নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৪৩, নিখোঁজ ৫ হাজার

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 24

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপাল ও ভারত থেকে ১ হাজার ১২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চীনের তিব্বত অংশ থেকে। এখন পর্যন্ত দু দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে নেপালে ৪ হাজার ৮৫৮ জন ও চীনে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আজ বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুওয়াকোটে ১৫৫, ধাদিংয়ে ৫৯, চিতওয়ানে ৩৪৮, গোরখায় ৬৬, তানাহুনে ৩৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৯০ এবং ভারতে ৯টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আইনগতভাবে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্তে সহায়তার জন্য ৯১১টি অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং উদ্ধার করা মরদেহ ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা সড়কগুলো পরিষ্কার করা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট এ বন্যায় ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। কয়েকটি জেলার জনবসতি, সড়ক, সীমান্ত বাণিজ্য অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত কয়েকটি বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৬৩৯ জন আটকে আছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফলে উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এসব প্রকল্প।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে নেপাল, ভারত ও চীনের দলগুলো।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা টানেলের প্রবেশমুখ থেকে পানি সরাচ্ছেন এবং রক ব্রেকার ব্যবহার করে ভেতরে ঢোকার পথ তৈরি করছেন। তবে কিছু টানেলে এখনো সরাসরি প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না।

রাসুওয়া জেলার হাকু গ্রাম থেকে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী পর্বত গাইড আশিষ গুরুং বলেন, ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি টানেলে মানুষের পক্ষে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। সেখানে বুলডোজার ও খননযন্ত্রের মতো ভারী যন্ত্রপাতি দরকার। সেখানে থাকা দুটি যন্ত্রের একটি অচল, অন্যটি মেরামত করা হচ্ছে। ওই টানেলে প্রায় ৫০০ মানুষ আটকে থাকতে পারে।

উদ্ধার অভিযানে ৯ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আহতদের উদ্ধার, নিখোঁজদের অনুসন্ধান, মরদেহ ব্যবস্থাপনা, বন্ধ সড়ক খুলে দেয়া ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুওয়াকোটে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছা সহজ হচ্ছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নেপাল-তিব্বতে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১৪৩, নিখোঁজ ৫ হাজার

Update Time : ০১:৩৬:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ১৪৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে শুধু নেপাল ও ভারত থেকে ১ হাজার ১২৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে চীনের তিব্বত অংশ থেকে। এখন পর্যন্ত দু দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৫ হাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে, যার মধ্যে নেপালে ৪ হাজার ৮৫৮ জন ও চীনে ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পুলিশের বরাত দিয়ে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আজ বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত বন্যার উৎপত্তিস্থল রাসুয়া জেলা থেকে ৪৫টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া নুওয়াকোটে ১৫৫, ধাদিংয়ে ৫৯, চিতওয়ানে ৩৪৮, গোরখায় ৬৬, তানাহুনে ৩৮, নওয়ালপরাসি ইস্টে ২১৭, নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে ১৯০ এবং ভারতে ৯টি মরদেহ পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ১ হাজার ১১৩টি মরদেহের ময়নাতদন্ত ও আইনগতভাবে পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৯৫টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিখোঁজ স্বজনদের শনাক্তে সহায়তার জন্য ৯১১টি অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

এদিকে বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং উদ্ধার করা মরদেহ ব্যবস্থাপনায় ৭ হাজার ৯১২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্গত এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ৬ হাজার ৫৪১ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে পুলিশ। পাশাপাশি ধ্বংসাবশেষে আটকে থাকা সড়কগুলো পরিষ্কার করা এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার, তল্লাশি ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট এ বন্যায় ভোতেকোশি নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। কয়েকটি জেলার জনবসতি, সড়ক, সীমান্ত বাণিজ্য অবকাঠামো ও জলবিদ্যুৎ স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত কয়েকটি বিধ্বস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৬৩৯ জন আটকে আছেন বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ফলে উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এসব প্রকল্প।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ২৭৯ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে নেপাল, ভারত ও চীনের দলগুলো।

সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা টানেলের প্রবেশমুখ থেকে পানি সরাচ্ছেন এবং রক ব্রেকার ব্যবহার করে ভেতরে ঢোকার পথ তৈরি করছেন। তবে কিছু টানেলে এখনো সরাসরি প্রবেশ সম্ভব হচ্ছে না।

রাসুওয়া জেলার হাকু গ্রাম থেকে উদ্ধারকাজে সহায়তাকারী পর্বত গাইড আশিষ গুরুং বলেন, ত্রিশূলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি টানেলে মানুষের পক্ষে প্রবেশ করা সম্ভব নয়। সেখানে বুলডোজার ও খননযন্ত্রের মতো ভারী যন্ত্রপাতি দরকার। সেখানে থাকা দুটি যন্ত্রের একটি অচল, অন্যটি মেরামত করা হচ্ছে। ওই টানেলে প্রায় ৫০০ মানুষ আটকে থাকতে পারে।

উদ্ধার অভিযানে ৯ হাজার ২০০-এর বেশি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা আহতদের উদ্ধার, নিখোঁজদের অনুসন্ধান, মরদেহ ব্যবস্থাপনা, বন্ধ সড়ক খুলে দেয়া ও জরুরি চিকিৎসাসেবা দেয়ার কাজে যুক্ত রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুওয়াকোটে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। এতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা ও ত্রাণসামগ্রী পৌঁছা সহজ হচ্ছে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুনঃস্থাপন করা হয়েছে।