আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 32

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজছাত্র দীপ্ত চৌধুরীর (২৩) মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাত তিনটার দিকে শহরের ছোটবাজার এলাকায় শহীদ মিনারের সামনের এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া দীপ্ত চৌধুরী শহরের মালিনী রোড এলাকায় বাদল চৌধুরী ও শিউলী রায় দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া খেলা দেখতে দীপ্ত চৌধুরী বাসার থেকে বের হন। পরে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন। রাত তিনটার দিকে শহরে আনন্দ মিছিল বের হলে দীপ্ত চৌধুরী ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শহীদ মিনার মোড় এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে ওঠেন। এসময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দীপ্ত চৌধুরীর মামা সংস্কৃতি কর্মী পল্লব চক্রবর্তী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বিজয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। মিছিলের ছবি, ভিডিও ধারণের জন্য শহীদ মিনার মোড়ে অবস্থিত একটি শো-রুমের দ্বিতীয় তলায় উঠে। এ সময় পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় সে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ বলেন, রাত প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন যুবক অজ্ঞাত অবস্থায় একটি রোগী নিয়ে আসে। এই সময় রোগীর নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝড়ছিলো। পরে আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রোগীকে মৃত অবস্থায় পাই। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তার পরিচয় শনাক্ত করে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মারা যাওয়া কলেজ ছাত্রের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনার জয়ে উল্লাস করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে কলেজছাত্রের মৃত্যু

Update Time : ০১:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা জয়ে আনন্দ মিছিলের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নেত্রকোনায় একটি ভবনের ছাদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজছাত্র দীপ্ত চৌধুরীর (২৩) মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাত তিনটার দিকে শহরের ছোটবাজার এলাকায় শহীদ মিনারের সামনের এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মারা যাওয়া দীপ্ত চৌধুরী শহরের মালিনী রোড এলাকায় বাদল চৌধুরী ও শিউলী রায় দম্পতির একমাত্র ছেলে। তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সম্মান তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী, পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে পরাজিত করে আর্জেন্টিনা। রাত ১টার দিকে শুরু হওয়া খেলা দেখতে দীপ্ত চৌধুরী বাসার থেকে বের হন। পরে তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন। রাত তিনটার দিকে শহরে আনন্দ মিছিল বের হলে দীপ্ত চৌধুরী ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শহীদ মিনার মোড় এলাকায় একটি ভবনের দ্বিতীয় তলার ছাদে ওঠেন। এসময় অসাবধানতাবশত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি নিচে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

দীপ্ত চৌধুরীর মামা সংস্কৃতি কর্মী পল্লব চক্রবর্তী বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা শেষে আর্জেন্টিনার বিজয়ে তাৎক্ষণিকভাবে এলাকাবাসী মিছিলের প্রস্তুতি নেয়। মিছিলের ছবি, ভিডিও ধারণের জন্য শহীদ মিনার মোড়ে অবস্থিত একটি শো-রুমের দ্বিতীয় তলায় উঠে। এ সময় পাশেই থাকা বৈদ্যুতিক তারের সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নিচে পড়ে যায় সে। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শ্রদ্ধানন্দ নাথ বলেন, রাত প্রায় সাড়ে তিনটার দিকে কয়েকজন যুবক অজ্ঞাত অবস্থায় একটি রোগী নিয়ে আসে। এই সময় রোগীর নাক ও কান দিয়ে রক্ত ঝড়ছিলো। পরে আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে রোগীকে মৃত অবস্থায় পাই। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পারি বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে পুলিশ এসে তার পরিচয় শনাক্ত করে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, মৃত্যু নিয়ে অভিযোগ না থাকায় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মারা যাওয়া কলেজ ছাত্রের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।