টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ নারী দল। নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে টাইগ্রেসরা।

বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সাফের শ্বাসরুদ্ধকর সেমিতে প্রথমে লিড আদায় করে নেপাল। তবে বিরতির আগমুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ে হিমালয় কন্যাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সাগরিকা।

রেফারির কিক অফের পর থেকেই সংঘবদ্ধ আক্রমণে বাংলাদেশকে চেপে ধরে নেপালের মেয়েরা। গত দুই আসরের ফাইনালে হারের শোধ নিতেই মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। ফলও পেয়ে যান ২২তম মিনিটে। দীপা শাহীর কর্নার কিক থেকে আসা বিপজ্জনক বল হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তার। কিন্তু সেই পাঞ্চের পর বলটি ডি-বক্সের ভেতরেই ফাঁকায় থাকা গীতা রানার সামনে পড়ে। সুযোগ সন্ধানী রানা চিপ করে বল জালে জড়ান। সাফে ছয়বারের দেখায় বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি নেপালের দশম গোল।

পিছিয়ে পড়ার পরের মিনিটেই ভালো একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কর্নার থেকে ঋতুপর্ণার চমৎকার শটে সুযোগ তৈরি হলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। উল্টো ৩৫তম মিনিটে দূরপাল্লার একটি শট থেকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন মিলি। ডি-বক্সের খানিক দূর থেকে আসা বুলেট গতির শটটি লাফিয়ে উঠে মিলি হাত দিয়ে টিপ করেন এবং বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

বারবার আক্রমণের মুখে পড়েও আশাহত হয়নি বাংলাদেশ। বরং প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিজেদের চেনা ধার ফিরিয়ে আনে দলটি। যার ফল মেলে ৪৫তম মিনিটে। ঋতুপর্ণা চাকমার সরাসরি কর্নার থেকে নেয়া এক অবিশ্বাস্য ‘অলিম্পিক গোলে’ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ১-১ ব্যবধানের স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

গত বছর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে ঋতুপর্ণার বাঁ পায়ের জোড়া গোলেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপেও চীনের বিপক্ষে তার বাঁ পায়ে অবিশ্বাস্য এক শট দেখা গেছে। অথচ গোয়া সাফে হ্যাটট্রিক মিশনের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে কিছুটা চেনা ছন্দের বাইরে ছিলেন এই উইঙ্গার। তবে সব সংশয় ঝেড়ে আজ আবারো নিজের চেনা রূপেই ফেরেন ঋতু।

৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে সাগরিকা সেই সুযোগ মিস করেন। নেপাল অধিনায়ক গোলকিপার সুব্বা লাফিয়ে উঠে ঘুষি মেরে সাগরিকার শটটি ফিরিয়ে দেন।

তবে পূর্ণাঙ্গ সময় শেষে যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস থেকে নেপালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সাগরিকা। নিজে শট নেয়ার সুযোগ থাকলেও বল ক্রস করেন সামসুন্নাহার জুনিয়র। এই জয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ

Update Time : ১১:৪৭:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠল বাংলাদেশ নারী দল। নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে টাইগ্রেসরা।

বুধবার (৩ জুন) ভারতের গোয়ার মারগাঁওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া সাফের শ্বাসরুদ্ধকর সেমিতে প্রথমে লিড আদায় করে নেপাল। তবে বিরতির আগমুহূর্তে ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। আর দ্বিতীয়ার্ধে যোগ করা সময়ে হিমালয় কন্যাদের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সাগরিকা।

রেফারির কিক অফের পর থেকেই সংঘবদ্ধ আক্রমণে বাংলাদেশকে চেপে ধরে নেপালের মেয়েরা। গত দুই আসরের ফাইনালে হারের শোধ নিতেই মরিয়া হয়ে ওঠেন তারা। ফলও পেয়ে যান ২২তম মিনিটে। দীপা শাহীর কর্নার কিক থেকে আসা বিপজ্জনক বল হাত দিয়ে পাঞ্চ করে বিপদমুক্ত করতে চেয়েছিলেন বাংলাদেশ গোলকিপার মিলি আক্তার। কিন্তু সেই পাঞ্চের পর বলটি ডি-বক্সের ভেতরেই ফাঁকায় থাকা গীতা রানার সামনে পড়ে। সুযোগ সন্ধানী রানা চিপ করে বল জালে জড়ান। সাফে ছয়বারের দেখায় বাংলাদেশের বিপক্ষে এটি নেপালের দশম গোল।

পিছিয়ে পড়ার পরের মিনিটেই ভালো একটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। কর্নার থেকে ঋতুপর্ণার চমৎকার শটে সুযোগ তৈরি হলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। উল্টো ৩৫তম মিনিটে দূরপাল্লার একটি শট থেকে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন মিলি। ডি-বক্সের খানিক দূর থেকে আসা বুলেট গতির শটটি লাফিয়ে উঠে মিলি হাত দিয়ে টিপ করেন এবং বলটি ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে।

বারবার আক্রমণের মুখে পড়েও আশাহত হয়নি বাংলাদেশ। বরং প্রথমার্ধের শেষ দিকে নিজেদের চেনা ধার ফিরিয়ে আনে দলটি। যার ফল মেলে ৪৫তম মিনিটে। ঋতুপর্ণা চাকমার সরাসরি কর্নার থেকে নেয়া এক অবিশ্বাস্য ‘অলিম্পিক গোলে’ সমতায় ফেরে বাংলাদেশ। ১-১ ব্যবধানের স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল।

গত বছর এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে স্বাগতিক মিয়ানমারের বিপক্ষে ঋতুপর্ণার বাঁ পায়ের জোড়া গোলেই ইতিহাস গড়েছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান কাপেও চীনের বিপক্ষে তার বাঁ পায়ে অবিশ্বাস্য এক শট দেখা গেছে। অথচ গোয়া সাফে হ্যাটট্রিক মিশনের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে কিছুটা চেনা ছন্দের বাইরে ছিলেন এই উইঙ্গার। তবে সব সংশয় ঝেড়ে আজ আবারো নিজের চেনা রূপেই ফেরেন ঋতু।

৭৮তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। তবে সাগরিকা সেই সুযোগ মিস করেন। নেপাল অধিনায়ক গোলকিপার সুব্বা লাফিয়ে উঠে ঘুষি মেরে সাগরিকার শটটি ফিরিয়ে দেন।

তবে পূর্ণাঙ্গ সময় শেষে যোগ করা দ্বিতীয় মিনিটে শামসুন্নাহার জুনিয়রের ক্রস থেকে নেপালের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেন সাগরিকা। নিজে শট নেয়ার সুযোগ থাকলেও বল ক্রস করেন সামসুন্নাহার জুনিয়র। এই জয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনাল খেলবে বাংলাদেশ।