নজিরবিহীন পরিস্থিতি, একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসন হবে পশ্চিমবঙ্গে?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:২৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬
  • 46

সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও একে ‘পরাজয়’ বলে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণে তিনি লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ। তারপর কী হবে— তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠছে জনমনে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন।

শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকলে আগামীকাল ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার শপথ গ্রহণের আগের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমী ভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে— এমনটাই মত দিয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞরা। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর আগে ভারতের কোথাও এমন কোনো ঘটনার নজির নেই।

ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময়ে শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করে আসেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটা একটা সাংবিধানিক সৌজন্যর প্রকাশ। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে তিনিই কাজ চালান। কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে বুধবারই। সেখানেও নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি। তবে বাংলার সঙ্গে তামিলনাড়ুর ফারাক আছে। কারণ, পরাজয়ের পরে স্ট্যালিন এবং তাঁর সরকার পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যপাল স্ট্যালিনকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। বাংলায় সেটা হলো না।

সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালের ‘সদিচ্ছায়’ একটা রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী আজ ৭ মে বৃহস্পতিবার ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়র পর আর এক মুহূর্তও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে, মমতা পদত্যাগ না করলে আজ বৃহস্পতিবার ১২টা ১ মিনিট থেকেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারি ভাবে কবে শপথ নিতে চান তারা, তাও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ নেবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং ভারতের বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে। ওই দিন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশ মতো তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার সিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে।”

সূত্র : এই সময়

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

নজিরবিহীন পরিস্থিতি, একদিনের রাষ্ট্রপতি শাসন হবে পশ্চিমবঙ্গে?

Update Time : ০২:২৬:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পরেও একে ‘পরাজয়’ বলে মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে কারণে তিনি লোকভবনে গিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে পদত্যাগ করবেন না বলে ঘোষণা করেছেন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার রাত ১২টায় সাংবিধানিকভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে তার সরকারের মেয়াদ। তারপর কী হবে— তা নিয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন উঠছে জনমনে। কারণ, বিজেপি নেতৃত্ব ঠিক করেছেন, আগামী ৯ মে, শনিবার রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন তাদের মন্ত্রীরা শপথ নেবেন।

শেষ পর্যন্ত তৃণমূলনেত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকলে আগামীকাল ৮ মে শুক্রবার, অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্য সরকার শপথ গ্রহণের আগের ২৪ ঘণ্টা ব্যতিক্রমী ভাবে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে— এমনটাই মত দিয়েছেন প্রবীণ আইনজ্ঞরা। প্রবীণ রাজনীতিক থেকে শুরু করে আইন বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, এর আগে ভারতের কোথাও এমন কোনো ঘটনার নজির নেই।

ভারতের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, ভোটের ফলাফল ঘোষণার সময়ে শাসকদল তাদের পরাজয় নিশ্চিত জানতে পারার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে পদত্যাগ করে আসেন। সংসদীয় রাজনীতিতে এটা একটা সাংবিধানিক সৌজন্যর প্রকাশ। রাজ্যপাল তখন নতুন সরকার দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীকে কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব পালন করার অনুরোধ জানান। নতুন মুখ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা শপথ নেওয়ার আগে তিনিই কাজ চালান। কিন্তু কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রেও একই রীতি প্রচলিত। তামিলনাড়ুতে ডিএমকে সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে বুধবারই। সেখানেও নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি। তবে বাংলার সঙ্গে তামিলনাড়ুর ফারাক আছে। কারণ, পরাজয়ের পরে স্ট্যালিন এবং তাঁর সরকার পদত্যাগ করেছেন। রাজ্যপাল স্ট্যালিনকেই কেয়ারটেকার সরকারের দায়িত্ব দিয়েছেন। বাংলায় সেটা হলো না।

সংবিধান অনুযায়ী, রাজ্যপালের ‘সদিচ্ছায়’ একটা রাজ্য সরকার গঠিত হয়। আইন অনুযায়ী আজ ৭ মে বৃহস্পতিবার ১২টা ১ মিনিটে বর্তমান সরকারে মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়র পর আর এক মুহূর্তও বিদায়ী সরকার থাকতে পারে না। ফলে, মমতা পদত্যাগ না করলে আজ বৃহস্পতিবার ১২টা ১ মিনিট থেকেই রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল বুধবারই ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচিত বিধায়কদের গেজেট নোটিফিকেশন রাজ্যপালের হাতে তুলে দিয়েছেন। এই তালিকার ভিত্তিতে রাজ্যপাল সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দলকে সরকার গড়ার জন্য ডেকে তাদের নেতা বা মুখ্যমন্ত্রীর নাম জানতে চাইবেন। সরকারি ভাবে কবে শপথ নিতে চান তারা, তাও জানবেন। এক্ষেত্রে অবশ্য ৯ মে শপথ নেবে বলে ঘোষণা করেছে বিজেপি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ এবং ভারতের বর্ষীয়ান আইনজীবী হরিশ সালভে সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল নিজে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইস্তফা দাবি করতে পারেন ৭ মে। ওই দিন বিধানসভার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর মুখ্যমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। রাজ্যপালের নির্দেশ মতো তিনি পদত্যাগ করলে পরবর্তী সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার সিএম হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা বলতে পারেন রাজ্যপাল। যদি তিনি পদত্যাগ না করেন, তাহলে সামান্য সময়ের জন্য হলেও পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করা হতে পারে।”

সূত্র : এই সময়