বিদেশি গণমাধ্যম বন্ধে ইসরায়েলে নতুন আইন, টার্গেট আল জাজিরা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪
  • 204


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধে একটি আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। এই আইনের মাধ্যমে দেশটিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার ‘সাময়িকভাবে’ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পেয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।
জানা গেছে, সোমবার (১ এপ্রিল) পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে ৭০-১০ ভোটে আইনটি পাস হয়। এর ফলে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের কন্টেন্টে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি যেকোনো চ্যানেল বন্ধের এখতিয়ারও পাবে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে সরকার যেকোনো বিদেশি গণমাধ্যমের সম্প্রচার ৪৫ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারবে।
এই আইন অনুমোদনের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আল জাজিরাকে ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ও চ্যানেলটির সম্প্রচার দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‌ইসরায়েল থেকে আল জাজিরা তাদের সম্প্রচার আর চালাতে পারবে না। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটির আঞ্চলিক কার্যালয় বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে, ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনিতেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প কয়েকজন সাংবাদিক যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করছেন। এসব গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আল জাজিরার প্রতিনিধিরা অন্যতম।
ইসরায়েলে সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে আল জাজিরা একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আল জাজিরার কর্মী ও এর কার্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করবে তারা।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করার আগে গাজা উপত্যকায় কাজ করতেন প্রায় ১ হাজার সাংবাদিক। সংঘাত শুরু হওয়ার পর তাদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সিপিজে বলেছে, গাজায় সাংবাদিকদের হত্যার সংখ্যা ইতিহাসে অভূতপূর্ব। ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের এমন হারে হত্যা করছে, যা আধুনিক ইতিহাসে আর কোথাও ঘটেনি।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমানের ত্রুটি তদন্তে চার সদস্যের কমিটি গঠন

বিদেশি গণমাধ্যম বন্ধে ইসরায়েলে নতুন আইন, টার্গেট আল জাজিরা

Update Time : ০৮:২৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ এপ্রিল ২০২৪


আন্তর্জাতিক ডেস্ক
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাসহ কয়েকটি বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধে একটি আইন পাস করেছে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট। এই আইনের মাধ্যমে দেশটিতে বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার ‘সাময়িকভাবে’ নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা পেয়েছে নেতানিয়াহু সরকার।
জানা গেছে, সোমবার (১ এপ্রিল) পার্লামেন্টে ভোটাভুটিতে ৭০-১০ ভোটে আইনটি পাস হয়। এর ফলে বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের কন্টেন্টে নিষেধাজ্ঞা, এমনকি যেকোনো চ্যানেল বন্ধের এখতিয়ারও পাবে দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আর জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে হলে সরকার যেকোনো বিদেশি গণমাধ্যমের সম্প্রচার ৪৫ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারবে।
এই আইন অনুমোদনের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আল জাজিরাকে ‘সন্ত্রাসী চ্যানেল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন ও চ্যানেলটির সম্প্রচার দ্রুত বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‌ইসরায়েল থেকে আল জাজিরা তাদের সম্প্রচার আর চালাতে পারবে না। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটির আঞ্চলিক কার্যালয় বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এদিকে, ইসরায়েলের এমন পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনিতেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশে ইসরায়েলের কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অল্প কয়েকজন সাংবাদিক যুদ্ধের খবর সংগ্রহ করছেন। এসব গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে আল জাজিরার প্রতিনিধিরা অন্যতম।
ইসরায়েলে সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে আল জাজিরা একটি বিবৃতি দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, আল জাজিরার কর্মী ও এর কার্যালয়ের নিরাপত্তার জন্য নেতানিয়াহুকে দায়ী করবে তারা।
গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল গাজায় হামলা শুরু করার আগে গাজা উপত্যকায় কাজ করতেন প্রায় ১ হাজার সাংবাদিক। সংঘাত শুরু হওয়ার পর তাদের মধ্যে ১০০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন।
সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষাবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন সিপিজে বলেছে, গাজায় সাংবাদিকদের হত্যার সংখ্যা ইতিহাসে অভূতপূর্ব। ইসরায়েলি বাহিনী গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে সাংবাদিকদের এমন হারে হত্যা করছে, যা আধুনিক ইতিহাসে আর কোথাও ঘটেনি।