কাঁচামরিচের ডাবল সেঞ্চুরি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
  • 210


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
এক সপ্তাহ আগেও বাজারে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো। সপ্তাহের ব্যবধানে সেটির দাম বেড়ে এখন ২০০ টাকা পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দাম ২২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (২৪ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে , সব বাজারেই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে যে সব মরিচের মান কিছুটা ভালো সেই দুই এক জাতের মরিচ ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আসন্ন ঈদুল আযহার বাকি প্রায় এক মাস। এর আগেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গিয়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গতবার (২০২৩) ঠিক এই সময়ে ঈদুল আযহার আগে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে ৭০০ টাকায় ঠেকেছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সময়ে দেশে কাঁচামরিচের কিছুটা ঘাটতি থাকে, সে কারণে দাম বেড়ে যায়। তখন আমদানি করে কাঁচামরিচের ঘাটতি মেটানো হয়।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিনের বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। কারণ দেশের মরিচ গাছগুলো বৃষ্টি হলেই পচে যায়। এছাড়া কিছুদিনের তীব্র গরমে মরিচ গাছগুলো আগেভাগেই নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে মরিচের মৌসুম শেষ হয়ে আশায় গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় কম হচ্ছে, ফলে দাম বেড়েছে।
রাজধানীর মালিবাগের একটি কাঁচাবাজারের খুচরা কাঁচামরিচ বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগেই কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তারপর থেকেই কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গেছে, এখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি করছি ২০০ টাকায়। যদিও এই কাঁচামরিচের মান খুব ভালো না, তবুও পাইকারি বাজার থেকে এই মরিচ বাড়তি দাম দিয়েই কিনে আনতে হয়েছে। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে, আগের মতো সরবরাহ নেই পর্যাপ্ত। সে কারণেই বাজারে বাড়তি দাম চলছে কাঁচামরিচের। নতুন করে মরিচ ওঠার আগ পর্যন্ত এ দাম বাড়তি থাকবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচাপণ্যের সঙ্গে কাঁচামরিচও কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন আলমগীর হোসেন নামের এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে, বছরের এই সময়ে এসে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যায়। কারণ এ সময় কাঁচামরিচের উৎপাদন তেমনভাবে হয় না, ফলে বাজারে সরবরাহ কম হয়। ক্ষেতের গাছগুলো এখন শুকিয়ে যাওয়ার পথে, এছাড়া কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে যাতে করে গাছগুলো পচে গেছে। পাশাপাশি গত কিছুদিনের তীব্র গরমে আগেভাগেই কাঁচা মরিচের গাছগুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাজারে বাড়তি দাম যাচ্ছে কাঁচামরিচের।
রাজধানীর মহাখালী বাজারে অন্যান্য বাজারের সঙ্গে কাঁচামরিচ কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেও এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনেছি ৩০ টাকায়, আজ সেটাই কিনলাম ৫০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়তি যাচ্ছে, সেখান থেকে আমাদের ছাড় দেয়নি কাঁচামরিচও। এটারও এখন বাড়তি দাম। ২০০ টাকা কেজি কিনে খেতে হচ্ছে। বাজারে আর কিছু দাম বাড়তে বাকি থাকল না। গত বছর কোরবানি ঈদের আগে কাঁচা মরিচ ৭০০ টাকা কেজি ছিল, এবছর এ সময়ে এসে কেবল ২০০ টাকা ঠেকেছে। না জানি কত টাকায় গিয়ে ঠেকে কাঁচামরিচের দাম।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

