ইয়াবা সেবন করে নারীকে নিয়ে ফূর্তি, পরে শ্বাসরোধে হত্যা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • 149

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইয়াবা সেবন করে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, ইয়াবা সেবনের পর ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তারা। পরে লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে শ্বাসরোধে হত্যার করে হাত-পা ও কোমড়ে ইট বেঁধে মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২০২২ সালের ২৫ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমন মিয়ার ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা ও কোমরে তিনটি ইট বাঁধা আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানা পুলিশ দুই মাস মামলাটি তদন্ত করে কোনো তথ্য না পেয়ে গাজীপুর পিবিআইয়ের কাছে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর থানার টেপিরবাড়ি গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. মোখলেসুর রহমান (৩১), একই গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো. খোকন মিয়া (২৭) ও মো. মাসুদ রানার ছেলে মো. রাজীব মোড়ল (২৬)। তাদের মধ্যে মোখলেসুর ও খোকন মিয়াকে মঙ্গলবার ভোরে ও রাজীব মোড়লকে পরদিন বুধবার রাতে টেপিরবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মরদেহটি সম্পূর্ণ পচে যাওয়ায় আঙুলের ছাপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার ৩-৪ দিন আগে তিন বন্ধু মিলে চায়ের দোকানে বসে ইয়াবা সেবনের পাশপাশি এক নারীকে এনে ফূর্তি করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন রাত ১০টার দিকে টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমনের বাড়ির পাশে নির্জন জায়গায় যান এবং ইয়াবা সেবন করেন তারা। সেখানে তারা প্রায়ই ইয়াবা সেবন করতো। ইয়াবা সেবনের পর ওই নারীর সঙ্গে তারা শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে লেনদেন নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে মোখলেস, খোকন ও রাজিবের কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তারা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর পাশের সুমনের মালিকানাধীন একটি ডোবায় হাত-পা ও কোমরে ইট বেঁধে মরদেহটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

জনপ্রিয়

খুলনায় গুলি, খুন ও হামলার ধারাবাহিকতা, বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা

ইয়াবা সেবন করে নারীকে নিয়ে ফূর্তি, পরে শ্বাসরোধে হত্যা

Update Time : ০৪:৫৬:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

গাজীপুরের শ্রীপুরে ইয়াবা সেবন করে এক নারীকে হত্যার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছেন, ইয়াবা সেবনের পর ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেন তারা। পরে লেনদেন নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে শ্বাসরোধে হত্যার করে হাত-পা ও কোমড়ে ইট বেঁধে মরদেহ পানিতে ডুবিয়ে দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, ২০২২ সালের ২৫ জুলাই গাজীপুরের শ্রীপুরের টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমন মিয়ার ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা ও কোমরে তিনটি ইট বাঁধা আনুমানিক ৩০ বছর বয়সী এক নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সজীব হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। থানা পুলিশ দুই মাস মামলাটি তদন্ত করে কোনো তথ্য না পেয়ে গাজীপুর পিবিআইয়ের কাছে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রত্যক্ষভাবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলে তারা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- গাজীপুরের শ্রীপুর থানার টেপিরবাড়ি গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে মো. মোখলেসুর রহমান (৩১), একই গ্রামের ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো. খোকন মিয়া (২৭) ও মো. মাসুদ রানার ছেলে মো. রাজীব মোড়ল (২৬)। তাদের মধ্যে মোখলেসুর ও খোকন মিয়াকে মঙ্গলবার ভোরে ও রাজীব মোড়লকে পরদিন বুধবার রাতে টেপিরবাড়ি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। মরদেহটি সম্পূর্ণ পচে যাওয়ায় আঙুলের ছাপ নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই অজ্ঞাত ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গাজীপুর পিবিআইয়ের উপপরিদর্শক মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ঘটনার ৩-৪ দিন আগে তিন বন্ধু মিলে চায়ের দোকানে বসে ইয়াবা সেবনের পাশপাশি এক নারীকে এনে ফূর্তি করার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই দিন রাত ১০টার দিকে টেপিরবাড়ি গ্রামের সুমনের বাড়ির পাশে নির্জন জায়গায় যান এবং ইয়াবা সেবন করেন তারা। সেখানে তারা প্রায়ই ইয়াবা সেবন করতো। ইয়াবা সেবনের পর ওই নারীর সঙ্গে তারা শারীরিক সম্পর্ক করেন। পরে লেনদেন নিয়ে ওই নারীর সঙ্গে মোখলেস, খোকন ও রাজিবের কথা কাটাকাটি হলে একপর্যায়ে তারা তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর পাশের সুমনের মালিকানাধীন একটি ডোবায় হাত-পা ও কোমরে ইট বেঁধে মরদেহটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান।

গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করে মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।