জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানীর অভিযোগ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • 168

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে  নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। কিন্তু অত্যাধিক দামের কারণে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ইলিশ কেনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। অন্যদিকে দেশের মধ্যবিত্ত জনগণও ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ইলিশের দাম গড়ে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি।

এছাড়া, বাজারে সবচেয়ে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশের দাম গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি। কিন্তু পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। বাজারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেসব ইলিশ পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত অন্যান্য নদীর ও সামুদ্রিক ইলিশ মাছ।

নোটিশে বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এই যে, দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা না করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম আরও বেড়েছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের বাজার দরের চেয়ে কম মূল্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে।

ভারতে যে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত পদ্মার ইলিশ। এমনিতেই পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়। এই পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে পদ্মার ইলিশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের রপ্তানিনীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মুক্তভাবে রপ্তানি যোগ্য পণ্য নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অনায্যভাবে, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।

সরকার যদি বিদেশিদের ইলিশের স্বাদ উপভোগ করাতে চায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ‘ইলিশ উৎসব’ আয়োজন করতে পারে। যেখানে বিদেশীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এমনকি আসন্ন দুর্গা পূজায় ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে বাংলাদেশে ভ্রমণ করে ইলিশের স্বাদ উপভোগ করার।

এখানে উল্লেখ্য যে, পর্যটন কর্পোরেশন আইন (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন অর্ডার) এর ধারা ৫ অনুযায়ী, পর্যটনের উন্নয়ন, বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করাসহ পর্যটনের সব উৎকর্ষ সাধনের দায়িত্ব পর্যটন কর্পোরেশনের।

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় উক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

 

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানীর অভিযোগ।

Update Time : ০২:৫০:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২২

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বেসরকারি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানকে  নোটিশটি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। কিন্তু অত্যাধিক দামের কারণে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ইলিশ কেনার কথা চিন্তাও করতে পারে না। অন্যদিকে দেশের মধ্যবিত্ত জনগণও ইলিশ কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। বাজারে ইলিশের দাম গড়ে ১০০০ টাকা থেকে ১২০০ টাকা কেজি।

এছাড়া, বাজারে সবচেয়ে সুস্বাদু পদ্মার ইলিশের দাম গড়ে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা কেজি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এর চেয়ে বেশি। কিন্তু পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ মাছ পাওয়া যায়। বাজারে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যেসব ইলিশ পাওয়া যায়, সেগুলো মূলত অন্যান্য নদীর ও সামুদ্রিক ইলিশ মাছ।

নোটিশে বলা হয়, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় এই যে, দেশের মানুষের চাহিদার কথা চিন্তা না করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে। যার কারণে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারগুলোতে ইলিশের দাম আরও বেড়েছে। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশের বাজার দরের চেয়ে কম মূল্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে।

ভারতে যে ইলিশ রপ্তানি করা হচ্ছে সেগুলো মূলত পদ্মার ইলিশ। এমনিতেই পদ্মা নদী থেকে সীমিত পরিমাণ ইলিশ পাওয়া যায়। এই পদ্মার ইলিশ ভারতে রপ্তানির ফলে বাংলাদেশের বাজারগুলোতে পদ্মার ইলিশ যথেষ্ট পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলাদেশের রপ্তানিনীতি ২০২১-২৪ অনুযায়ী ইলিশ মুক্তভাবে রপ্তানি যোগ্য পণ্য নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পূর্ণ অনায্যভাবে, জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে ভারতে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়েছে।

সরকার যদি বিদেশিদের ইলিশের স্বাদ উপভোগ করাতে চায়, সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন ‘ইলিশ উৎসব’ আয়োজন করতে পারে। যেখানে বিদেশীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। এমনকি আসন্ন দুর্গা পূজায় ভারতীয়দের আমন্ত্রণ জানানো যেতে পারে বাংলাদেশে ভ্রমণ করে ইলিশের স্বাদ উপভোগ করার।

এখানে উল্লেখ্য যে, পর্যটন কর্পোরেশন আইন (বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন অর্ডার) এর ধারা ৫ অনুযায়ী, পর্যটনের উন্নয়ন, বিকাশ, বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করাসহ পর্যটনের সব উৎকর্ষ সাধনের দায়িত্ব পর্যটন কর্পোরেশনের।

লিগ্যাল নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে ভারতে ইলিশ রপ্তানি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে অনুরোধ করা হয়েছে। অন্যথায় উক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে হাইকোর্টে রিট করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।