এসি বাসের টিকিটের চাহিদা বেশি, ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৩
  • 151

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। কোথাও বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ৫৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে রাজধানীতে। এই গরমই মূলত অস্বস্তি বয়ে এনেছে ঈদযাত্রায়। তাই এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তি পেতে বেড়েছে এসি বাসের টিকিটের চাহিদা।
এসি বাসের টিকিটের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এখনো ভাড়া নির্ধারণ করেনি। ফলে এসি বাস কোম্পানির মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। দূরপাল্লায় নন-এসি বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, এসি বাসের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। নন-এসি অনেক বাসের টিকিট অবিক্রীত থাকলেও চাহিদা তুঙ্গে এসি বাসের। গরম বেশি হওয়ায় এসি বাসের টিকিট চাচ্ছেন যাত্রীরা। অনেকে শেষ সময়েও এসি বাসের টিকিটের জন্য গাবতলী বাস টার্মিনালে নানা কাউন্টারে ঘুরছেন। তাদের মধ্যে একজন কুষ্টিয়ার মিরপুরের বাসিন্দা মুতাসিম বিল্লাহ। তিনি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ২১ এপ্রিলের এসি বাসের টিকিট খুঁজছেন তিনি।
মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, প্রচণ্ড গরমে ছোট বাচ্চা নিয়ে নন-এসি বাসে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এসি বাসের চারটা টিকিট সংগ্রহ করতে এসেছি। কিন্তু সকাল থেকে কাউন্টারগুলোতে খুঁজেও কোথাও এসি বাসের টিকিট পাইনি। কাউন্টারগুলো বলে সব এসি বাসের টিকিট শেষ হয়ে গেছে।
এসি বাসের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম এক হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া রুট ও সিটের পজিশন অনুযায়ী বাস কোম্পানিগুলো ভাড়া হাঁকছেন। গাবতলীতে দেখা গেছে, হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, জেআর, এসপি গোল্ডেন, সাকুরা ও ডিডি ডিলাক্স এসি পরিবহনের কোনো টিকিট নেই।
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ডিডি ডিলাক্স পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, প্রচণ্ড গরমে এসি টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এসি টিকিট আমাদের কাছে এখন নেই। আসলে যেসব ফ্যামিলিতে ছোট বাচ্চা তারা কষ্ট করে হলেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে এসি বাসে যেতে চান। এসি বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া এক হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া নানা স্থানে নানা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে দুই দফায় বাড়ানোর আগে এসি বাসের ভাড়ায় কিছুটা লাগাম থাকলেও এখন তা নাগালের বাইরে। এর বড় কারণ সরকার এ বাসগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে না। তাই মালিকপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। ফলে বাসের ভাড়া নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। বেশি ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে টিকিট কাউন্টারের লোকদের কথা কাটাকাটি হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, একরকম জিম্মি করেই বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অনেকেই চরম ক্ষোভ আর হতাশায় বলছেন, এসি পরিবহনের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউই নেই।
তবে বিআরটিএ বলছে, এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া কঠিন। এখানে নিয়ম-কানুন আরোপ করতে গেলে অনেক পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান টিকতে পারবে না।
বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, এসি বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। এসি বাস রেগুলেট করলে তারা চালাবে না। তাছাড়া দেশে দেখেন এসি বাস মাত্র এক শতাংশ। যার সামর্থ্য আছে তারাই এসি বাসে চড়ে। এটা রেগুলেট করলে এসি বাস বন্ধ হয়ে যাবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