যুক্তরাজ্যে দুই ট্রেনের সংঘর্ষ : চালক নিহত, আহত ৮৯ জন

কাঁচামরিচের ডাবল সেঞ্চুরি

Update Time : ০৮:৩৬:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪


জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
এক সপ্তাহ আগেও বাজারে কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতো। সপ্তাহের ব্যবধানে সেটির দাম বেড়ে এখন ২০০ টাকা পৌঁছেছে। কোথাও কোথাও দাম ২২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।
শুক্রবার (২৪ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে , সব বাজারেই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, তবে যে সব মরিচের মান কিছুটা ভালো সেই দুই এক জাতের মরিচ ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
আসন্ন ঈদুল আযহার বাকি প্রায় এক মাস। এর আগেই বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গিয়ে ২০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। গতবার (২০২৩) ঠিক এই সময়ে ঈদুল আযহার আগে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে ৭০০ টাকায় ঠেকেছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই সময়ে দেশে কাঁচামরিচের কিছুটা ঘাটতি থাকে, সে কারণে দাম বেড়ে যায়। তখন আমদানি করে কাঁচামরিচের ঘাটতি মেটানো হয়।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিনের বৃষ্টির কারণে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে। কারণ দেশের মরিচ গাছগুলো বৃষ্টি হলেই পচে যায়। এছাড়া কিছুদিনের তীব্র গরমে মরিচ গাছগুলো আগেভাগেই নষ্ট হয়ে গেছে। বর্তমানে মরিচের মৌসুম শেষ হয়ে আশায় গাছগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় কম হচ্ছে, ফলে দাম বেড়েছে।
রাজধানীর মালিবাগের একটি কাঁচাবাজারের খুচরা কাঁচামরিচ বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আগেই কাঁচামরিচ ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছি। তারপর থেকেই কাঁচামরিচের দাম বেড়ে গেছে, এখন প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি করছি ২০০ টাকায়। যদিও এই কাঁচামরিচের মান খুব ভালো না, তবুও পাইকারি বাজার থেকে এই মরিচ বাড়তি দাম দিয়েই কিনে আনতে হয়েছে। পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ খুব কম পাওয়া যাচ্ছে, আগের মতো সরবরাহ নেই পর্যাপ্ত। সে কারণেই বাজারে বাড়তি দাম চলছে কাঁচামরিচের। নতুন করে মরিচ ওঠার আগ পর্যন্ত এ দাম বাড়তি থাকবে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজার থেকে কাঁচাপণ্যের সঙ্গে কাঁচামরিচও কিনে এনে খুচরা বিক্রি করেন আলমগীর হোসেন নামের এক বিক্রেতা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ব্যবসার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি যে, বছরের এই সময়ে এসে কাঁচামরিচের দাম বেড়ে যায়। কারণ এ সময় কাঁচামরিচের উৎপাদন তেমনভাবে হয় না, ফলে বাজারে সরবরাহ কম হয়। ক্ষেতের গাছগুলো এখন শুকিয়ে যাওয়ার পথে, এছাড়া কয়েকদিন বৃষ্টি হয়েছে যাতে করে গাছগুলো পচে গেছে। পাশাপাশি গত কিছুদিনের তীব্র গরমে আগেভাগেই কাঁচা মরিচের গাছগুলো শুকিয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। তাই বাজারে বাড়তি দাম যাচ্ছে কাঁচামরিচের।
রাজধানীর মহাখালী বাজারে অন্যান্য বাজারের সঙ্গে কাঁচামরিচ কিনেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, কয়েকদিন আগেও এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনেছি ৩০ টাকায়, আজ সেটাই কিনলাম ৫০ টাকা। সবকিছুর দাম বাড়তি যাচ্ছে, সেখান থেকে আমাদের ছাড় দেয়নি কাঁচামরিচও। এটারও এখন বাড়তি দাম। ২০০ টাকা কেজি কিনে খেতে হচ্ছে। বাজারে আর কিছু দাম বাড়তে বাকি থাকল না। গত বছর কোরবানি ঈদের আগে কাঁচা মরিচ ৭০০ টাকা কেজি ছিল, এবছর এ সময়ে এসে কেবল ২০০ টাকা ঠেকেছে। না জানি কত টাকায় গিয়ে ঠেকে কাঁচামরিচের দাম।