সাপের কামড়ের পর সারা রাত ঝাড়ফুঁক, ভোরে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৩
  • 155

প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গায় সাপের কামড়ে মুক্তাকিনা খাতুন ঐশী (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তাকিনা খাতুন ঐশী উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের হাটখোলা পাঁচলিয়া গ্রামের টাইলস মিস্ত্রী শরিফুল ইসলামের মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে ঐশী ছিল বড়। সে এবার এসএসসি পরিক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়।
ঐশীর মামা তালহা বিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল আমার ভাগ্নি ঐশী। আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। এরপর ঐশী ছটফট করতে থাকে। ঘটনার পর থেকে আমার আপন মামা আজব আলীসহ কয়েকজন কবিরাজ মিলে ঝাড়ফুঁক করতে থাকেন। ঐশীর শরীরে সাপের বিষ ছিল না। সে স্টোক করে মারা গেছে। যদি সাপের বিষ থাকতো তাহলে হাত চালানের সময় ধরা (হাত উঠতো) পড়তো। একজনের হয়ত মিস হতে পারে, তবে ৫/৬ জন কবিরাজের হাত চালান মিস হতে পারে না। পরে ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামজামি ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং (ইউপি) সদস্য মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, মেয়েটির বাড়ি আমার ওয়ার্ডে। সাপের কামড়ে মেয়েটি মারা গেছে। ঘটনার পর থেকেই ঝাড়ফুঁক করা হয়। গ্রামের মানুষ সচেতন নয়। রাতেই মেয়েটিকে হাসপাতালে নেওয়া উচিত ছিল।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, সাপের কামড়ে একজন মারা গেছে বলে জেনেছি। বিস্তারিত জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

ভ্যাটসহ নতুন করে সোনার দাম নির্ধারণ, ভরিতে কমলো ৯ হাজার টাকা

সাপের কামড়ের পর সারা রাত ঝাড়ফুঁক, ভোরে স্কুলছাত্রীর মৃত্যু

Update Time : ০৩:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৩

প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা
চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গায় সাপের কামড়ে মুক্তাকিনা খাতুন ঐশী (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ঐশীকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুক্তাকিনা খাতুন ঐশী উপজেলার জামজামি ইউনিয়নের হাটখোলা পাঁচলিয়া গ্রামের টাইলস মিস্ত্রী শরিফুল ইসলামের মেয়ে। দুই বোনের মধ্যে ঐশী ছিল বড়। সে এবার এসএসসি পরিক্ষায় এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়।
ঐশীর মামা তালহা বিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে ছিল আমার ভাগ্নি ঐশী। আনুমানিক রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় একটি সাপ তাকে কামড় দেয়। এরপর ঐশী ছটফট করতে থাকে। ঘটনার পর থেকে আমার আপন মামা আজব আলীসহ কয়েকজন কবিরাজ মিলে ঝাড়ফুঁক করতে থাকেন। ঐশীর শরীরে সাপের বিষ ছিল না। সে স্টোক করে মারা গেছে। যদি সাপের বিষ থাকতো তাহলে হাত চালানের সময় ধরা (হাত উঠতো) পড়তো। একজনের হয়ত মিস হতে পারে, তবে ৫/৬ জন কবিরাজের হাত চালান মিস হতে পারে না। পরে ভোরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জামজামি ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং (ইউপি) সদস্য মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, মেয়েটির বাড়ি আমার ওয়ার্ডে। সাপের কামড়ে মেয়েটি মারা গেছে। ঘটনার পর থেকেই ঝাড়ফুঁক করা হয়। গ্রামের মানুষ সচেতন নয়। রাতেই মেয়েটিকে হাসপাতালে নেওয়া উচিত ছিল।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের পরিদর্শক (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ বলেন, সাপের কামড়ে একজন মারা গেছে বলে জেনেছি। বিস্তারিত জানতে ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়েছে।