প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
  • 43

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পর পরীক্ষা স্থগিত করেছে অধিদপ্তর। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা। এ সময় তাদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে রাজধানীর মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয় ও বাংলা কলেজ খিলগাঁও মডেল কলেজ, শাপলা চত্বর কেন্দ্র ঘুরে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এ সময় তারা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি এবং নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীরা বলেন, পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে তারা হতাশ হয়েছেন। এ পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলেও দাবি করেন তারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও চাকরির পরীক্ষা দিতে আসা রুমা রানা বলেন, এই যে লাখ লাখ স্টুডেন্ট, এদের কয়জনই বা ঢাকায় থাকে? জেলা শহর থেকে ধারদেনা করে, সারারাত জার্নি করে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঢাকায় আসে পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষা শেষ করেই আবার বাড়ির পথ ধরবে। অথচ শেষ মুহূর্তে এসে শুনল প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত!

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এই শারীরিক শ্রম, আর্থিক ক্ষতি আর ভাঙা স্বপ্নের দায় কে নেবে? রাষ্ট্র কেন এখনো এই প্রশ্নফাঁস চক্রের লাগাম টানতে পারছে না? লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছেলেখেলা আর কতদিন চলবে? প্রশ্নফাঁস তো মহামারি আকার ধারণ করেছে! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম বলেন, উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষার্থীরা মতিঝিল শাপলা চত্বরে আন্দোলন করছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে (১১তম গ্রেড) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এজন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

খুলনায় গুলি, খুন ও হামলার ধারাবাহিকতা, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত, প্রতিবাদে বিক্ষোভ

Update Time : ০১:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠেছে। পরীক্ষা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্রের ছবি ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগের পর পরীক্ষা স্থগিত করেছে অধিদপ্তর। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ করেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষা দিতে আসা প্রার্থীরা। এ সময় তাদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়।

সরেজমিনে রাজধানীর মতিঝিল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়, কলোনি উচ্চবিদ্যালয়, বালক উচ্চবিদ্যালয় ও বাংলা কলেজ খিলগাঁও মডেল কলেজ, শাপলা চত্বর কেন্দ্র ঘুরে পরীক্ষার্থীদের বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। এ সময় তারা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তি এবং নিয়োগ পরীক্ষার বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানান।

বিক্ষোভকারী পরীক্ষার্থীরা বলেন, পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় তারা চরম ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই ধারদেনা করে ঢাকায় এসেছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের খবর পেয়ে তারা হতাশ হয়েছেন। এ পরিস্থিতির দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে বলেও দাবি করেন তারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও চাকরির পরীক্ষা দিতে আসা রুমা রানা বলেন, এই যে লাখ লাখ স্টুডেন্ট, এদের কয়জনই বা ঢাকায় থাকে? জেলা শহর থেকে ধারদেনা করে, সারারাত জার্নি করে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ঢাকায় আসে পরীক্ষা দিতে। পরীক্ষা শেষ করেই আবার বাড়ির পথ ধরবে। অথচ শেষ মুহূর্তে এসে শুনল প্রশ্নফাঁসের কারণে পরীক্ষা স্থগিত!

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের এই শারীরিক শ্রম, আর্থিক ক্ষতি আর ভাঙা স্বপ্নের দায় কে নেবে? রাষ্ট্র কেন এখনো এই প্রশ্নফাঁস চক্রের লাগাম টানতে পারছে না? লাখ লাখ তরুণের ভবিষ্যৎ নিয়ে এই ছেলেখেলা আর কতদিন চলবে? প্রশ্নফাঁস তো মহামারি আকার ধারণ করেছে! এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিক্ষোভকারীরা প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রেজওয়ান ইসলাম বলেন, উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষার্থীরা মতিঝিল শাপলা চত্বরে আন্দোলন করছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সহ পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়ন রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছি।

প্রসঙ্গত, শনিবার সকাল ১১টায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে (১১তম গ্রেড) নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ২৪২টি পদের বিপরীতে সারা দেশ থেকে তিন লাখের বেশি প্রার্থীর এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এজন্য রাজধানীর প্রায় ১০০টি কেন্দ্রে পরীক্ষা আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।