আসিফের দায়িত্বকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৯:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 8

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৌঁছেছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নথিপত্র তলব করে দুদক চিঠি দেওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে এসব কাগজপত্র পাঠানো হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের স্বার্থে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে নথিপত্র তলব করা হয়েছিল। অধিকাংশ নথি পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে আইন ও বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

পরদিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চার ধরনের নথি তলব করে দুদক। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে বদলি সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে।

এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক অভিযোগেরও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এসব অভিযোগ আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগে পাঁচটি দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে দুর্নীতির অর্থে জমি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে ঘুষ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে টাকার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্নভাবে বলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দুদককে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান আইন ও বিধি অনুযায়ী চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

আসিফের দায়িত্বকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে

আসিফের দায়িত্বকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে

Update Time : ০৯:১৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পৌঁছেছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নথিপত্র তলব করে দুদক চিঠি দেওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে এসব কাগজপত্র পাঠানো হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের স্বার্থে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে নথিপত্র তলব করা হয়েছিল। অধিকাংশ নথি পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে আইন ও বিধির কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও অনুসন্ধানের আওতায় আনা হবে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।

পরদিন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে চার ধরনের নথি তলব করে দুদক। এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে বদলি সংক্রান্ত কাগজপত্র রয়েছে।

এদিকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক অভিযোগেরও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এসব অভিযোগ আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা, দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের দরপত্র নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া অভিযোগে পাঁচটি দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পর্তুগালে দুর্নীতির অর্থে জমি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগে ঘুষ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে টাকার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্নভাবে বলা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দুদককে ব্যবহার করে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে কি না, সেটিও দেখা প্রয়োজন।

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদসহ আরও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগের অনুসন্ধান আইন ও বিধি অনুযায়ী চলমান রয়েছে।