জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন, যা বললেন মুফতি ফয়জুল করীম

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬
  • 166

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ঘনিয়ে এলেও ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে জোটের ভেতরে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম মনে করেন, মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হবে।

জানা গেছে, ১১ দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চললেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা এখনো হয়নি। অন্যদিকে দলটি ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে, যা জোটের ভেতরে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, জামায়াতে ইসলামী ১১০টি আসনে ছাড় দিয়ে ১৯০টি আসনে প্রার্থী রাখতে রাজি হয়েছে। শরিক অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সংখ্যক আসন বণ্টনের প্রস্তাব থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৩৫টি আসন নির্ধারণ করা হয়। তবে এ প্রস্তাবে দলটি এখনো সম্মত হয়নি। তাদের দাবি, ন্যূনতম ১২০টি আসন পাওয়া উচিত। মুফতি ফয়জুল করীম প্রকাশ্যে বলেছেন, ১৪৩ আসনকে তারা নিজেদের ‘এ গ্রেড’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

মুফতি ফয়জুল করীম যুগান্তরকে বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আলোচনা অব্যাহত থাকলে সমাধান সম্ভব হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জোটে নতুন দল যুক্ত হলেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বিত বৈঠক হয়নি; কেবল জামায়াতের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে, যা অসন্তোষের কারণ।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়েরও বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পর্যন্ত আলোচনা চালানোর সুযোগ আছে এবং সমঝোতা না হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

১১ দলের জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেসব দল অতীতে সংসদে কোনো আসন পায়নি, তাদের পক্ষে বিপুল সংখ্যক আসন দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। জোটে থাকতে হলে সবাইকে ছাড় দিতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে ১১ দলীয় জোটে আসন বণ্টন নিয়ে অচলাবস্থা থাকলেও নেতারা আশাবাদী, শেষ মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

জামায়াতের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের টানাপোড়েন, যা বললেন মুফতি ফয়জুল করীম

Update Time : ০৪:৩৮:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ সময় ঘনিয়ে এলেও ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ নিয়ে জোটের ভেতরে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। তবে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীম মনে করেন, মতপার্থক্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত সমাধান হবে।

জানা গেছে, ১১ দলের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চললেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমঝোতা এখনো হয়নি। অন্যদিকে দলটি ২৭২টি আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে, যা জোটের ভেতরে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, জামায়াতে ইসলামী ১১০টি আসনে ছাড় দিয়ে ১৯০টি আসনে প্রার্থী রাখতে রাজি হয়েছে। শরিক অন্যান্য দলগুলোর মধ্যে বিভিন্ন সংখ্যক আসন বণ্টনের প্রস্তাব থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের জন্য ৩৫টি আসন নির্ধারণ করা হয়। তবে এ প্রস্তাবে দলটি এখনো সম্মত হয়নি। তাদের দাবি, ন্যূনতম ১২০টি আসন পাওয়া উচিত। মুফতি ফয়জুল করীম প্রকাশ্যে বলেছেন, ১৪৩ আসনকে তারা নিজেদের ‘এ গ্রেড’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

মুফতি ফয়জুল করীম যুগান্তরকে বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে তাদের মতপার্থক্য রয়েছে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আলোচনা অব্যাহত থাকলে সমাধান সম্ভব হবে। তিনি অভিযোগ করেন, জোটে নতুন দল যুক্ত হলেও ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সমন্বিত বৈঠক হয়নি; কেবল জামায়াতের সঙ্গেই আলোচনা হয়েছে, যা অসন্তোষের কারণ।

এদিকে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব যোবায়েরও বলেন, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পর্যন্ত আলোচনা চালানোর সুযোগ আছে এবং সমঝোতা না হওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

১১ দলের জোটের এক শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, যেসব দল অতীতে সংসদে কোনো আসন পায়নি, তাদের পক্ষে বিপুল সংখ্যক আসন দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। জোটে থাকতে হলে সবাইকে ছাড় দিতে হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সব মিলিয়ে ১১ দলীয় জোটে আসন বণ্টন নিয়ে অচলাবস্থা থাকলেও নেতারা আশাবাদী, শেষ মুহূর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে।