নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৩৪২, ১৩তম দিনে জাতীয় শোক

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 2

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে সোমবার দেশটিতে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। সোমবার দুর্যোগের ১৩তম দিনে সরকারি দপ্তর ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯৯২ জন। তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার হিসাবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোববারের হিসাবে, এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, একই ব্যক্তির নামে থাকা একাধিক তালিকা বাদ দেওয়া এবং নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ার কারণে নিখোঁজের সংখ্যায় পরিবর্তন হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মৃত্যুর ১৩তম দিনকে শোক ও প্রয়াতদের স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই উপলক্ষে সোমবার দেশজুড়ে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

এদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে ১১ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল নয়টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন নিয়ে নেপালে পৌঁছেছে।

দুর্যোগের পর কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও আশার সঞ্চার করেছে। আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে ১০ দিন পর চীনা নাগরিক লু হাইতাওকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

নুয়াকোটের বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার তাকে মৃত ভেবে শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁর ডাক শুনতে পান। প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৯৩৩। এছাড়া ৫৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৭টি সেতু ও ৬৮টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও দুটি সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রভাবিত হয়েছে।

রাসুয়াসহ দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে। দুর্যোগের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নেপাল সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী মূল্যায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

স্থানীয় নির্বাচনে বাদ পড়ল পোস্টার, বিলবোর্ডে অনুমতি

নেপালে আকস্মিক বন্যায় নিহত ১৩৪২, ১৩তম দিনে জাতীয় শোক

Update Time : ০৬:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার মানুষ। ভয়াবহ এই দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে সোমবার দেশটিতে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

গত ২৬ আগস্ট হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ, বরফ ও শিলার বিশাল অংশ ধসে পড়ার পর আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। সোমবার দুর্যোগের ১৩তম দিনে সরকারি দপ্তর ও বিদেশে নেপালের কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

নেপাল পুলিশের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯৯২ জন। তবে নিখোঁজের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার হিসাবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রোববারের হিসাবে, এখনো প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, একই ব্যক্তির নামে থাকা একাধিক তালিকা বাদ দেওয়া এবং নতুন তথ্য যুক্ত হওয়ার কারণে নিখোঁজের সংখ্যায় পরিবর্তন হচ্ছে।

হিন্দু ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, মৃত্যুর ১৩তম দিনকে শোক ও প্রয়াতদের স্মরণের গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেই উপলক্ষে সোমবার দেশজুড়ে জাতীয় শোক পালন করা হচ্ছে।

এদিকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো উদ্ধার অভিযান চলছে। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর দীর্ঘ সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে জোর দেওয়া হচ্ছে। নেপালের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ভারত, চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিশেষজ্ঞ দলও উদ্ধারকাজে অংশ নিচ্ছে। মালয়েশিয়া থেকে ১১ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল নয়টি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন নিয়ে নেপালে পৌঁছেছে।

দুর্যোগের পর কয়েকটি সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনাও আশার সঞ্চার করেছে। আপার ত্রিশূলী-১ প্রকল্পের একটি সুড়ঙ্গের প্রায় ২২৫ মিটার ভেতর থেকে ১০ দিন পর চীনা নাগরিক লু হাইতাওকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আপার ত্রিশূলী-৩এ প্রকল্পের আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই নেপালি শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল।

নুয়াকোটের বেত্রাবতীতে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ৬৪ বছর বয়সী চান্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার তাকে মৃত ভেবে শোকের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে তাঁর ডাক শুনতে পান। প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বন্যায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ৫৭০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ৯৩৩। এছাড়া ৫৫ কিলোমিটার সড়ক, ৩৭টি সেতু ও ৬৮টি ঝুলন্ত সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগে ১৩টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও দুটি সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৭৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রভাবিত হয়েছে।

রাসুয়াসহ দুর্গত অনেক এলাকায় এখনো যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকটও দেখা দিয়েছে। দুর্যোগের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নেপাল সরকার দুর্যোগ-পরবর্তী মূল্যায়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য হিন্দু