হরমুজকে ঘিরে সংঘাত তীব্র, পাল্টাপাল্টি হামলায় মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • 37

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে সর্বশেষ বিমান হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফারস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পশ্চিম বান্দার আব্বাসে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বান্দার আব্বাসের কাছে একটি মার্কিন নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে তারা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ওমান উপসাগরসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গোলাবারুদ গুদাম এবং যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু ছিল। এর আগে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতেও হামলা চালানোর দাবি করেছিল তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হয়েছে। তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই আরও ৬০ দিন মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইরান ছাড়া অন্য গন্তব্যে যাওয়া জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ তল্লাশির পর চলাচলের অনুমতি পাবে। অবরোধ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধও চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দেবে এবং এর বিনিময়ে চলাচলকারী পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপ করা হবে। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব অতীতেও ইরানের ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮১ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা জুনের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ পর্যায়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

মানবতাবিরোধী অপরাধে গ্রেপ্তার মোজাফফর, ২ দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

হরমুজকে ঘিরে সংঘাত তীব্র, পাল্টাপাল্টি হামলায় মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

Update Time : ১২:১১:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে সর্বশেষ বিমান হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক জাহাজ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ইরানের হামলার সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার রাতে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বান্দার আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ফারস সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পশ্চিম বান্দার আব্বাসে একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে নিয়ম লঙ্ঘনকারী কয়েকটি জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি বান্দার আব্বাসের কাছে একটি মার্কিন নির্মিত ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করেছে তারা।

সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ওমান উপসাগরসংলগ্ন হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।

ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, হামলায় একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, জ্বালানি সংরক্ষণাগার, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, গোলাবারুদ গুদাম এবং যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু ছিল। এর আগে বাহরাইন, জর্ডান ও কুয়েতেও হামলা চালানোর দাবি করেছিল তেহরান।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি কংগ্রেসকে জানিয়েছেন, ৭ জুলাই থেকে ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ পুনরায় শুরু হয়েছে। তিনি কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই আরও ৬০ দিন মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

হরমুজ প্রণালি ব্যবহার নিয়ে নতুন নির্দেশনাও দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, ইরান ছাড়া অন্য গন্তব্যে যাওয়া জাহাজ প্রণালিটি ব্যবহার করতে পারবে। তবে মানবিক সহায়তাবাহী জাহাজ তল্লাশির পর চলাচলের অনুমতি পাবে। অবরোধ এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান।

এদিকে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কূটনৈতিক বাকযুদ্ধও চলছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা দেবে এবং এর বিনিময়ে চলাচলকারী পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপ করা হবে। জবাবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তার দায়িত্ব অতীতেও ইরানের ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে চলমান সংঘাতের মধ্যেও আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ৯ শতাংশের বেশি বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৮১ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা জুনের মাঝামাঝির পর সর্বোচ্চ পর্যায়।