ভারতের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : আইএসপিআর

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৩:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫
  • 119

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতর অভ্যুত্থান ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘দ্যা ইকোনোমিক টাইমস এবং দ্যা ইন্ডিয়া টুডেসহ কিছু ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থিতিশীলতা এবং সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত এসব বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ এবং সেনাপ্রধানের দক্ষ নেতৃত্বে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কমান্ড চেইনটি শক্তিশালী এবং সিনিয়র জেনারেলসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব সদস্য সংবিধান, চেইন অব কমান্ড এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাদের আনুগত্যে অবিচল। পদমর্যাদার মধ্যে অনৈক্য বা আনুগত্যহীনতার যেকোনো অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট এবং বিদ্বেষপূর্ণ।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্য ইকোনমিক টাইমস বারবার এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। এই সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র এক মাস আগে, গত ২৬ জানুয়ারি একই ধরনের মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এই ধরনের আচরণ এই সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্দেশ্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। তদুপরি, বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল এবং কয়েকটি অখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেলও এই মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে আরো তীব্র করে তুলেছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি মেনে চলার পরিবর্তে, তারা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।’

আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে, বিশেষ করে ভারত বেইজড সংবাদমাধ্যমগুলোকে, ভালো সাংবাদিকতা অনুশীলন মেনে চলার এবং যাচাই না করা এবং চাঞ্চল্যকর গল্প প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করা হচ্ছে যে এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) থেকে মন্তব্য চাওয়া এবং যাচাই করা উচিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে সঠিক এবং অফিশিয়াল তথ্য দেয়ার জন্য আইএসপিআর সব সময় অ্যাভেইলেবল রয়েছে।’

আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। আমরা সকল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

৭ নভেম্বরের চেতনায় দেশবিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখতে বিএনপি প্রস্তুত: রিজভী

ভারতের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে : আইএসপিআর

Update Time : ০৩:২৫:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ মার্চ ২০২৫

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতর অভ্যুত্থান ও চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়া নিয়ে প্রকাশিত সংবাদকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জনসংযোগ শাখা আইএসপিআর এ বিষয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, ‘দ্যা ইকোনোমিক টাইমস এবং দ্যা ইন্ডিয়া টুডেসহ কিছু ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নিয়ে যে সংবাদ প্রকাশ করে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর স্থিতিশীলতা এবং সুনাম ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশে ইচ্ছাকৃত এসব বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে।’

এতে আরো বলা হয়, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সুসংগঠিত, ঐক্যবদ্ধ এবং সেনাপ্রধানের দক্ষ নেতৃত্বে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কমান্ড চেইনটি শক্তিশালী এবং সিনিয়র জেনারেলসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সব সদস্য সংবিধান, চেইন অব কমান্ড এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তাদের আনুগত্যে অবিচল। পদমর্যাদার মধ্যে অনৈক্য বা আনুগত্যহীনতার যেকোনো অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে বানোয়াট এবং বিদ্বেষপূর্ণ।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিশেষ করে উদ্বেগের বিষয় হলো, দ্য ইকোনমিক টাইমস বারবার এই ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় লিপ্ত হয়েছে। এই সাম্প্রতিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাত্র এক মাস আগে, গত ২৬ জানুয়ারি একই ধরনের মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। এই ধরনের আচরণ এই সংবাদমাধ্যমগুলোর উদ্দেশ্য এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করে। তদুপরি, বেশ কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল এবং কয়েকটি অখ্যাত টেলিভিশন চ্যানেলও এই মিথ্যা প্রচারণা চালিয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকে আরো তীব্র করে তুলেছে। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতি মেনে চলার পরিবর্তে, তারা ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেয়ার এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে বলে মনে হচ্ছে।’

আইএসপিআর এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে, বিশেষ করে ভারত বেইজড সংবাদমাধ্যমগুলোকে, ভালো সাংবাদিকতা অনুশীলন মেনে চলার এবং যাচাই না করা এবং চাঞ্চল্যকর গল্প প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। আশা করা হচ্ছে যে এই ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তাদের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ (আইএসপিআর) থেকে মন্তব্য চাওয়া এবং যাচাই করা উচিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে সঠিক এবং অফিশিয়াল তথ্য দেয়ার জন্য আইএসপিআর সব সময় অ্যাভেইলেবল রয়েছে।’

আইএসপিআর জানিয়েছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতির সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা এবং নিরাপত্তা রক্ষার প্রতিশ্রুতিতে অটল রয়েছে। আমরা সকল সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করার এবং অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে এমন মিথ্যা তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।’