প্রায় একমাস ধরে ডিমের দাম চড়া, বেড়েছে আরও কিছু পণ্যের দাম

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • 33

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রায় এক মাস ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম চড়া। প্রতি ডজন ডিম এখনো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এর মধ্যেই নতুন করে বেড়েছে চিনি, আটা ও ময়দার দাম। গত এক সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। পাশাপাশি মোড়কজাত চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা।

তবে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির খবরও আছে। পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা ও কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকায়। কেউ এক হালি কিনতে গেলে ৫৫ টাকা দিতে হচ্ছে। এই হিসেবে এক ডজন ডিমের দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ টাকা। তবে এক ডজন কিনলে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা রাখা হচ্ছে।

বাজারে ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিম ও মুরগির মূল্যবৃদ্ধি মূলত জোগান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় অনেক খামারির ডিম নষ্ট হয়েছে এবং মুরগি ও ডিম ভেসে গেছে। যার ফলে বাজারে জোগানের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে।

সরবরাহ সংকটে চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী

বাজারে খোলা চিনির সরবরাহ কমায় দাম দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সব দোকানে এখন খোলা চিনি পাওয়াও যাচ্ছে না। আবার অধিকাংশ দোকানে মোড়কজাত চিনি নেই।

মুগদা বাজারে অন্তত ৭টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে ২টি দোকানে মোড়কজাত চিনি এবং ৫টি দোকানে খোলা চিনি পাওয়া যায়। বেশির ভাগ খুচরা দোকানে খোলা চিনি ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো দোকানে দাম নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা।

এর আগে গত সপ্তাহে খোলা চিনির দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি। তারও এক সপ্তাহ আগে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় চিনি পাওয়া গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মূলত মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মিল গেট থেকে আগের তুলনায় সরবরাহও কমে গেছে।

মুগদা বাজারের ভাই-ভাই জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী লিয়াকত হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা চিনি কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে।

প্যাকেট চিনি না পেয়ে খোলা চিনি কিনছেন ক্রেতারা

এদিকে চিনির সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক ক্রেতারা। শনিবার সকালে মানিকনগর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ওয়াসা রোডের বাসিন্দা আজমল হোসেন জানান, এক প্যাকেট চিনি কিনতে তাকে তিনটি দোকান ঘুরতে হয়েছে। কোথাও প্যাকেটজাত চিনি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি দোকান থেকে খোলা চিনি কিনেছেন।

তার অভিযোগ, গত মাসের তুলনায় একই চিনির জন্য এখন কেজিতে ১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলেই কেন খুচরা বাজারে চিনির দাম এতটা বেড়ে যাবে-এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই বাজারের আবু সাঈদ জেনারেল স্টোরে এক ক্রেতা প্যাকেটজাত চিনি চাইলে দোকানে তা না থাকায় বিক্রেতা তাকে পাশের দোকান থেকে এক কেজি খোলা চিনি এনে দেন। বিক্রেতা জানান, ক্রেতার কাছ থেকে প্যাকেট চিনির নির্ধারিত দাম ১১০ টাকা নেওয়া হলেও পাশের দোকান থেকে খোলা চিনি কিনতে হয়েছে ১১৫ টাকায়। ফলে ক্রেতাকে ধরে রাখতে তাকে কেজিতে ৫ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।

বেড়েছে আটা-ময়দার দামও

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক মাসের ব্যবধানে মোড়কজাত আটার দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম

তবে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা ও কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। রসুন ও আদার দাম কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে দেশি রসুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেশির ভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার নিচে

বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম এখন কেজিতে ১০০ টাকার নিচে। করলা, কাঁকরোল, বেগুন ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তবে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি; এসব পণ্য ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বিকল্প উৎস খুঁজছে সরকার : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রায় একমাস ধরে ডিমের দাম চড়া, বেড়েছে আরও কিছু পণ্যের দাম

Update Time : ০২:১৮:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রায় এক মাস ধরে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম চড়া। প্রতি ডজন ডিম এখনো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এর মধ্যেই নতুন করে বেড়েছে চিনি, আটা ও ময়দার দাম। গত এক সপ্তাহে খোলা চিনির দাম কেজিতে আরও ৫ টাকা বেড়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায় উঠেছে। পাশাপাশি মোড়কজাত চিনির সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন ক্রেতারা।

তবে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির খবরও আছে। পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা ও কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকায় ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬৫ টাকায়। কেউ এক হালি কিনতে গেলে ৫৫ টাকা দিতে হচ্ছে। এই হিসেবে এক ডজন ডিমের দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ টাকা। তবে এক ডজন কিনলে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা রাখা হচ্ছে।

