দুর্নীতির মামলায় ফের গ্রেফতার দিলীপ আগরওয়ালা

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ফের দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির সোমবার এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমী।

গত ২৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে মঙ্গলবার। এদিন শুনানিকালে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে ‘লেয়ারিং’ করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ধাপে লেনদেন করা ‘লেয়ারিং’ বা ‘অর্থের স্তরায়ণ’ নামে পরিচিত। গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালন এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এরপর ২১ অক্টোবর আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করেছিল তখনকার র‌্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র‌্যাব।

পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

বাণিজ্য মেলার প্রধান ফটক ভেঙে ক্যাম্পাসে ফিরলেন শেকৃবি শিক্ষার্থীরা

দুর্নীতির মামলায় ফের গ্রেফতার দিলীপ আগরওয়ালা

Update Time : ০৩:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে ফের দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির সোমবার এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন দুদকের কৌঁসুলি দেলোয়ার জাহান রুমী।

গত ২৫ অক্টোবর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন রাখে মঙ্গলবার। এদিন শুনানিকালে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠায়।

গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে বলা হয়, দিলীপ কুমার আগরওয়ালার বিরুদ্ধে অসাধু উপায়ে ১১২ কোটি ৪৭ লাখ ২৮ হাজার ৪০৭ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন ও দখলে রাখার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া তার ৩৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩৮৫ কোটি ৩২ লাখ ৬২ হাজার ১২৩ টাকা জমা এবং ৩৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ৯৪ হাজার ১৪০ টাকা উত্তোলনসহ সর্বমোট ৭৫৫ কোটি ৩০ লাখ ৫৬ হাজার ২৬৩ টাকার লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে ‘লেয়ারিং’ করেছেন বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতীয়মান হওয়ায় দুদক মামলা দায়ের করে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে এ মামলায় গ্রেফতার দেখানো প্রয়োজন।

অবৈধ অর্থের উৎস আড়াল করতে একাধিক ধাপে লেনদেন করা ‘লেয়ারিং’ বা ‘অর্থের স্তরায়ণ’ নামে পরিচিত। গত ১৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে রাজধানীর বনানী থেকে গ্রেফতার করে ঢাকা ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরদিন সোনা ও হীরা চোরাচালন এবং অর্থ পাচারের মামলায় তাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত।

এরপর ২১ অক্টোবর আ. জব্বার হত্যাচেষ্টার মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে দুই দফায় ৬ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেফতার করেছিল তখনকার র‌্যাব। সেদিন মধ্যরাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড কার্যালয় ঘিরে অভিযান চালায় র‌্যাব।

পরে কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়। তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করে পুলিশ। বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে। নেওয়া হয় রিমান্ডেও। এসব মামলায় নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি কারামুক্ত হন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য।