন্তর অর্থ বিভাগে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল এবং প্রতিবছর স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা (অডিট) সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতাও দেওয়া হয়েছে।