লগ্ন পেরিয়ে যাওয়ার ভয়, হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়েই হাসপাতালে বিয়ে 

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • 225

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। এখনো সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেননি বর আনন্দ সাহা। তবে নির্ধারিত লগ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে থেমে থাকেনি বিয়ের অনুষ্ঠান। দুই পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আয়োজন হয় বিয়ের।

এমনি ব্যতিক্রমী এই বিয়ের আয়োজনের ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ শহরের আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের অস্থায়ীভাবে খালি রাখা একটি অংশে এই বিশেষ বিয়ের আয়োজন করেন বর ও কনেপক্ষ।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত বর আনন্দ সাহার বাড়ি মানিকগঞ্জ শহরের বাজার রোড এলাকায় এবং কনে অমৃতা সরকার ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের বাসিন্দা। হাত-পা ব্যান্ডেজে বাঁধা অবস্থায় থাকলেও নির্ধারিত লগ্ন মিস না করতে দুই পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আয়োজন হয় বিয়ের।

বর ও কনের স্বজনরা জানায়, পঞ্জিকা অনুসারে শুভ তিথি ও নক্ষত্র দেখে বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক পরিণয়, যা দুটি আত্মার আত্মিক মিলন এবং একটি পরিবারকে একসঙ্গে যুক্ত করে। আনন্দ সাহার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এদিকে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে বিয়ের সম্পন্ন হওয়ায় বর-কনে দুজনেই আনন্দিত। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমী এই বিয়ের আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর আনন্দ সাহা বলেন, কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখন আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ। দুর্ঘটনার পূর্বে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ের সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এদিকে মোবাইলে কনে অমৃতা সরকার কালবেলাকে জানান, পারিবারিকভাবেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। তার কাছে এমন বিয়ের আয়োজন ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে বলে জানান। স্বামীর সুস্থতা ও তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য সকলের কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন তিনি।

হাসপাতালের মেডিকেল অ্যান্ড ইউনিট হেড ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন রোগী (বর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার এক হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সেদিনই তার বিয়ের দিন ছিল। পরিবার আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা গুরুত্ব সহকারে কনসালটেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করি। রোগীর অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল মনে হওয়ায় হাসপাতালের অব্যবহৃত অংশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। আমাদের কর্তৃপক্ষ সবসময় রোগীদের সেবায় আন্তরিক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে বেনজীরের প্রয়োজনীয় নথিপত্র

লগ্ন পেরিয়ে যাওয়ার ভয়, হাত-পায়ে ব্যান্ডেজ নিয়েই হাসপাতালে বিয়ে 

Update Time : ১২:৩৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে। এখনো সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরেননি বর আনন্দ সাহা। তবে নির্ধারিত লগ্ন শেষ হয়ে যাওয়ার ভয়ে থেমে থাকেনি বিয়ের অনুষ্ঠান। দুই পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আয়োজন হয় বিয়ের।

এমনি ব্যতিক্রমী এই বিয়ের আয়োজনের ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জ শহরের আফরোজা বেগম জেনারেল হাসপাতালে।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে হাসপাতালের অস্থায়ীভাবে খালি রাখা একটি অংশে এই বিশেষ বিয়ের আয়োজন করেন বর ও কনেপক্ষ।

জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত বর আনন্দ সাহার বাড়ি মানিকগঞ্জ শহরের বাজার রোড এলাকায় এবং কনে অমৃতা সরকার ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী গ্রামের বাসিন্দা। হাত-পা ব্যান্ডেজে বাঁধা অবস্থায় থাকলেও নির্ধারিত লগ্ন মিস না করতে দুই পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় আয়োজন হয় বিয়ের।

বর ও কনের স্বজনরা জানায়, পঞ্জিকা অনুসারে শুভ তিথি ও নক্ষত্র দেখে বিয়ের দিন ঠিক করা হয়। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক পরিণয়, যা দুটি আত্মার আত্মিক মিলন এবং একটি পরিবারকে একসঙ্গে যুক্ত করে। আনন্দ সাহার শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই বিয়ের আয়োজন করা হয়।

এদিকে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনে বিয়ের সম্পন্ন হওয়ায় বর-কনে দুজনেই আনন্দিত। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমী এই বিয়ের আয়োজনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বর আনন্দ সাহা বলেন, কিছুদিন আগে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছি। এখন আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ। দুর্ঘটনার পূর্বে বিয়ের দিন ধার্য ছিল। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ের সম্পন্ন হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

এদিকে মোবাইলে কনে অমৃতা সরকার কালবেলাকে জানান, পারিবারিকভাবেই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। তার কাছে এমন বিয়ের আয়োজন ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে বলে জানান। স্বামীর সুস্থতা ও তাদের দাম্পত্য জীবনের জন্য সকলের কাছে আশীর্বাদ চেয়েছেন তিনি।

হাসপাতালের মেডিকেল অ্যান্ড ইউনিট হেড ডা. সিরাজুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চিকিৎসাধীন রোগী (বর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তার এক হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। সেদিনই তার বিয়ের দিন ছিল। পরিবার আমাদের বিষয়টি জানালে আমরা গুরুত্ব সহকারে কনসালটেন্টদের সঙ্গে আলোচনা করি। রোগীর অবস্থা আগের তুলনায় স্থিতিশীল মনে হওয়ায় হাসপাতালের অব্যবহৃত অংশে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করার অনুমতি দেওয়া হয়। আমাদের কর্তৃপক্ষ সবসময় রোগীদের সেবায় আন্তরিক।