হাসিনার চাচাতো ভাই নিয়েছেন ভারতের নাগরিকত্ব!

সেখ জুয়েল এখন বিধান মল্লিক!


পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ সালাহউদ্দিন ওরফে সেখ জুয়েল এখন বিধান মল্লিক। ভারতীয় আধার কার্ডে তিনি বনে গেছেন বিধান মল্লিক হিসেবে। তার বাবার নাম শেখ আবু নাছের হলেও নতুন পরিচয়ে বাবা এখন মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। নতুন পরিচয়ে চষে বেড়াচ্ছেন ভারতের এপাশ থেকে ওপাশ।

বাংলাদেশের সাবেক প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজার এমন কাণ্ডে রীতিমতো কপালে চোখ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। রীতিমতো বিব্রতবোধ করছে দেশের সচেতন মহল। বলছে, শেখ পরিবারের এমন প্রভাবশালী সদস্যের এমন কাজ করাটা কোনোভাবেই মানায়নি। তবে শুধু সেখ জুয়েল নন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজার এমন কাণ্ডে রীতিমতো কপালে চোখ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। রীতিমতো বিব্রতবোধ করছে দেশের সচেতন মহল। বলছে, শেখ পরিবারের এমন প্রভাবশালী সদস্যের এমন কাজ করাটা কোনোভাবেই মানায়নি। তবে শুধু সেখ জুয়েল নন।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শেখ পরিবারের অনেক সদস্যই বর্তমানে ভারতীয় আধার কার্ড গ্রহণ করেছেন। সেখ জুয়েলের ভারতীয় আধার কার্ডের একটি কপি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে খুলনা-২ সংসদীয় আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেখ সালাহউদ্দিন। ২০২৪ সালেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কাগজপত্রে তিনি সেখ সালাহউদ্দিন হলেও সর্বত্র তিনি সেখ জুয়েল নামেই বেশি পরিচিত। গত ৫ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পরপরই সেখ জুয়েলসহ শেখ পরিবারের প্রায় সবাই ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে শেখ পরিবারের অনেকেই ৬২৬ জনের মধ্যে ছিলেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সময় সুুযোগমতো ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে বের হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।
একাধিক সূত্র বলছে, সেখ জুয়েলের মতো শেখ পরিবারের অনেক সদস্যই ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বিশেষ প্রক্রিয়ায়। আধার কার্ডে শুধু নিজের নাম নয়, পাল্টে ফেলেছেন বাবার নামও। ওই কার্ড দিয়ে তারা ভারতে চলাফেরা করে আসছেন স্বাধীনভাবে। আবার ভারতে আশ্রয় নেওয়া অনেককে আবার ট্রাভেল কার্ডও দেওয়া হয়েছে। সেই কার্ড ব্যবহার করে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারছেন। তবে সেখ জুয়েল কলকাতাতেই বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তার বড় ভাই শেখ হেলাল, শেখ সোহেল এবং ছোট ভাই শেখ রুবেলও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেই অবস্থান করছেন। সেখ জুয়েলের আধার কার্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, তাতে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল নাম পাল্টে হয়েছেন বিধান মল্লিক। বাবার নাম মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৫৯। আধার কার্ড নম্বর ৮৪৪২০৫৬৭৫৭২৬। ঠিকানা, শাড়াপুল শাড়াপুল, ডাকবাংলো স্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ ৭৪৩২৮৬। এদিকে সেখ জুয়েলের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নাম হলো- সেখ সালাহউদ্দিন (SHAIKH SALAUDDIN)। বাবা সেখ আবু নাছের। মাতা- রাজিয়া খাতুন। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬৭। পরিচয়পত্রের নম্বর ১৯৬৭২৬৯২৬১৯০০০০৩৩। ঠিকানা বাসা-৩৬৩, গ্রাম/রাস্তা- শেরেবাংলা রোড, ডাকঘর সোনাডাঙ্গা-৯১০০। সোনাডাঙ্গা, খুলনা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

হাসিনার চাচাতো ভাই নিয়েছেন ভারতের নাগরিকত্ব!

সেখ জুয়েল এখন বিধান মল্লিক!

