বিএনপি নেতাদের নামে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ বহিষ্কৃত এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

খুলনার কয়রায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত নেতা গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বাঁধের ঢালে গর্ত খুঁড়ে বালুর ব্যবসার চাতাল তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

গোলাম রব্বানী খুলনার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি নিজেকে সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠিত হলে নিজেকে ওই সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এনসিপির ব্যানারে ইফতার মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারের পরও তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনর রশীদ ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি শরিফুল আলমের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব পোস্টে গোলাম রব্বানী তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন। তবে যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সরেজমিনে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দুই নেতার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষের ইন্ধনে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

গোলাম রব্বানী তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মেঘারাইট গ্রামের কপোতাক্ষ নদের পাশে তাঁর বালুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী বাঁধের ঢালে প্রায় ১০০ ফুট আয়তনের একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে। গর্তটির তিন পাশে মাটির আইল রয়েছে। বর্তমানে গর্তের পানিতে বাঁধের ঢালের মাটি ধসে পড়েছে। সেখানে কোনো স্থাপনা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এনসিপি নেতা পরিচয় দেওয়া গোলাম রব্বানী সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য চাতাল তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এলাকাবাসী তাঁর এ কাজকে অবৈধ দাবি করে বাধা দিলে তিনি লোকজন নিয়ে এসে জোর করে বাঁধের ঢালের মাটি কেটে চাতাল তৈরির চেষ্টা করেন। এতে বাঁধের ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় লোকজন একত্র হয়ে গর্তটি ভরাট করে দেন বলে জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, একজন জমির মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে সেখানে ইট, বালু ও কাঠের ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী মাটি কেটে চাতাল তৈরির কাজ চলার সময় বিএনপির দুই নেতার ইন্ধনে এলাকার লোকজন তা ভেঙে দেন বলে তাঁর অভিযোগ।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোলায়মান বলেন, বাঁধের ঢালে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নেই। সেখানে গর্ত খোঁড়ার কারণে চলমান বাঁধ মেরামতের কাজে ক্ষতি হচ্ছিল। এ কারণে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন বাবুল বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের সুনাম ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত এক এনসিপি নেতাকে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গোলাম রব্বানী এলাকায় নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় মব সৃষ্টি করে কেরামত আলী নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেন তিনি। গণআন্দোলনে গোলাম রব্বানীর অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন মওলা বকস।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময়কার পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে গোলাম রব্বানী অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে বাঁধের ঢাল কেটেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

বিএনপি নেতাদের নামে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ বহিষ্কৃত এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

বিএনপি নেতাদের নামে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ বহিষ্কৃত এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে

Update Time : ০২:১১:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার কয়রায় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপির দুই নেতার বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে বহিষ্কৃত নেতা গোলাম রব্বানীর বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগে উল্লেখ করা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, বাঁধের ঢালে গর্ত খুঁড়ে বালুর ব্যবসার চাতাল তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

গোলাম রব্বানী খুলনার কয়রা উপজেলার মদিনাবাদ গ্রামের বাসিন্দা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি নিজেকে সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) গঠিত হলে নিজেকে ওই সংগঠনের নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে আসছিলেন। এনসিপির ব্যানারে ইফতার মাহফিল আয়োজনকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগে তাঁকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। তবে বহিষ্কারের পরও তিনি ওই পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা জানান, গত কয়েক দিন ধরে কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হারুনর রশীদ ও উপজেলা যুবদলের সভাপতি শরিফুল আলমের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এসব পোস্টে গোলাম রব্বানী তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও চাঁদা দাবির অভিযোগ তুলেছেন। তবে যে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে, সরেজমিনে তার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছেন তাঁরা।

বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং দুই নেতার সামাজিক ও রাজনৈতিক সুনাম নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি পক্ষের ইন্ধনে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

গোলাম রব্বানী তাঁর ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছেন, কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের মেঘারাইট গ্রামের কপোতাক্ষ নদের পাশে তাঁর বালুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী বাঁধের ঢালে প্রায় ১০০ ফুট আয়তনের একটি গর্ত খোঁড়া হয়েছে। গর্তটির তিন পাশে মাটির আইল রয়েছে। বর্তমানে গর্তের পানিতে বাঁধের ঢালের মাটি ধসে পড়েছে। সেখানে কোনো স্থাপনা বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব দেখা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এনসিপি নেতা পরিচয় দেওয়া গোলাম রব্বানী সেখানে বালুর ব্যবসার জন্য চাতাল তৈরি করতে চেয়েছিলেন। এলাকাবাসী তাঁর এ কাজকে অবৈধ দাবি করে বাধা দিলে তিনি লোকজন নিয়ে এসে জোর করে বাঁধের ঢালের মাটি কেটে চাতাল তৈরির চেষ্টা করেন। এতে বাঁধের ক্ষতির আশঙ্কায় স্থানীয় লোকজন একত্র হয়ে গর্তটি ভরাট করে দেন বলে জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে গোলাম রব্বানী বলেন, একজন জমির মালিকের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে সেখানে ইট, বালু ও কাঠের ব্যবসা করার পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। সে অনুযায়ী মাটি কেটে চাতাল তৈরির কাজ চলার সময় বিএনপির দুই নেতার ইন্ধনে এলাকার লোকজন তা ভেঙে দেন বলে তাঁর অভিযোগ।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. সোলায়মান বলেন, বাঁধের ঢালে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি নেই। সেখানে গর্ত খোঁড়ার কারণে চলমান বাঁধ মেরামতের কাজে ক্ষতি হচ্ছিল। এ কারণে কাজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

কয়রা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমীন বাবুল বলেন, সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপি-সমর্থিত প্রার্থীদের সুনাম ও ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। এরই অংশ হিসেবে চাঁদাবাজির অভিযোগে বহিষ্কৃত এক এনসিপি নেতাকে বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মওলা বকস বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গোলাম রব্বানী এলাকায় নিজেকে সমন্বয়ক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই সময় মব সৃষ্টি করে কেরামত আলী নামে এক মুক্তিযোদ্ধাকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করেন তিনি। গণআন্দোলনে গোলাম রব্বানীর অংশগ্রহণ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন মওলা বকস।

তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময়কার পরিচয় ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে গোলাম রব্বানী অবৈধভাবে বালুর ব্যবসা করার উদ্দেশ্যে বাঁধের ঢাল কেটেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বাধা দেওয়ায় তিনি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।