নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ শত শত

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
  • 34

চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে ভোতেকোশি নদী দিয়ে হঠাৎ পানির ঢল নেমে এসে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পানি ও কাদায় বহু মানুষ ও স্থাপনা তলিয়ে যায়। বার্তা সংস্থা এপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস-মানস সরোবরে যাওয়ার পথে অন্তত ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার ও কয়েকশ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলা ও পার্শ্ববর্তী সায়াফুরবেশি এলাকা থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার পানিতে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভেসে গেছে।

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্তের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জমে ছিল। পরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে সেই পানি নেমে আসে। একই সময়ে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের কারণে বরফের স্তর নড়ে গিয়ে জমে থাকা পানি একসঙ্গে ভোতেকোশি নদী দিয়ে নেপালে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কান্তিপুর টিভিকে রিজান ভক্ত বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে বরফধসের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বরফধস নেপাল প্রান্তে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল। একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পও হয়।

তবে আকস্মিক বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র: এপি, পিটিআই, কাঠমান্ডু পোস্ট ও এএফপি

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ শত শত

Update Time : ১২:২৩:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী নেপালের রাসুয়া জেলায় ভূমিকম্পের পর তুষারধস ও আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল তিব্বত থেকে ভোতেকোশি নদী দিয়ে হঠাৎ পানির ঢল নেমে এসে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আছড়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পানি ও কাদায় বহু মানুষ ও স্থাপনা তলিয়ে যায়। বার্তা সংস্থা এপি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস-মানস সরোবরে যাওয়ার পথে অন্তত ৪০০ পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় ১৪টি হেলিকপ্টার ও কয়েকশ উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত রাসুয়া জেলা ও পার্শ্ববর্তী সায়াফুরবেশি এলাকা থেকে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। বন্যার পানিতে অসংখ্য ঘরবাড়ি ও যানবাহন ভেসে গেছে।

নেপালের কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও জলবায়ু গবেষক রিজান ভক্তের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, লেন্দে নদীতে বরফধসের কারণে নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে জমে ছিল। পরে বুধবার সকাল ৯টার দিকে আকস্মিকভাবে সেই পানি নেমে আসে। একই সময়ে তিব্বতে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পের কারণে বরফের স্তর নড়ে গিয়ে জমে থাকা পানি একসঙ্গে ভোতেকোশি নদী দিয়ে নেপালে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কান্তিপুর টিভিকে রিজান ভক্ত বলেন, চীনা বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে বরফধসের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই বরফধস নেপাল প্রান্তে লেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে দিয়েছিল। একই সময়ে তিব্বতে ভূমিকম্পও হয়।

তবে আকস্মিক বন্যার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সূত্র: এপি, পিটিআই, কাঠমান্ডু পোস্ট ও এএফপি