এসি বাসের টিকিটের চাহিদা বেশি, ইচ্ছামতো ভাড়া আদায়

Update Time : ০৬:৫৩:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৩

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
বর্তমানে ঢাকাসহ সারাদেশে প্রচণ্ড গরম অনুভূত হচ্ছে। কোথাও বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, ৫৮ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে রাজধানীতে। এই গরমই মূলত অস্বস্তি বয়ে এনেছে ঈদযাত্রায়। তাই এবার ঈদযাত্রায় স্বস্তি পেতে বেড়েছে এসি বাসের টিকিটের চাহিদা।
এসি বাসের টিকিটের চাহিদা বাড়লেও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এখনো ভাড়া নির্ধারণ করেনি। ফলে এসি বাস কোম্পানির মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে যাত্রীদের কাছ থেকে। দূরপাল্লায় নন-এসি বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ১৫ পয়সা।
বুধবার (১৯ এপ্রিল) গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, এসি বাসের সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। নন-এসি অনেক বাসের টিকিট অবিক্রীত থাকলেও চাহিদা তুঙ্গে এসি বাসের। গরম বেশি হওয়ায় এসি বাসের টিকিট চাচ্ছেন যাত্রীরা। অনেকে শেষ সময়েও এসি বাসের টিকিটের জন্য গাবতলী বাস টার্মিনালে নানা কাউন্টারে ঘুরছেন। তাদের মধ্যে একজন কুষ্টিয়ার মিরপুরের বাসিন্দা মুতাসিম বিল্লাহ। তিনি একটা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। ২১ এপ্রিলের এসি বাসের টিকিট খুঁজছেন তিনি।
মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, প্রচণ্ড গরমে ছোট বাচ্চা নিয়ে নন-এসি বাসে ২৫০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়। তাই এসি বাসের চারটা টিকিট সংগ্রহ করতে এসেছি। কিন্তু সকাল থেকে কাউন্টারগুলোতে খুঁজেও কোথাও এসি বাসের টিকিট পাইনি। কাউন্টারগুলো বলে সব এসি বাসের টিকিট শেষ হয়ে গেছে।
এসি বাসের টিকিটের সর্বনিম্ন দাম এক হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া রুট ও সিটের পজিশন অনুযায়ী বাস কোম্পানিগুলো ভাড়া হাঁকছেন। গাবতলীতে দেখা গেছে, হানিফ, শ্যামলী, সোহাগ, জেআর, এসপি গোল্ডেন, সাকুরা ও ডিডি ডিলাক্স এসি পরিবহনের কোনো টিকিট নেই।
ঢাকা থেকে চুয়াডাঙ্গাগামী ডিডি ডিলাক্স পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, প্রচণ্ড গরমে এসি টিকিটের চাহিদা বেড়েছে। এসি টিকিট আমাদের কাছে এখন নেই। আসলে যেসব ফ্যামিলিতে ছোট বাচ্চা তারা কষ্ট করে হলেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে এসি বাসে যেতে চান। এসি বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া এক হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া নানা স্থানে নানা ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে দুই দফায় বাড়ানোর আগে এসি বাসের ভাড়ায় কিছুটা লাগাম থাকলেও এখন তা নাগালের বাইরে। এর বড় কারণ সরকার এ বাসগুলোর ভাড়া নির্ধারণ করে না। তাই মালিকপক্ষ নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া আদায় করছে। ফলে বাসের ভাড়া নিয়ে চলছে চরম নৈরাজ্য। বেশি ভাড়া আদায় নিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে টিকিট কাউন্টারের লোকদের কথা কাটাকাটি হচ্ছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, একরকম জিম্মি করেই বেশি ভাড়া আদায় করছে বাস কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অনেকেই চরম ক্ষোভ আর হতাশায় বলছেন, এসি পরিবহনের ভাড়া নিয়ন্ত্রণ করার মতো কেউই নেই।
তবে বিআরটিএ বলছে, এসি বাসের ভাড়া নির্ধারণ করে দেওয়া কঠিন। এখানে নিয়ম-কানুন আরোপ করতে গেলে অনেক পরিবহন সেবা প্রতিষ্ঠান টিকতে পারবে না।
বিআরটিএ পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী বলেন, এসি বাসে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়নি। এসি বাস রেগুলেট করলে তারা চালাবে না। তাছাড়া দেশে দেখেন এসি বাস মাত্র এক শতাংশ। যার সামর্থ্য আছে তারাই এসি বাসে চড়ে। এটা রেগুলেট করলে এসি বাস বন্ধ হয়ে যাবে।