স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 12

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাথে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তাই এ বিষয়ে প্রার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বজনীন পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি অযোগ্য হবেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫’-এর ১১.১৭(খ) ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। আর্থিক লাভজনক পদের মধ্যে সরকার বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আইন পেশার বিনিময়ে পাওয়া বেতন, ভাতা ও সম্মানিও অন্তর্ভুক্ত।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন আইনগত মতামত বা ব্যাখ্যার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠালে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, এটি মানবাধিকারের সাথেও সম্পর্কিত। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া না করলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই

Update Time : ০২:০৮:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নেবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সাথে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।

মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের কোথাও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। তাই এ বিষয়ে প্রার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, পৌরসভার চেয়ারম্যান বা মেয়র ও কাউন্সিলর এবং সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর—কোনো পদেই নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়।

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রজাতন্ত্র, পরিষদ বা অন্য কোনো স্থানীয় কর্তৃপক্ষের লাভজনক সার্বজনীন পদে অধিষ্ঠিত থাকলে তিনি অযোগ্য হবেন।

তিনি বলেন, বিষয়টি স্পষ্ট করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্কুল-কলেজ, জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫’-এর ১১.১৭(খ) ধারায় বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একই সময়ে একাধিক পদ বা চাকরিতে কিংবা আর্থিক লাভজনক কোনো পদে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না। আর্থিক লাভজনক পদের মধ্যে সরকার বা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা আইন পেশার বিনিময়ে পাওয়া বেতন, ভাতা ও সম্মানিও অন্তর্ভুক্ত।

মীর শাহে আলম বলেন, নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তাই স্থানীয় সরকার আইন এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের নীতিমালা পর্যালোচনা করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে।

প্রয়োজনে নির্বাচন কমিশন আইনগত মতামত বা ব্যাখ্যার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি পাঠালে আইন মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রেও শিক্ষাগত যোগ্যতার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমন বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি।

তিনি বলেন, এটি মানবাধিকারের সাথেও সম্পর্কিত। একজন সমাজসেবক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে লেখাপড়া না করলেও স্বশিক্ষিত হতে পারেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য একজন ব্যক্তির প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চেয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার যোগ্যতাই গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবিধানিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।