ফেরার চিন্তাও করেন না শাবনাজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৩
  • 144

বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় নেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনাজ। প্রখ্যাত পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তার। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকতেই বিদায় নেন সিনেপর্দা থেকে। বিয়ের পর থেকে স্বামী, সংসার ও সন্তান নিয়েই রাজ্যের ব্যস্ততা তার।
সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করেছেন শাবনাজ। এখন আর কোথাও দেখা যায় না তাকে। আড়ালে থাকা শাবনাজের হঠাৎ দেখা মেলে চলচ্চিত্র কিংবা নাটকসংশ্লিষ্ট কিছু ঘরোয়া আয়োজনে। চলতি মাসের শুরুতে শাবনাজের দেখা মেলে প্রয়াত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কন্যা দিঠি আনোয়ারের বাসায়। শাবনাজ জানালেন, নিজেকে এখন একেবারে অন্য এক জীবনের বাসিন্দা করে রেখেছেন, যে জীবনে সংসার, স্বামী ও সন্তান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চান না।
চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সহশিল্পী, সেই সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক নাঈমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি জানালেন, ‘বিষের বাঁশি’ ছবির কাজ করতে গিয়ে দুজনের প্রেমের শুরু। তারপর ‘লাভ’ ছবির কাজ করতে গিয়ে ভালোবাসার পালে জোর হাওয়া লাগে। তবে শুরুর দিকে দুজনেই বেশ চালাকি করেন। একে অপরকে বুঝতে দিতেন না ভালো লাগার বিষয়টি।
শাবনাজ বলেন, ‘নাঈমের জন্য মেয়েরা তো অনেক পাগল ছিল। আমি বুঝতে পারতাম। তবে আমার যে ওকে ভালো লাগত, তা বুঝতে দিতাম না। দেখতে তো আমিও কম সুন্দরী ছিলাম না (হাসি)। আমিও ভাব নিয়ে থাকতাম। সে কথা না বললে আমিও বলব না—এমনটাই ছিল হাবভাব।’
অভিনয় ক্যারিয়ারের মাত্র তিন বছরের মাথায় শাবনাজ ও নাঈম দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর দুই বছর ছবিতে অভিনয় করেন শাবনাজ।
চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটার পর পরবর্তী পাঁচ বছর একটানা ২৬টি ছবিতে অভিনয় করেন শাবনাজ। ‘চাঁদনী’ ছাড়া অন্য ছবিগুলো হচ্ছে ‘দিল’, ‘জিদ’, ‘আনজুমান’, ‘লাভ’, ‘চোখে চোখে’, ‘টাকার অহংকার’, ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’, ‘সোনিয়া’, ‘অনুতপ্ত’। এসব ছবিতে নাঈম ছাড়াও ইলিয়াস কাঞ্চন, বাপ্পারাজ, সালমান শাহ, অমিত হাসান, মান্নারা ছিলেন তার সহশিল্পী।
প্রেমের গল্পেই বেশি দেখা যেত শাবনাজকে। কিন্তু মনে মনে তিনি চাইতেন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করতে। কিন্তু নির্মাতারা তাকে নিয়ে তখন তেমনটা ভাবেননি। তাই নিজে নিজেই সরে গেলেন দৃশ্যপট থেকে। তার কথায়, ‘সবই একঘেয়ে প্রেমের গল্প। আমি শুধু নায়িকা হয়ে থাকতে চাইনি। শিল্পী হতে চেয়েছি। তাই বৈচিত্র্যময় গল্প খুঁজছিলাম। পাইনি। একজন অভিনয়শিল্পী মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন অসাধারণ চরিত্র হয়ে।’
২০০৭ সালে সর্বশেষ শাবনাজকে দেখা গেছে আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘ডাক্তার বাড়ি’ ছবিতে। বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের অনুরোধ ছবিটিতে অভিনয় করতে রাজি হন তিনি। এরপর থেকে পুরোপুরি আড়ালে চলে যান। বর্তমানে স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়েই সুখে আছেন অভিনেত্রী। অভিনয়জীবন নিয়ে নেই কোনো আক্ষেপ। ফেরার চিন্তাও করেন না তিনি।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