Update Time : ০৬:০৬:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ মার্চ ২০২৫


পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই সেখ সালাহউদ্দিন ওরফে সেখ জুয়েল এখন বিধান মল্লিক। ভারতীয় আধার কার্ডে তিনি বনে গেছেন বিধান মল্লিক হিসেবে। তার বাবার নাম শেখ আবু নাছের হলেও নতুন পরিচয়ে বাবা এখন মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। নতুন পরিচয়ে চষে বেড়াচ্ছেন ভারতের এপাশ থেকে ওপাশ।

বাংলাদেশের সাবেক প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজার এমন কাণ্ডে রীতিমতো কপালে চোখ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। রীতিমতো বিব্রতবোধ করছে দেশের সচেতন মহল। বলছে, শেখ পরিবারের এমন প্রভাবশালী সদস্যের এমন কাজ করাটা কোনোভাবেই মানায়নি। তবে শুধু সেখ জুয়েল নন।
বাংলাদেশের সাবেক প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ভাতিজার এমন কাণ্ডে রীতিমতো কপালে চোখ উঠেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের। রীতিমতো বিব্রতবোধ করছে দেশের সচেতন মহল। বলছে, শেখ পরিবারের এমন প্রভাবশালী সদস্যের এমন কাজ করাটা কোনোভাবেই মানায়নি। তবে শুধু সেখ জুয়েল নন।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, দেশের অন্যতম প্রভাবশালী শেখ পরিবারের অনেক সদস্যই বর্তমানে ভারতীয় আধার কার্ড গ্রহণ করেছেন। সেখ জুয়েলের ভারতীয় আধার কার্ডের একটি কপি ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে এসে পৌঁছেছে। ২০১৮ সালে খুলনা-২ সংসদীয় আসন থেকে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সেখ সালাহউদ্দিন। ২০২৪ সালেও তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কাগজপত্রে তিনি সেখ সালাহউদ্দিন হলেও সর্বত্র তিনি সেখ জুয়েল নামেই বেশি পরিচিত। গত ৫ আগস্টে গণ অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকার পতনের পরপরই সেখ জুয়েলসহ শেখ পরিবারের প্রায় সবাই ভারতে আশ্রয় নেন। এর আগে শেখ পরিবারের অনেকেই ৬২৬ জনের মধ্যে ছিলেন সেনাবাহিনীর হেফাজতে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে সময় সুুযোগমতো ক্যান্টনমেন্টের নিরাপত্তা হেফাজত থেকে বের হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে চলে যান।
একাধিক সূত্র বলছে, সেখ জুয়েলের মতো শেখ পরিবারের অনেক সদস্যই ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন বিশেষ প্রক্রিয়ায়। আধার কার্ডে শুধু নিজের নাম নয়, পাল্টে ফেলেছেন বাবার নামও। ওই কার্ড দিয়ে তারা ভারতে চলাফেরা করে আসছেন স্বাধীনভাবে। আবার ভারতে আশ্রয় নেওয়া অনেককে আবার ট্রাভেল কার্ডও দেওয়া হয়েছে। সেই কার্ড ব্যবহার করে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে পারছেন। তবে সেখ জুয়েল কলকাতাতেই বেশির ভাগ সময় কাটাচ্ছেন। তার বড় ভাই শেখ হেলাল, শেখ সোহেল এবং ছোট ভাই শেখ রুবেলও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতাতেই অবস্থান করছেন। সেখ জুয়েলের আধার কার্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, তাতে সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল নাম পাল্টে হয়েছেন বিধান মল্লিক। বাবার নাম মুদিন্দ্রনাথ মল্লিক। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৫৯। আধার কার্ড নম্বর ৮৪৪২০৫৬৭৫৭২৬। ঠিকানা, শাড়াপুল শাড়াপুল, ডাকবাংলো স্বরূপনগর, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিমবঙ্গ ৭৪৩২৮৬। এদিকে সেখ জুয়েলের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী নাম হলো- সেখ সালাহউদ্দিন (SHAIKH SALAUDDIN)। বাবা সেখ আবু নাছের। মাতা- রাজিয়া খাতুন। জন্মতারিখ ১ জানুয়ারি ১৯৬৭। পরিচয়পত্রের নম্বর ১৯৬৭২৬৯২৬১৯০০০০৩৩। ঠিকানা বাসা-৩৬৩, গ্রাম/রাস্তা- শেরেবাংলা রোড, ডাকঘর সোনাডাঙ্গা-৯১০০। সোনাডাঙ্গা, খুলনা।