বিমানের কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে আদালতের মামলার নির্দেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 26

পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আদালতে হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো: জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

নির্দেশ অনুযায়ী, শিমুর বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

আদেশে আদালত বলেন, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দাখিল করা হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত নিজেই তার বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নথিপত্র ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সিআর আমলি আদালত (কোতোয়ালী)-এ পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুই পক্ষের সম্পর্কের বিষয়েও তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, ওই অভিযোগের পরিণতি এড়াতেই শিমু পর্ণোগ্রাফি আইনে পাল্টা মামলা করেছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, শিমু সিআর-১৯০৪/২০২৫ (উত্তরা পশ্চিম) মামলার বেসরকারি একটি এয়ারলাইনসের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা মো: ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্ণোাগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২), ৮(৩), ৮(৪) ও ৮(৫) ধারায় অভিযোগ আনেন। পরে সেটি উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা নম্বর-১৪(১০)২৫ হিসেবে এফআইআর আকারে রুজু হয়।

মামলাটির তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিঙ্ক, ডিজিটাল আলামত, ফরেনসিক তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি প্রচার বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। বাসস

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

বিমানের কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে আদালতের মামলার নির্দেশ

Update Time : ১২:৪০:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের এবং আদালতে হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক মো: জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

নির্দেশ অনুযায়ী, শিমুর বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারা এবং দণ্ডবিধির ১৮১, ১৮২ ও ১৯৩ ধারায় কোতোয়ালী থানায় মামলা দায়ের করা হবে।

আদেশে আদালত বলেন, শিমু ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দাখিল করা হলফনামাও সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত নিজেই তার বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করার নির্দেশ দেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নথিপত্র ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের সিআর আমলি আদালত (কোতোয়ালী)-এ পাঠানো হয়েছে।

পুলিশের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দুই পক্ষের সম্পর্কের বিষয়েও তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, শিমু বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু এবং ওমর ফারুক একটি বেসরকারি এয়ারলাইনসের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা। ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ওমর ফারুকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নেয়ার অভিযোগে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। তদন্তে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে, ওই অভিযোগের পরিণতি এড়াতেই শিমু পর্ণোগ্রাফি আইনে পাল্টা মামলা করেছিলেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, শিমু সিআর-১৯০৪/২০২৫ (উত্তরা পশ্চিম) মামলার বেসরকারি একটি এয়ারলাইনসের এয়ারক্রাফট মেইনটেন্যান্স কর্মকর্তা মো: ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্ণোাগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১), ৮(২), ৮(৩), ৮(৪) ও ৮(৫) ধারায় অভিযোগ আনেন। পরে সেটি উত্তরা পশ্চিম থানার মামলা নম্বর-১৪(১০)২৫ হিসেবে এফআইআর আকারে রুজু হয়।

মামলাটির তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার এজাহারে উল্লেখ করা ফেসবুক লিঙ্ক, ডিজিটাল আলামত, ফরেনসিক তথ্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্ণোগ্রাফি প্রচার বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। বাসস