নেপালের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তবর্তী জেলা রাসুয়ায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় এখন পর্যন্ত ৪৬৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও এক হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে অন্তত ৫৪০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে ধারণা করছে নেপাল পুলিশ।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে নেপাল পুলিশ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে বুধবার (২৬ আগস্ট) ভোতি কোশি নদীর পানির অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে নেপালের রাসুয়া জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। সীমান্তের ওপারে তিব্বতের গিরং জেলাতেও এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ে। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে বিস্তীর্ণ এলাকা চাপা পড়ে। এতে বহু মানুষ নিখোঁজ হন।
নেপাল ও চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, রাসুয়া ও তিব্বতের গিরং এলাকায় মোট ১ হাজার ৩৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে নেপালে ৮২৬ জন এবং তিব্বতে ৫৫৮ জন। নিখোঁজদের মধ্যে নেপালে প্রায় ৫০০ জন এবং তিব্বতে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন।
নেপালের সামরিক বাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় জীবিতদের সন্ধান চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া শহর ও উপত্যকার হাজারো মানুষের কাছে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
জরুরি পরিষেবা কর্মীরা নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালানোর পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সৎকারের ব্যবস্থাও করছেন।
বৃহস্পতিবার রাসুয়া শহর থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন দিবগা তামাং। তাকে আরও তিনজনের সঙ্গে আকাশপথে নুয়াকোটের একটি সেনা ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
উদ্ধারের পর তামাং তার পরিবারের সদস্যদের হারানোর কথা জানিয়ে বলেন, তার পরিবার ও আপনজন বলতে আর কেউ নেই। তার জন্য অপেক্ষা করারও কেউ নেই। ভয়াবহ এই দুর্যোগে তার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে।
ডেস্ক নিউজ 





















