Dhaka ০৪:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় পিতা-মাতা জীবিত অবস্থায় সম্পদ নিয়ে বিরোধ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • 138

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা জেলার খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় পিতা মাতা জীবিত থাকতে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দফায় দফায় খালিশপুর থানা, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এর নিকট অভিযোগ দায়ের করলেও কোনভাবেই নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

খুলনা খালিশপুরের মুজগুন্নী দক্ষিন কাজীপাড়ায় কাজী নজরুল ইসলাম(৭০) বসবাস করেন। পরিবারে স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। বর্তমানে ছোট ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে কোন রকম জীবন যাপন করছেন। কিন্তু বসবাসরত তার এই বাড়ি নিয়ে যেন প্রতিনিয়তই বাধছে হট্টগোল। বাড়ির সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে প্রতিদিনই চলছে বিরোধ। নজরুল ইসলাম বলেন, “ছোট তিন মেয়ে রুবিনা লাকি, সাবিনা সুখি, শাবনুর সাথী ও তাদের স্বামীগন এজাজ পারভেজ বাপ্পী, তৈয়েবুর রহমান তপু ও মোশাররফ হোসেন এর নিকট হেনস্থার স্বীকার হচ্ছি। জোরপূর্বক বাড়ির সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে তারা।”

গত বছরের সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে খুলনা জেল কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত মেঝ মেয়ের স্বামী গাজী তৈয়েবুর রহমান তপুর বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন নজরুল ইসলাম। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, ঘর জামাই থাকাকালীন সময়ে মেঝো মেয়ের স্বামী তপু অভিনব কায়দায় তার নিজের ও স্ত্রীর জমি লিখে স্বাক্ষর করে নেয়। পরবর্তীতে ব্যাবহৃত সেফটি ট্যাংকি ও পানির লাইন জোরপূর্বক দখলে বাধা দেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়। সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন মর্মে উল্লেখ করা হয় জিডি’তে।

এছাড়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী মালা ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, “মেঝ মেয়ে সাবিনা সুখি ও তার স্বামী তপু পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে সাময়িকভাবে পশ্চিম পাশের বাসায় থাকতে দেওয়া হয়। তখন থেকেই শশুর শাশুড়ীর সম্পত্তির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার। শশুর-শাশুড়ী শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ায় বিভিন্ন ছলচাতুরীর মাধ্যমে সম্পত্তির কিছু অংশ দখলে নেয়। বর্তমানে জোরপূর্বক পানির লাইন নেওয়ার জন্য অনেক হুমকি প্রদান করেন। ”
এছাড়া তিনি জেল পুলিশে কর্মরত থাকায় বিভিন্ন সময়ে হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন তার শাশুড়ী।

এবিষয়ে গাজি তৈয়েবুর রহমান তপুর নিকট জানতে ফোনোকলে একাধিকবার চেষ্টা করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এ সম্পর্কে এ পরিবারের বড় মেয়ে সুবর্ণা স্বপ্না বলেন,
“আমার ছোট তিন বোন এ বাড়ীর সম্পদ দখল করার জন্য ভাড়াটিয়াদের উপর অত্যাচার করে। কদিন আগে এক ভাড়াটিয়াকে মারপিট করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।” এছাড়া তিনি বলেন “আমার বাবা মা’কে নিয়ে অসংগতিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমার তিন বোন ও তাদের স্বামীগন।”
এছাড়া তাদের চাচাতো ভাই কাজী মামুন ওরফে রমজান এর যোগসাজশে এসকল কর্মকাণ্ড করছেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ রমজানের বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি ভাংচুর, চাঁদা দাবি ও মারপিটের অভিযোগে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

তবে এ জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে অন্য তিন বোনের সাথে কথা বললে তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন। ছোট বোন সাথী বলেন, “আমার বাবা-মা, বড় বোন, ছোট ভাই সকলে ভাড়াটিয়া দের দিয়ে অসামাজিক কাজ করায়। এছাড়া মাদকের সাথে সম্পৃক্ত আছে তারা।” তিনি বলেন, এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে গণপিটিশন দিয়েছে। জমি জায়গা নিয়ে কোন বিরোধ নেই।”

এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গিয়াস আল মুনির এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” এটা পারিবারিক একটি ঝামেলা। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে খালিশপুর থানা জোনের সহকারি কমিশনার উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর পরেও কোনো অভিযোগ অথবা জিডি করলে আইনগত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হবে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

খুলনায় পিতা-মাতা জীবিত অবস্থায় সম্পদ নিয়ে বিরোধ

Update Time : ০২:২৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

খুলনা প্রতিনিধি: খুলনা জেলার খালিশপুর থানাধীন মুজগুন্নি আবাসিক এলাকায় পিতা মাতা জীবিত থাকতে সন্তানদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে দফায় দফায় খালিশপুর থানা, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, জেলা প্রশাসক এর নিকট অভিযোগ দায়ের করলেও কোনভাবেই নিষ্পত্তি হচ্ছে না।

