ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদকে অবৈধভাবে ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।
শনিবার পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) সদস্যরা রাজ্যের শান্তিপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে ফিলিপ সাংমাকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশে শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহভাজনদের অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারে সহায়তা করার অভিযোগে পশ্চিমবঙ্গে ফিলিপ সাংমা নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন, কলকাতা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ফিলিপ সাংমা (৩০) নামে এক বাংলাদেশি নাগরিককে পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে কলকাতা পুলিশ তাদের জানিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিষয়ে অতিরিক্ত তথ্য জানতে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন কলকাতা পুলিশের কাছে অনুরোধ করেছে এবং ভারত সরকারের কাছে কনস্যুলার অ্যাকসেস চাওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকায় ৩২ বছর বয়সী শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় সাংমার এই গ্রেপ্তারকে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ফয়সালকে ভারতে পালাতে সহায়তায় ফিলিপ সাংমা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এর আগে গত ৮ মার্চ অবৈধ অনুপ্রবেশ ও অবস্থানের অভিযোগে রাহুল ওরফে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই বাংলাদেশিকে ভারতের বনগাঁও সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ।
এসটিএফ জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীরকে জিজ্ঞাসাবাদের পর ফিলিপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানিয়েছেন, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বাসিন্দা ফিলিপ সাংমার সহায়তায় তিনি মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে শান্তিপুর বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাংমাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থের বিনিময়ে হালুয়াঘাট ও মেঘালয়ের ডালুপাড়ার মধ্যে আন্তঃসীমান্ত মানবপাচার নেটওয়ার্ক পরিচালনার কথাও স্বীকার করেছেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, ফয়সাল ও আলমগীরকে মেঘালয়ের বনাঞ্চল দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে সাহায্য করেছিলেন সাংমা। বাংলাদেশ পুলিশের চাপ এড়াতে পরবর্তীতে তিনিও ভারতে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারের সময় তিনি ফয়সাল ও আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং তাদের আবার অবৈধভাবে বাংলাদেশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার ফিলিপ সাংমাকে আদালতে হাজির করা হলে তদন্তের স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়ার জন্য এসটিএফের আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, এই আলোচিত হত্যা মামলার সন্দেহভাজনদের গতিবিধি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে সাংমার জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ডেস্ক নিউজ 