বাজারে ডিমের পাশাপাশি ব্রয়লার মুরগির দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিআইএ) মহাসচিব এম সাফির রহমান বলেন, ডিম ও মুরগির মূল্যবৃদ্ধি মূলত জোগান ও চাহিদার ওপর নির্ভর করে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যার কারণে দেশের অসংখ্য লেয়ার খামারি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় অনেক খামারির ডিম নষ্ট হয়েছে এবং মুরগি ও ডিম ভেসে গেছে। যার ফলে বাজারে জোগানের বড় ঘাটতি তৈরি হয়েছে এবং দাম বেড়েছে।

সরবরাহ সংকটে চিনির দাম ঊর্ধ্বমুখী

বাজারে খোলা চিনির সরবরাহ কমায় দাম দ্রুত বাড়ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সব দোকানে এখন খোলা চিনি পাওয়াও যাচ্ছে না। আবার অধিকাংশ দোকানে মোড়কজাত চিনি নেই।

মুগদা বাজারে অন্তত ৭টি মুদিদোকানে খোঁজ নিয়ে ২টি দোকানে মোড়কজাত চিনি এবং ৫টি দোকানে খোলা চিনি পাওয়া যায়। বেশির ভাগ খুচরা দোকানে খোলা চিনি ১১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। কোনো কোনো দোকানে দাম নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা।

এর আগে গত সপ্তাহে খোলা চিনির দাম ছিল ১১০ থেকে ১১৫ টাকা কেজি। তারও এক সপ্তাহ আগে ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় চিনি পাওয়া গেছে।

বিক্রেতারা বলছেন, মূলত মিলগেট ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ার কারণে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে মিল গেট থেকে আগের তুলনায় সরবরাহও কমে গেছে।

মুগদা বাজারের ভাই-ভাই জেনারেল স্টোরের স্বত্বাধিকারী লিয়াকত হোসেন বলেন, দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি বাজারে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম প্রায় ৬৫০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে এক বস্তা চিনি কিনতে সাড়ে ৫ হাজার টাকার বেশি লাগছে।

প্যাকেট চিনি না পেয়ে খোলা চিনি কিনছেন ক্রেতারা

এদিকে চিনির সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন অনেক ক্রেতারা। শনিবার সকালে মানিকনগর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ওয়াসা রোডের বাসিন্দা আজমল হোসেন জানান, এক প্যাকেট চিনি কিনতে তাকে তিনটি দোকান ঘুরতে হয়েছে। কোথাও প্যাকেটজাত চিনি না পেয়ে শেষ পর্যন্ত একটি দোকান থেকে খোলা চিনি কিনেছেন।

তার অভিযোগ, গত মাসের তুলনায় একই চিনির জন্য এখন কেজিতে ১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। উৎপাদন কমে গেলেই কেন খুচরা বাজারে চিনির দাম এতটা বেড়ে যাবে-এ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একই বাজারের আবু সাঈদ জেনারেল স্টোরে এক ক্রেতা প্যাকেটজাত চিনি চাইলে দোকানে তা না থাকায় বিক্রেতা তাকে পাশের দোকান থেকে এক কেজি খোলা চিনি এনে দেন। বিক্রেতা জানান, ক্রেতার কাছ থেকে প্যাকেট চিনির নির্ধারিত দাম ১১০ টাকা নেওয়া হলেও পাশের দোকান থেকে খোলা চিনি কিনতে হয়েছে ১১৫ টাকায়। ফলে ক্রেতাকে ধরে রাখতে তাকে কেজিতে ৫ টাকা লোকসান দিতে হয়েছে।

বেড়েছে আটা-ময়দার দামও

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, এক সপ্তাহের ব্যবধানে খোলা আটা ও ময়দার দাম কেজিতে প্রায় ৩ টাকা বেড়েছে।

বর্তমানে বাজারে খোলা আটা প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এক মাসের ব্যবধানে মোড়কজাত আটার দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে।

কমেছে পেঁয়াজ, রসুন ও আদার দাম

তবে বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমেছে। এর মধ্যে পেঁয়াজ, রসুন, আমদানি করা আদা ও কয়েক ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে।

পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা কমে বর্তমানে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা হয়েছে। রসুন ও আদার দাম কেজিতে প্রায় ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে দেশি রসুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, আমদানি করা রসুন ১৪০ থেকে ২০০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১২০ থেকে ১৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বেশির ভাগ সবজির দাম ১০০ টাকার নিচে

বাজারে বেশির ভাগ সবজির দাম এখন কেজিতে ১০০ টাকার নিচে। করলা, কাঁকরোল, বেগুন ও কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে।

পটোল, ঢ্যাঁড়স, বরবটি, ঝিঙে ও চিচিঙ্গার দাম কেজিতে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। তবে কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম তুলনামূলক বেশি; এসব পণ্য ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।