ফেরার চিন্তাও করেন না শাবনাজ

Update Time : ০২:৫৬:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৩

বিনোদন ডেস্ক
দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে রুপালি পর্দায় নেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবনাজ। প্রখ্যাত পরিচালক এহতেশামের ‘চাঁদনী’ সিনেমা দিয়ে ঢালিউডে অভিষেক ঘটে তার। এরপর শুধুই এগিয়ে চলা। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকতেই বিদায় নেন সিনেপর্দা থেকে। বিয়ের পর থেকে স্বামী, সংসার ও সন্তান নিয়েই রাজ্যের ব্যস্ততা তার।
সিনেমার পাশাপাশি নাটকেও অভিনয় করেছেন শাবনাজ। এখন আর কোথাও দেখা যায় না তাকে। আড়ালে থাকা শাবনাজের হঠাৎ দেখা মেলে চলচ্চিত্র কিংবা নাটকসংশ্লিষ্ট কিছু ঘরোয়া আয়োজনে। চলতি মাসের শুরুতে শাবনাজের দেখা মেলে প্রয়াত গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ারের কন্যা দিঠি আনোয়ারের বাসায়। শাবনাজ জানালেন, নিজেকে এখন একেবারে অন্য এক জীবনের বাসিন্দা করে রেখেছেন, যে জীবনে সংসার, স্বামী ও সন্তান ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে চান না।
চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সহশিল্পী, সেই সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক নাঈমের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। তিনি জানালেন, ‘বিষের বাঁশি’ ছবির কাজ করতে গিয়ে দুজনের প্রেমের শুরু। তারপর ‘লাভ’ ছবির কাজ করতে গিয়ে ভালোবাসার পালে জোর হাওয়া লাগে। তবে শুরুর দিকে দুজনেই বেশ চালাকি করেন। একে অপরকে বুঝতে দিতেন না ভালো লাগার বিষয়টি।
শাবনাজ বলেন, ‘নাঈমের জন্য মেয়েরা তো অনেক পাগল ছিল। আমি বুঝতে পারতাম। তবে আমার যে ওকে ভালো লাগত, তা বুঝতে দিতাম না। দেখতে তো আমিও কম সুন্দরী ছিলাম না (হাসি)। আমিও ভাব নিয়ে থাকতাম। সে কথা না বললে আমিও বলব না—এমনটাই ছিল হাবভাব।’
অভিনয় ক্যারিয়ারের মাত্র তিন বছরের মাথায় শাবনাজ ও নাঈম দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর ভালোবেসে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর দুই বছর ছবিতে অভিনয় করেন শাবনাজ।
চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটার পর পরবর্তী পাঁচ বছর একটানা ২৬টি ছবিতে অভিনয় করেন শাবনাজ। ‘চাঁদনী’ ছাড়া অন্য ছবিগুলো হচ্ছে ‘দিল’, ‘জিদ’, ‘আনজুমান’, ‘লাভ’, ‘চোখে চোখে’, ‘টাকার অহংকার’, ‘ঘরে ঘরে যুদ্ধ’, ‘সোনিয়া’, ‘অনুতপ্ত’। এসব ছবিতে নাঈম ছাড়াও ইলিয়াস কাঞ্চন, বাপ্পারাজ, সালমান শাহ, অমিত হাসান, মান্নারা ছিলেন তার সহশিল্পী।
প্রেমের গল্পেই বেশি দেখা যেত শাবনাজকে। কিন্তু মনে মনে তিনি চাইতেন বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করতে। কিন্তু নির্মাতারা তাকে নিয়ে তখন তেমনটা ভাবেননি। তাই নিজে নিজেই সরে গেলেন দৃশ্যপট থেকে। তার কথায়, ‘সবই একঘেয়ে প্রেমের গল্প। আমি শুধু নায়িকা হয়ে থাকতে চাইনি। শিল্পী হতে চেয়েছি। তাই বৈচিত্র্যময় গল্প খুঁজছিলাম। পাইনি। একজন অভিনয়শিল্পী মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন অসাধারণ চরিত্র হয়ে।’
২০০৭ সালে সর্বশেষ শাবনাজকে দেখা গেছে আজিজুর রহমান পরিচালিত ‘ডাক্তার বাড়ি’ ছবিতে। বরেণ্য অভিনেতা এ টি এম শামসুজ্জামানের অনুরোধ ছবিটিতে অভিনয় করতে রাজি হন তিনি। এরপর থেকে পুরোপুরি আড়ালে চলে যান। বর্তমানে স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়েই সুখে আছেন অভিনেত্রী। অভিনয়জীবন নিয়ে নেই কোনো আক্ষেপ। ফেরার চিন্তাও করেন না তিনি।