খুলনা খালিশপুরের মুজগুন্নী দক্ষিন কাজীপাড়ায় কাজী নজরুল ইসলাম(৭০) বসবাস করেন। পরিবারে স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক ছেলে নিয়ে তার সংসার। বর্তমানে ছোট ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে কোন রকম জীবন যাপন করছেন। কিন্তু বসবাসরত তার এই বাড়ি নিয়ে যেন প্রতিনিয়তই বাধছে হট্টগোল। বাড়ির সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে প্রতিদিনই চলছে বিরোধ। নজরুল ইসলাম বলেন, “ছোট তিন মেয়ে রুবিনা লাকি, সাবিনা সুখি, শাবনুর সাথী ও তাদের স্বামীগন এজাজ পারভেজ বাপ্পী, তৈয়েবুর রহমান তপু ও মোশাররফ হোসেন এর নিকট হেনস্থার স্বীকার হচ্ছি। জোরপূর্বক বাড়ির সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে তারা।”

গত বছরের সেপ্টেম্বরের ২০ তারিখে খুলনা জেল কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত মেঝ মেয়ের স্বামী গাজী তৈয়েবুর রহমান তপুর বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন নজরুল ইসলাম। ডায়েরিতে উল্লেখ করা হয়, ঘর জামাই থাকাকালীন সময়ে মেঝো মেয়ের স্বামী তপু অভিনব কায়দায় তার নিজের ও স্ত্রীর জমি লিখে স্বাক্ষর করে নেয়। পরবর্তীতে ব্যাবহৃত সেফটি ট্যাংকি ও পানির লাইন জোরপূর্বক দখলে বাধা দেওয়ায় আদালতে মামলা করা হয়। সেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেন মর্মে উল্লেখ করা হয় জিডি’তে।

এছাড়া নজরুল ইসলামের স্ত্রী মালা ইসলাম বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট অভিযোগপত্র প্রদান করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, “মেঝ মেয়ে সাবিনা সুখি ও তার স্বামী তপু পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে সাময়িকভাবে পশ্চিম পাশের বাসায় থাকতে দেওয়া হয়। তখন থেকেই শশুর শাশুড়ীর সম্পত্তির উপর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার। শশুর-শাশুড়ী শারীরিক ভাবে অসুস্থ হওয়ায় বিভিন্ন ছলচাতুরীর মাধ্যমে সম্পত্তির কিছু অংশ দখলে নেয়। বর্তমানে জোরপূর্বক পানির লাইন নেওয়ার জন্য অনেক হুমকি প্রদান করেন। ”
এছাড়া তিনি জেল পুলিশে কর্মরত থাকায় বিভিন্ন সময়ে হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন তার শাশুড়ী।

এবিষয়ে গাজি তৈয়েবুর রহমান তপুর নিকট জানতে ফোনোকলে একাধিকবার চেষ্টা করলে বন্ধ পাওয়া যায়।

তবে এ সম্পর্কে এ পরিবারের বড় মেয়ে সুবর্ণা স্বপ্না বলেন,
“আমার ছোট তিন বোন এ বাড়ীর সম্পদ দখল করার জন্য ভাড়াটিয়াদের উপর অত্যাচার করে। কদিন আগে এক ভাড়াটিয়াকে মারপিট করে মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।” এছাড়া তিনি বলেন “আমার বাবা মা’কে নিয়ে অসংগতিপূর্ণ তথ্য ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমার তিন বোন ও তাদের স্বামীগন।”
এছাড়া তাদের চাচাতো ভাই কাজী মামুন ওরফে রমজান এর যোগসাজশে এসকল কর্মকাণ্ড করছেন বলে জানান তিনি। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ১১ মার্চ রমজানের বিরুদ্ধে ঘরবাড়ি ভাংচুর, চাঁদা দাবি ও মারপিটের অভিযোগে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। পরবর্তীতে আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে।

তবে এ জমি জমা সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে অন্য তিন বোনের সাথে কথা বললে তারা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন। ছোট বোন সাথী বলেন, “আমার বাবা-মা, বড় বোন, ছোট ভাই সকলে ভাড়াটিয়া দের দিয়ে অসামাজিক কাজ করায়। এছাড়া মাদকের সাথে সম্পৃক্ত আছে তারা।” তিনি বলেন, এলাকাবাসী তাদের বিরুদ্ধে গণপিটিশন দিয়েছে। জমি জায়গা নিয়ে কোন বিরোধ নেই।”

এ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য খালিশপুর থানার অফিসার ইনচার্জ গিয়াস আল মুনির এর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, ” এটা পারিবারিক একটি ঝামেলা। এ বিষয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে খালিশপুর থানা জোনের সহকারি কমিশনার উভয় পক্ষকে ডেকে মিমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর পরেও কোনো অভিযোগ অথবা জিডি করলে আইনগত প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা হবে।”