অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 8

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, বিভিন্ন হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অপ্রতিমের বাবা-মা।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অপ্রতিমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।

এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় শুক্রবার থেকে মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে আমাদের দুইজনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে কে বা কারা গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করছে। এতে আমরা দুইজনই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছি।

অপ্রতিমের পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে একটি নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়াকে কল দেওয়া হয়। কল রিসিভ করার পর অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান তিনি। পরিচয় দেওয়ার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে কল কেটে দেওয়ার পর অন্য আরও কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার কল দিতে থাকেন ওই ব্যক্তি। পরে নম্বরগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিলিং মিশনে অংশ নেন চারজন। সবাইকে শনাক্ত করে আটক করেছে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের বাবার দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে সিয়াম ছাড়া বাকী তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি

অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি

Update Time : ০২:০০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের শোক কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল, বিভিন্ন হুমকি ও অশোভন আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন অপ্রতিমের বাবা-মা।

এ ঘটনায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অপ্রতিমের বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ।

এসব ঘটনায় নিরাপত্তা শঙ্কায় শুক্রবার থেকে মোবাইল নম্বর বন্ধ রেখেছেন অপ্রতিমের মা নাহিদা বেগম।

অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, প্রথমে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ থেকে অপ্রতিম ও আমাদের জড়িয়ে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হয়েছে। একইসঙ্গে আমাদের দুইজনের মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাত কয়েকটি নম্বর থেকে ফোন করে কে বা কারা গালাগাল, হুমকি ও অশোভন আচরণ করছে। এতে আমরা দুইজনই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এ ঘটনায় শুক্রবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছি।

অপ্রতিমের পরিবারসূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে একটি নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়াকে কল দেওয়া হয়। কল রিসিভ করার পর অজ্ঞাত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান তিনি। পরিচয় দেওয়ার পর অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন ওই ব্যক্তি। পরবর্তীতে কল কেটে দেওয়ার পর অন্য আরও কয়েকটি নম্বর থেকে একাধিকবার কল দিতে থাকেন ওই ব্যক্তি। পরে নম্বরগুলো ব্লক করে দেওয়া হয়।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও অপ্রতিম হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বলেন, সাইবার বুলিং এবং বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন করে অশোভন আচরণের অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) বিকেলে কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান সে। শুক্রবার বিকেলে মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি নিখোঁজের জিডি করেন। নিখোঁজের পরদিন শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটের পাশে লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকায় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি নেওয়ার জন্যই তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিলিং মিশনে অংশ নেন চারজন। সবাইকে শনাক্ত করে আটক করেছে পুলিশ। পরে অপ্রতিমের বাবার দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে তোলা হলে সিয়াম ছাড়া বাকী তিনজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এ ঘটনা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।