মেসিকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা টুখেলের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • 20

দেশের জার্সিতে ২০৫ ম্যাচ খেলে ফেললেও এত দীর্ঘ পথচলায় একবারো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি মেসির। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে এবার। রাত ১টায় আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

জয় পেলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যেখানে তাদের অপেক্ষায় স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা।

৩৯ বছর বয়সেও মেসি যে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক, তা আবারো প্রমাণ করেছেন চলতি বিশ্বকাপে। এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা তিনি।

তাই ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চিন্তা—মেসিকে কীভাবে থামানো যায়? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল প্রথমে একটু হাস্যরসই করলেন।

‘ভাবছিলাম, পুরোনো দিনের মতো একজন খেলোয়াড়কে শুধু মেসিকে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দিয়ে দিই,’—হেসে বলেন টুখেল। তবে পরক্ষণেই জানিয়ে দেন, বিষয়টি শুধু মজা নয়, বাস্তবেও এমন সম্ভাবনা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

টুখেল বলেন, তার বিশ্লেষক দল মেসির খেলার প্রতিটি দিক নিয়ে কাজ করেছে। কোথায় তিনি বল পেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কীভাবে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন—সবই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও মেসিকে থামানো সহজ নয়।

ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘মেসি কোন এলাকায় বল পেতে চায়, সেটা সবাই জানে। কিন্তু একটি পথ বন্ধ করে দিলেই সে কিংবা আর্জেন্টিনা নতুন পথ বের করে ফেলে। তাই তার বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই আলাদা চ্যালেঞ্জ’।

মেসির নেতৃত্ব নিয়েও মুগ্ধ টুখেল। তিনি বলেন, ‘সে শুধু একজন অধিনায়ক নয়, যে দলেই খেলুক না কেন, সেই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। মেসি যেভাবে পুরো দলকে পরিচালনা করে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

টুখেলের মতে, মেসির পায়ে বল গেলেই পুরো আর্জেন্টিনা দল যেন একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই ইংল্যান্ডকে রক্ষণে যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি নিজেদের খেলাও খেলতে হবে।

‘আমরা নিজেদের ফুটবল খেলতে চাই, নিজেদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে চাই। চ্যালেঞ্জটা কঠিন, সেটা জানি। তবে আমরা প্রস্তুত।’

এদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমান টিভি বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘারও মেসিকে থামানোর কৌশল নিয়ে নিজের মত দিয়েছেন। তার মতে, আর্জেন্টিনা যখন রক্ষণে থাকে, তখন মেসি খুব বেশি নিচে নেমে ডিফেন্ড করেন না।

ফলে ইংল্যান্ডের বাম-ব্যাকের সারাক্ষণ শুধু মেসিকে অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। বরং সেই বাড়তি জায়গা কাজে লাগিয়ে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে ক্যারাঘারও মনে করেন না, শুধু ম্যান-মার্কিং করেই মেসিকে আটকে রাখা সম্ভব।

‘গত ২০ বছরে বিশ্বের অসংখ্য কোচ ও ডিফেন্ডার মেসিকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খুব কমই সফল হয়েছেন। তাই কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। তবে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ আপনি সম্ভবত সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে নামছেন। আর এই বিশ্বকাপেও তিনি সেটি আবার প্রমাণ করেছেন।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

মেসিকে আটকাতে বিশেষ পরিকল্পনা টুখেলের

Update Time : ১২:৫৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

দেশের জার্সিতে ২০৫ ম্যাচ খেলে ফেললেও এত দীর্ঘ পথচলায় একবারো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামা হয়নি মেসির। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে এবার। রাত ১টায় আটলান্টায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড।

জয় পেলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। যেখানে তাদের অপেক্ষায় স্পেন। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা।

৩৯ বছর বয়সেও মেসি যে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় আতঙ্ক, তা আবারো প্রমাণ করেছেন চলতি বিশ্বকাপে। এখন পর্যন্ত ৮ গোল ও ২ অ্যাসিস্ট করে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা তিনি।

তাই ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় চিন্তা—মেসিকে কীভাবে থামানো যায়? এই প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ইংল্যান্ডের কোচ থমাস টুখেল প্রথমে একটু হাস্যরসই করলেন।

‘ভাবছিলাম, পুরোনো দিনের মতো একজন খেলোয়াড়কে শুধু মেসিকে পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দিয়ে দিই,’—হেসে বলেন টুখেল। তবে পরক্ষণেই জানিয়ে দেন, বিষয়টি শুধু মজা নয়, বাস্তবেও এমন সম্ভাবনা নিয়ে তারা আলোচনা করেছেন।

টুখেল বলেন, তার বিশ্লেষক দল মেসির খেলার প্রতিটি দিক নিয়ে কাজ করেছে। কোথায় তিনি বল পেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, কীভাবে ফাঁকা জায়গা তৈরি করেন—সবই বিশ্লেষণ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও মেসিকে থামানো সহজ নয়।

ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘মেসি কোন এলাকায় বল পেতে চায়, সেটা সবাই জানে। কিন্তু একটি পথ বন্ধ করে দিলেই সে কিংবা আর্জেন্টিনা নতুন পথ বের করে ফেলে। তাই তার বিপক্ষে খেলাটা সবসময়ই আলাদা চ্যালেঞ্জ’।

মেসির নেতৃত্ব নিয়েও মুগ্ধ টুখেল। তিনি বলেন, ‘সে শুধু একজন অধিনায়ক নয়, যে দলেই খেলুক না কেন, সেই দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। মেসি যেভাবে পুরো দলকে পরিচালনা করে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’

টুখেলের মতে, মেসির পায়ে বল গেলেই পুরো আর্জেন্টিনা দল যেন একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই ইংল্যান্ডকে রক্ষণে যেমন সতর্ক থাকতে হবে, তেমনি নিজেদের খেলাও খেলতে হবে।

‘আমরা নিজেদের ফুটবল খেলতে চাই, নিজেদের পরিকল্পনাই বাস্তবায়ন করতে চাই। চ্যালেঞ্জটা কঠিন, সেটা জানি। তবে আমরা প্রস্তুত।’

এদিকে ইংল্যান্ডের সাবেক ডিফেন্ডার ও বর্তমান টিভি বিশ্লেষক জেমি ক্যারাঘারও মেসিকে থামানোর কৌশল নিয়ে নিজের মত দিয়েছেন। তার মতে, আর্জেন্টিনা যখন রক্ষণে থাকে, তখন মেসি খুব বেশি নিচে নেমে ডিফেন্ড করেন না।

ফলে ইংল্যান্ডের বাম-ব্যাকের সারাক্ষণ শুধু মেসিকে অনুসরণ করার প্রয়োজন নেই। বরং সেই বাড়তি জায়গা কাজে লাগিয়ে আক্রমণে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। তবে ক্যারাঘারও মনে করেন না, শুধু ম্যান-মার্কিং করেই মেসিকে আটকে রাখা সম্ভব।

‘গত ২০ বছরে বিশ্বের অসংখ্য কোচ ও ডিফেন্ডার মেসিকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু খুব কমই সফল হয়েছেন। তাই কোনো জাদুকরী সমাধান নেই। তবে একটি পরিষ্কার পরিকল্পনা অবশ্যই থাকতে হবে। কারণ আপনি সম্ভবত সর্বকালের সেরা ফুটবলারের বিপক্ষে খেলতে নামছেন। আর এই বিশ্বকাপেও তিনি সেটি আবার প্রমাণ করেছেন।’