আজমুল হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন রিফাত


খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, জবানবন্দিতে তিনি আজমুলের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত আরও ১২ থেকে ১৩ জনের নাম জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম প্রকাশ করছে না পুলিশ।
মঙ্গলবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম খলিলের সামনে রিফাত এ জবানবন্দি দেন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার গ্রেপ্তার তিন আসামির মধ্যে রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে
আজমুল হত্যা মামলায় মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের অভয়নগর থানার ধূলগ্রাম সিদ্ধিপাশা এলাকার শিবপদ সরকারের ছেলে প্রতাপ সরকার (২৮), হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫) এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুণেরগাতী গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০)।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করে কেএমপি ডিবি। ডিবির ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, আজমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের একটি তালিকায় প্রতাপের নাম পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোডের খাজা হল গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ভোররাতে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিফাতকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬, খুলনা ও এসআরবি-৮, বরিশালের যৌথ দল। এসআরবি-৬ সূত্র জানায়, আজমুলের মৃত্যুর পর রিফাত আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে আজমুলকে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় মো. কুতুব উদ্দিন (৪৬) বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার তিতুদহ ইউনিয়নের বড় শলুয়া মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৭-এর শিক্ষার্থী রবিন (২৪), ম্যাথমেটিক্স ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৯-এর শিক্ষার্থী সাগর (২২), এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-২৬-এর শিক্ষার্থী ওবায়দুল (২০) এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৯-এর শিক্ষার্থী মবিন (২২)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে আজমুলের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁদের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ বলছে, রিফাতের জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

আজমুল হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন রিফাত

আজমুল হত্যা: আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিলেন রিফাত

Update Time : ১০:৫০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আজমুল হোসেন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মো. হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের দাবি, জবানবন্দিতে তিনি আজমুলের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। একই সঙ্গে হামলায় জড়িত আরও ১২ থেকে ১৩ জনের নাম জানিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নাম প্রকাশ করছে না পুলিশ।
মঙ্গলবার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক মো. ইব্রাহিম খলিলের সামনে রিফাত এ জবানবন্দি দেন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন জাহিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার গ্রেপ্তার তিন আসামির মধ্যে রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাই করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে
আজমুল হত্যা মামলায় মঙ্গলবার খুলনা, বরিশাল ও পিরোজপুরে পৃথক অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের অভয়নগর থানার ধূলগ্রাম সিদ্ধিপাশা এলাকার শিবপদ সরকারের ছেলে প্রতাপ সরকার (২৮), হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে তারেক হাসান ওরফে রুবেল (৩৫) এবং সিরাজগঞ্জ সদর থানার গুণেরগাতী গ্রামের মনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. হাসনাত হাবিব রিফাত (৩০)।
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করে কেএমপি ডিবি। ডিবির ডিসি মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া জানান, আজমুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের একটি তালিকায় প্রতাপের নাম পাওয়া যায়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
একই দিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোডের খাজা হল গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি। মামলার তদন্তে প্রাপ্ত আসামি হিসেবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এর আগে ভোররাতে পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার কুড়িয়ানা-আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিফাতকে গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৬, খুলনা ও এসআরবি-৮, বরিশালের যৌথ দল। এসআরবি-৬ সূত্র জানায়, আজমুলের মৃত্যুর পর রিফাত আত্মগোপনে চলে যান। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাঁর অবস্থান শনাক্তের পর অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি মেসে আজমুলকে চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তিনি ভবনের নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।
আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আজমুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
এ ঘটনায় মো. কুতুব উদ্দিন (৪৬) বাদী হয়ে মামলা করেন। তিনি চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানার তিতুদহ ইউনিয়নের বড় শলুয়া মসজিদপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৭-এর শিক্ষার্থী রবিন (২৪), ম্যাথমেটিক্স ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৯-এর শিক্ষার্থী সাগর (২২), এগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-২৬-এর শিক্ষার্থী ওবায়দুল (২০) এবং ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের ব্যাচ-১৯-এর শিক্ষার্থী মবিন (২২)। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে আজমুলের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁদের কাছে ফোন করে এক লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। পরে ওই ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পুলিশ বলছে, রিফাতের জবানবন্দিতে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।