২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 5

দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি মধ্যে এ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক ভবন এবং আওতাধীন ভবনগুলোর ছাদে ব্যাটারিসহ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকা বাধ্যতামূলক।

এতে আরও বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়া যাবে। এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলার সব হাট ও বাজারে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১০-এর উপবিধি (৩) ও (৫) অনুযায়ী হাট ও বাজারের ইজারালব্ধ আয় থেকে নির্ধারিত অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ইজারালব্ধ আয়ের ১০ শতাংশ এবং উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত আরও ১০ শতাংশ অর্থ থেকে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।

সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেডের ছাদ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, হাট ও বাজারে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদ এবং দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

অজ্ঞাত নম্বর থেকে অপ্রতিমের বাবা-মাকে হুমকি, থানায় জিডি

২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সব হাট-বাজারে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ

Update Time : ১২:০০:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের হাট ও বাজারে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি মধ্যে এ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা-২ শাখা থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন দপ্তর, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থানীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিদ্যমান দাপ্তরিক ভবন এবং আওতাধীন ভবনগুলোর ছাদে ব্যাটারিসহ সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। এসব ব্যবস্থায় ন্যূনতম দুই ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ থাকা বাধ্যতামূলক।

এতে আরও বলা হয়, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নেট মিটারিং পদ্ধতিতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হবে।

নেট মিটারিং নির্দেশিকা, ২০২৫ অনুযায়ী জাতীয় গ্রিডে সরবরাহকৃত বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের বিপরীতে ১০ টাকা ৫০ পয়সা হারে অর্থ পাওয়া যাবে। এর ফলে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি উপজেলার সব হাট ও বাজারে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

এ জন্য হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ১০-এর উপবিধি (৩) ও (৫) অনুযায়ী হাট ও বাজারের ইজারালব্ধ আয় থেকে নির্ধারিত অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

সংশ্লিষ্ট হাট ও বাজারের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত ইজারালব্ধ আয়ের ১০ শতাংশ এবং উপজেলার অন্তর্গত হাট ও বাজারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত আরও ১০ শতাংশ অর্থ থেকে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন ও বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে হবে।

সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনকারী কোম্পানির সঙ্গে পরবর্তী ২০ বছর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে স্থাপিত সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার প্রতিটি হাট ও বাজারের স্থায়ী শেডের ছাদ এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বিভিন্ন বাজারে নির্মিত চার-পাঁচতলা ভবনের ছাদের আয়তন বিবেচনায় নিয়ে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, হাট ও বাজারে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ঘটবে, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা প্রশাসক, উপজেলা পরিষদ এবং দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।