ঘরের মাঠে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে প্রস্তুত ভারত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩
  • 381

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারত ক্রিকেট পাগল এক জাতি। ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপি পরিচিতি করতে তারা প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। সেই ভারত এবারের বিশ্বকাপের একক আয়োজক।
দশ দেশ নিয়ে আয়োজিত বিশ্বকাপে দেশটি অন্যতম ফেবারিটও বটে। ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই তারা দাপটের সঙ্গে অংশ নিয়েছে। তবে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে দু’বার। অর্থাৎ ১২ বার অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছে দুইবার। ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের হাত ধরে প্রথম এবং দ্বিতীয়বার ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত ধরে।
দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পর এক যুগ পার হতে চলেছে। তবে গত দুই আসরে অনেকটা কাছে পৌঁছেও তারা শিরোপার দেখা পায়নি। দুইবারই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ২০১৫ সালের সেমিফাইনালটা যাই হোক না কেন ২০১৯ সালের সেমিফাইনাল ম্যাচ তাদের এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডকে ২৩৯ রানে আটকে দিয়ে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। তবে নিজেদের ইনিংসের শুরুতেই সেই স্বপ্ন গুড়িয়ে যায় ভারতের। মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল তারা।
ম্যাট হেনরি একাই নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এমন বিপর্যয় সত্ত্বেও মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবিন্দ্র জাদেজা আশা দেখিয়েছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত শত কোটি ভারতীয়র আশা পূরণ করতে পারেননি। ১৮ রান দূরে রাখতে তাদের লড়াই শেষ হয়ে যায়।
ফলাফল জানাচ্ছে, গত দুই আসার ভারতের জন্য কিছুটা হতাশার। আবার ভিন্নভাবে চিন্তা করলে এবার ভারত আশাবাদী হতেই পারে। কেননা আয়োজক তারা। গত দুই আসরেই যে আয়োজকরা শিরোপা জয় করেছে। একবার ইংল্যান্ড, অন্যবার অস্ট্রেলিয়া। শুধু তাই নয়, ভারত দ্বিতীয়বার যখন বিশ্বকাপ জয় করে তখনো তারা আয়োজক ছিল।
আয়োজক হিসেবে ভারত যেমন আশাবাদী হতে পারে, তেমনি বর্তমান পারফরম্যান্সও তাদের পক্ষে কথা বলছে। আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রোহিত শর্মার দল বর্তমানে দারুণ সময় পার করছে। সর্বশেষ দশ ওয়ানডে সিরিজে তাদের সাফল্যের পতাকা পতপত করে উড়ছে।
সর্বশেষ দশ সিরিজের সাতটিতেই তারা সাফল্যের হাসি হেসেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। দেশের বাইরে আবার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে।
এ সময়ে মাত্র দুটো সিরিজ ভারতের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল। যার একটিতে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। বর্তমান সাকিব আল হাসানের দলের কাছে বাংলাদেশে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-২ ব্যবধানে হেরেছিল। অন্য যে সিরিজটি তাদের জন্য হতাশার ছিল সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। এ সিরিজের তারা যে নিজেদের মাটিতে হেরেছিল।
এবারের বিশ্বকাপ সব দলেরই জন্য সমান। কঠিন বা সহজ গ্রুপ বলে কোনো কথা নেই। কেননা অংশ নেওয়া দশ দল নিয়ে একটা মাত্র গ্রুপ। সেখানে সব দলকেই ৯টি করে ম্যাচ খেলতে হবে। সোজা কথায় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলই সব দলের প্রতিপক্ষ। প্রত্যেক দলকে একে অপরকে একবার করে মুখোমুখি হতে হবে। ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বকাপ মূল বাশি বাজলেও ভারতের অভিযান শুরু হচ্ছে তিনদিন পর, অর্থাৎ ৮ অক্টোবর। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।
ভারত এরপর একে একে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিফা ও নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বে ভারত তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে ১২ নভেম্বর।
বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ভারত। দলটিতে রয়েছে দারুণ ভারসাম্য। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের শায়েস্তা করতে সদা প্রস্তুত রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, শুভমান গিলের মতো ব্যাটাররা। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের দুঃশ্চিন্তা বাড়াতে আছেন জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, কুলদিপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, শার্দুল ঠাকুরের মতো বোলাররা। অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া এবং রবিন্দ্র জাদেজাদের যে কেউ একজনই তো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

