দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
  • 74

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দুই কমিশনারের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে নতুন দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় সার্চ কমিটি।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ছয় দফা বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে।

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে ছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

স্থানীয় নির্বাচনে বাদ পড়ল পোস্টার, বিলবোর্ডে অনুমতি

দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি আসাদুজ্জামান, প্রজ্ঞাপন জারি

Update Time : ০১:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।

সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দুই কমিশনারের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমপর্যায়ের করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বিকেলে নতুন দুদক চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় সার্চ কমিটি।

বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। তিনি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে দীর্ঘ সময় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নতুন কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক কর কমিশনার। তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেছেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব। তিনি ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন।

গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ছয় দফা বৈঠকের মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনা করে তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে।

চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে ছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এসব কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।