ইতালিতে হামলা: দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০২:১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 9

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালিতে হামলার শিকার হন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে গিয়ে মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন বলে দাবি করেন তিনি।  

অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। দেশে ফিরেই বাঁধন জানান, এই হামলার জেরে সেখানে থাকা তার সিনেমার টিম তথা দলের সদস্যরা নাকি একরকম বর্জন করেছে তাকে!

হামলার পর ভেনিসে কতটা সহায়তা পেয়েছেন, তা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে বাঁধন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সাথে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পাওয়া নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর লিডোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’

দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। এত কষ্ট করে এই গরমে যারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

চুল কাটতে বের হয়ে সাত মাস পর ফিরল রায়হান, নেই এক পা ও কিডনি

ইতালিতে হামলা: দেশে ফিরে বাঁধনের আক্ষেপ—আমার টিমও আমাকে বর্জন করেছে

Update Time : ০২:১১:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৮৩তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ইতালিতে হামলার শিকার হন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। রুবাইয়াত হোসেন পরিচালিত ‘দ্য ডিফিকাল্ট ব্রাইড’ সিনেমার প্রদর্শনীতে অংশ নিতে গিয়ে মেস্ত্রে শহরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রবাসী কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হন বলে দাবি করেন তিনি।  

অনাকাঙ্ক্ষিত সেই ঘটনার পর সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে দেশে ফিরেছেন এই অভিনেত্রী। দেশে ফিরেই বাঁধন জানান, এই হামলার জেরে সেখানে থাকা তার সিনেমার টিম তথা দলের সদস্যরা নাকি একরকম বর্জন করেছে তাকে!

হামলার পর ভেনিসে কতটা সহায়তা পেয়েছেন, তা জানিয়ে বাঁধন বলেন, ‘ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর, ইতালি সরকার, আমাদের দেশের সরকার এবং ইতালিতে বাংলাদেশের দূতাবাস আমাকে সাপোর্ট করেছে, সাহায্য করেছে।’

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাননি জানিয়ে বাঁধন আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ‘কিন্তু আমার যে টিম, তারা আমাকে ডিজওন (disown) করেছে। ফেস্টিভ্যালের বাকি দিনগুলোতে তাদের সাথে অংশ নিতে নিষেধ করেছে। এমনকি পরবর্তীতে টরন্টো ফিল্ম ফেস্টিভালে যাওয়ার কথা থাকলেও তারা আমাকে সেখানেও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। তবে আমার কো-অ্যাক্টরদের মধ্যে সুনেরাহ, জায়নিন ও জায়নিনের মা আমাকে খুবই সাহায্য করেছেন।’

হামলার পর রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে পাওয়া নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই বাংলাদেশ সরকারের কাছে, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে। ঘটনার দিন রাতেই সরকারি দপ্তর থেকে আমার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতালিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর ভাইয়া প্রচণ্ড সাপোর্টিভ ছিলেন। ইতালি সরকার, ওখানকার কালচারাল মিনিস্টার, আন্ডার সেক্রেটারি এবং পুলিশ ডিপার্টমেন্ট প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা প্রোটেকশন দিয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তার কারণে ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভালের ডিরেক্টর লিডোতেই আমার থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।’

দেশবাসী ও সর্বস্তরের মানুষের সমর্থনের কথা স্মরণ করে বাঁধন বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ্‌, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দেশের মানুষ, রাজনৈতিক মতাদর্শ নির্বিশেষে বিরোধী ও সরকারি দলের নেতাকর্মী এবং প্রবাসী বাঙালিরা যে সাপোর্ট দিয়েছেন, তা আমি কখনো ভুলতে পারব না। এত কষ্ট করে এই গরমে যারা আমার জন্য অপেক্ষা করেছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’

উল্লেখ্য গত মঙ্গলবার মেস্ত্রে শহরে তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বাঁধনকে, যার ভিডিও পরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে মামলা দায়ের করেন অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেন।