জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 6

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেখন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। পাশাপাশি সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের প্রথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।

১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

‘আমার তো একটাই ছেলে, ওকে ছাড়া জীবন পার করব কীভাবে’

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান

Update Time : ১১:৩৪:১২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথমবারের মতো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন।

তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন। ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবরে তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রথমবার সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেন।

তারেক রহমানের আগামী বৃহস্পতিবারের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে জিয়া পরিবারের চার দশকেরও বেশি সময়ের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচিত হবে।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ধনী ও দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য, দারিদ্র্য ও ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উন্নয়নে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কেন অব্যাহত রয়েছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শান্তি, মানবিক মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং দেশগুলোর পারস্পরিক দায়িত্ববোধের ভিত্তিতে বিশ্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

এই ভাষণের ঠিক ১৩ বছর পর ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

পরবর্তীতে আরও কয়েকবার তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন কার্যক্রমে বক্তব্য দেখন। এর মধ্যে রয়েছে, ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মারক সভা এবং ২০০২ সালে শিশুবিষয়ক ২৭তম বিশেষ অধিবেশন। ২০০৫ সালে ৬০তম অধিবেশনের দুটি পৃথক সভাতেও বেগম খালেদা জিয়া বক্তব্য দেন।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মোট পাঁচবার সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে বক্তব্য দেন বেগম খালেদা জিয়া।

এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো একই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বক্তব্য দিতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবেন। ২৪ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যুটি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে তার অবস্থান ও অগ্রাধিকার তুলে ধরবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিশ্বনেতাদের সামনে বাংলাদেশের নতুন দৃষ্টিভঙ্গি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। এতে দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, ভবিষ্যৎ উন্নয়ন অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক শান্তি এবং আন্তর্জাতিক সংকটের টেকসই সমাধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

তিনি বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা, জলবায়ু মোকাবিলা ও জলবায়ু অর্থায়নের বিষয়গুলোও প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে স্থান পাবে। পাশাপাশি সফরে রোহিঙ্গা সংকটকে প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

এ ছাড়াও বাংলাদেশের জন্য এবারের ৮১তম অধিবেশনটি বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের প্রথমিক সূচি অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ সেপ্টেম্বর চলবে।

১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে যে অধ্যায়ের সূচনা হয়েছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বেগম খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে যার ধারাবাহিকতা বজায় ছিল, ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই অধ্যায়ে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।