ঘরের মাঠে তৃতীয় বিশ্বকাপ জয়ে প্রস্তুত ভারত

Update Time : ০২:০৮:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৩

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারত ক্রিকেট পাগল এক জাতি। ক্রিকেটকে বিশ্বব্যাপি পরিচিতি করতে তারা প্রতিনিয়ত অবদান রেখে চলেছে। সেই ভারত এবারের বিশ্বকাপের একক আয়োজক।
দশ দেশ নিয়ে আয়োজিত বিশ্বকাপে দেশটি অন্যতম ফেবারিটও বটে। ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপের প্রতিটি আসরেই তারা দাপটের সঙ্গে অংশ নিয়েছে। তবে সাফল্যের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে দু’বার। অর্থাৎ ১২ বার অংশ নিয়ে বিশ্বকাপ জয় করেছে দুইবার। ১৯৮৩ সালে কপিল দেবের হাত ধরে প্রথম এবং দ্বিতীয়বার ২০১১ সালে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাত ধরে।
দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পর এক যুগ পার হতে চলেছে। তবে গত দুই আসরে অনেকটা কাছে পৌঁছেও তারা শিরোপার দেখা পায়নি। দুইবারই সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। ২০১৫ সালের সেমিফাইনালটা যাই হোক না কেন ২০১৯ সালের সেমিফাইনাল ম্যাচ তাদের এখনো তাড়িয়ে বেড়ায়।
২০১৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিল। কিন্তু ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডকে ২৩৯ রানে আটকে দিয়ে ফাইনালে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। তবে নিজেদের ইনিংসের শুরুতেই সেই স্বপ্ন গুড়িয়ে যায় ভারতের। মাত্র ২৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়েছিল তারা।
ম্যাট হেনরি একাই নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। এমন বিপর্যয় সত্ত্বেও মহেন্দ্র সিং ধোনি ও রবিন্দ্র জাদেজা আশা দেখিয়েছিলেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত শত কোটি ভারতীয়র আশা পূরণ করতে পারেননি। ১৮ রান দূরে রাখতে তাদের লড়াই শেষ হয়ে যায়।
ফলাফল জানাচ্ছে, গত দুই আসার ভারতের জন্য কিছুটা হতাশার। আবার ভিন্নভাবে চিন্তা করলে এবার ভারত আশাবাদী হতেই পারে। কেননা আয়োজক তারা। গত দুই আসরেই যে আয়োজকরা শিরোপা জয় করেছে। একবার ইংল্যান্ড, অন্যবার অস্ট্রেলিয়া। শুধু তাই নয়, ভারত দ্বিতীয়বার যখন বিশ্বকাপ জয় করে তখনো তারা আয়োজক ছিল।
আয়োজক হিসেবে ভারত যেমন আশাবাদী হতে পারে, তেমনি বর্তমান পারফরম্যান্সও তাদের পক্ষে কথা বলছে। আশাহত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রোহিত শর্মার দল বর্তমানে দারুণ সময় পার করছে। সর্বশেষ দশ ওয়ানডে সিরিজে তাদের সাফল্যের পতাকা পতপত করে উড়ছে।
সর্বশেষ দশ সিরিজের সাতটিতেই তারা সাফল্যের হাসি হেসেছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে। দেশের বাইরে আবার নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে।
এ সময়ে মাত্র দুটো সিরিজ ভারতের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়েছিল। যার একটিতে তাদের প্রতিপক্ষ ছিল বাংলাদেশ। বর্তমান সাকিব আল হাসানের দলের কাছে বাংলাদেশে তিন ম্যাচের সিরিজ ১-২ ব্যবধানে হেরেছিল। অন্য যে সিরিজটি তাদের জন্য হতাশার ছিল সেখানে প্রতিপক্ষ ছিল অস্ট্রেলিয়া। এ সিরিজের তারা যে নিজেদের মাটিতে হেরেছিল।
এবারের বিশ্বকাপ সব দলেরই জন্য সমান। কঠিন বা সহজ গ্রুপ বলে কোনো কথা নেই। কেননা অংশ নেওয়া দশ দল নিয়ে একটা মাত্র গ্রুপ। সেখানে সব দলকেই ৯টি করে ম্যাচ খেলতে হবে। সোজা কথায় বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া সব দলই সব দলের প্রতিপক্ষ। প্রত্যেক দলকে একে অপরকে একবার করে মুখোমুখি হতে হবে। ৫ অক্টোবর থেকে বিশ্বকাপ মূল বাশি বাজলেও ভারতের অভিযান শুরু হচ্ছে তিনদিন পর, অর্থাৎ ৮ অক্টোবর। প্রথম ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া।
ভারত এরপর একে একে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিফা ও নেদারল্যান্ডসের মুখোমুখি হবে। গ্রুপ পর্বে ভারত তাদের শেষ ম্যাচ খেলবে ১২ নভেম্বর।
বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ে শীর্ষে উঠে গেছে ভারত। দলটিতে রয়েছে দারুণ ভারসাম্য। ব্যাট হাতে প্রতিপক্ষ বোলারদের শায়েস্তা করতে সদা প্রস্তুত রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, শুভমান গিলের মতো ব্যাটাররা। অন্যদিকে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের দুঃশ্চিন্তা বাড়াতে আছেন জসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, কুলদিপ যাদব, মোহাম্মদ সিরাজ, শার্দুল ঠাকুরের মতো বোলাররা। অলরাউন্ডার হার্দিক পান্ডিয়া এবং রবিন্দ্র জাদেজাদের যে কেউ একজনই তো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।