Dhaka ০২:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণা, সব হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা চেষ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২
  • 132

খুলনা প্রতিনিধিঃ কখনো কামরু কামাখ্যা, কিংবা পাকিস্তানের লাহোর। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বসবাসকারি এক জ্বীনের বাদশার আবির্ভাব হয়েছে দেশে। হাজার বছর বয়সী এই জ্বীনের বাদশা বলে দিতে পারে আশরাফুল মাখলুকাত খ্যাত মানবজাতির সুবিধা ও অসুবিধা। বলতে পারে ভবিষ্যতের আগমনী বার্তা। রুপকথার গল্পে যেমন আলাদীনের চ্যারাগে ঘষা দিলেই হতো ইচ্ছা পূরণ। ঠিক তেমনি এই বাদশা হাজির হয়েছে সেই দৈত্যরুপে।

কথিত এই জ্বীনের বাদশার কাহিনী শুনে রুপকথার গল্প মনে হতে পারে। কিন্তু না, এক এক সময় একেক রকম ভাষা ও বিকৃত অঙ্গভঙ্গিতে এই বাদশা হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। দেশের বেকার যুবক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশেগুলোতে থাকা প্রবাসীদেরকে টার্গেট করে কৌশলে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় এ চক্রটি।
কুয়েত প্রবাসী রুবেল ২৫(ছদ্মনাম) উট চরানো ভিসায় পাড়ি জমায় কুয়েতে । আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে দেশে স্কুল-কলেজের গন্ডি পার হতে পারেনি । বিভিন্ন মহলে ধার দেনা করে কুয়েতে পাঠায় তার পরিবার। ভিসা অতি সাধারণ হওয়ায় সামান্য বেতনে চাকরি পান তিনি । প্রচন্ড তাপমাত্রা উপেক্ষা করে কিছু টাকা সঞ্চয় করে দেশে পাঠানোর জন্য। এমন সময় বহুল ব্যাবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় এক ব্যাক্তির সাথে। সে ব্যাক্তি হটাৎ একদিন (রুবেলকে) বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের কথা বলতে থাকে। ব্যাক্তিটি কখনো ইংরেজি, কখনো উর্দু বা হিন্দিতে কথা বলতে থাকে। নিজেকে জ্বীনের বাদশা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টায় সফলকাম হয় সে। এক পর্যায়ে কানাডায় যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। তিনি বলেন, টাকা পাঠালেই কানাডা প্রবেশের সুযোগ মিলবে। ভিসা পেতে খরচ করতে হবে দুই লাখ টাকা। তার কথা বিশ্বাস করে বিকাশে টাকা পাঠায় এই প্রবাসী যুবক। কথিত জ্বীনের বাদশা এই টাকা পাঠানোর পূর্বে কাওকে জানাতে নিষেধ করায়, পরিবারকে না জানিয়ে টাকা পাঠান তিনি। পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নিরুপায় হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে যুবক। তিনি জানান,” আমি অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমি বুঝতে পারিনি আমার সাথে প্রতারনা করবে। টাকাগুলো খুইয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
এদিকে কুয়েতের আরেক প্রবাসী ভুক্তভোগী শামস তীবরিজ বলেন, “ফেসবুক, ইমো ও টিকটকে একশ্রেণির প্রতারকচক্র সক্রিয়ভাবে তাদের প্রতারনা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এরা মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়। এদের খপ্পরে পড়ে আমি ও বেশ কিছু টাকা হারিয়েছি। ”

এ বিষয়ে খুলনা র‍্যাব ৬ এর একটি গোয়েন্দা দলকে জানালে, ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন তারা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা র‍্যাব ও ডিবি’র নিকট এ ধরনের বেশ কিছু চক্র ধরা পড়লেও আদালতে জামিন পেয়ে পুনরায় একই কাজ করছে তারা। আইনের ফাঁকফোকড়ে বেরিয়ে আসা এসকল প্রতারকদের প্রতারণা আদৌ বন্ধ হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয়

জ্বীনের বাদশা পরিচয়ে প্রতারণা, সব হারিয়ে যুবকের আত্মহত্যা চেষ্টা

Update Time : ০৪:১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ অগাস্ট ২০২২

খুলনা প্রতিনিধিঃ কখনো কামরু কামাখ্যা, কিংবা পাকিস্তানের লাহোর। ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বসবাসকারি এক জ্বীনের বাদশার আবির্ভাব হয়েছে দেশে। হাজার বছর বয়সী এই জ্বীনের বাদশা বলে দিতে পারে আশরাফুল মাখলুকাত খ্যাত মানবজাতির সুবিধা ও অসুবিধা। বলতে পারে ভবিষ্যতের আগমনী বার্তা। রুপকথার গল্পে যেমন আলাদীনের চ্যারাগে ঘষা দিলেই হতো ইচ্ছা পূরণ। ঠিক তেমনি এই বাদশা হাজির হয়েছে সেই দৈত্যরুপে।

কথিত এই জ্বীনের বাদশার কাহিনী শুনে রুপকথার গল্প মনে হতে পারে। কিন্তু না, এক এক সময় একেক রকম ভাষা ও বিকৃত অঙ্গভঙ্গিতে এই বাদশা হাতিয়ে নিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা। দেশের বেকার যুবক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশেগুলোতে থাকা প্রবাসীদেরকে টার্গেট করে কৌশলে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায় এ চক্রটি।
কুয়েত প্রবাসী রুবেল ২৫(ছদ্মনাম) উট চরানো ভিসায় পাড়ি জমায় কুয়েতে । আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে দেশে স্কুল-কলেজের গন্ডি পার হতে পারেনি । বিভিন্ন মহলে ধার দেনা করে কুয়েতে পাঠায় তার পরিবার। ভিসা অতি সাধারণ হওয়ায় সামান্য বেতনে চাকরি পান তিনি । প্রচন্ড তাপমাত্রা উপেক্ষা করে কিছু টাকা সঞ্চয় করে দেশে পাঠানোর জন্য। এমন সময় বহুল ব্যাবহৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয় হয় এক ব্যাক্তির সাথে। সে ব্যাক্তি হটাৎ একদিন (রুবেলকে) বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানের কথা বলতে থাকে। ব্যাক্তিটি কখনো ইংরেজি, কখনো উর্দু বা হিন্দিতে কথা বলতে থাকে। নিজেকে জ্বীনের বাদশা হিসেবে বিশ্বাস করানোর চেষ্টায় সফলকাম হয় সে। এক পর্যায়ে কানাডায় যাওয়ার ব্যাপারে পরামর্শ প্রদান করেন তিনি। তিনি বলেন, টাকা পাঠালেই কানাডা প্রবেশের সুযোগ মিলবে। ভিসা পেতে খরচ করতে হবে দুই লাখ টাকা। তার কথা বিশ্বাস করে বিকাশে টাকা পাঠায় এই প্রবাসী যুবক। কথিত জ্বীনের বাদশা এই টাকা পাঠানোর পূর্বে কাওকে জানাতে নিষেধ করায়, পরিবারকে না জানিয়ে টাকা পাঠান তিনি। পরবর্তীতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলে নিরুপায় হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে যুবক। তিনি জানান,” আমি অনেক দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমি বুঝতে পারিনি আমার সাথে প্রতারনা করবে। টাকাগুলো খুইয়ে আমি দিশেহারা হয়ে পড়েছি। তাই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।”
এদিকে কুয়েতের আরেক প্রবাসী ভুক্তভোগী শামস তীবরিজ বলেন, “ফেসবুক, ইমো ও টিকটকে একশ্রেণির প্রতারকচক্র সক্রিয়ভাবে তাদের প্রতারনা কার্যক্রম চালাচ্ছে। বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে এরা মানুষকে নিঃস্ব করে দেয়। এদের খপ্পরে পড়ে আমি ও বেশ কিছু টাকা হারিয়েছি। ”

এ বিষয়ে খুলনা র‍্যাব ৬ এর একটি গোয়েন্দা দলকে জানালে, ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস প্রদান করেন তারা।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা র‍্যাব ও ডিবি’র নিকট এ ধরনের বেশ কিছু চক্র ধরা পড়লেও আদালতে জামিন পেয়ে পুনরায় একই কাজ করছে তারা। আইনের ফাঁকফোকড়ে বেরিয়ে আসা এসকল প্রতারকদের প্রতারণা আদৌ বন্ধ হবে কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন ভুক্তভোগীদের।