তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-চীন

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৪:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
  • 13

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের বৈঠকে তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন এবং বন্যা মোকাবিলা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদীভিত্তিক অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী নদীখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলবে।

জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী। তিনি এ খাতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দেন।

বৈঠকে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর বাংলাদেশ সফরকারী চীনা পানি বিশেষজ্ঞ দলের কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। চীনের মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌ-নেভিগেশন সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, তাই নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জাতীয় উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা খাতে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, যাতে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় আরও জোরদার হয়।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও চীনের এই সমঝোতাকে তিস্তা প্রকল্পসহ দেশের সামগ্রিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Deen Md

জনপ্রিয়

দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করলেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট

তিস্তাসহ নদী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-চীন

Update Time : ০৪:৩৩:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইংয়ের বৈঠকে তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাইয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন এবং বন্যা মোকাবিলা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি-১ জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের নদীভিত্তিক অর্থনীতি ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, নদীভাঙন প্রতিরোধ, পরিবেশ সুরক্ষা এবং পানিসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী নদীখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের কারিগরি সহায়তা কামনা করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চীনের অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাংলাদেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলবে।

জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোওইং বাংলাদেশের উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, নদী উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকতে আগ্রহী। তিনি এ খাতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের আশ্বাস দেন।

বৈঠকে ২০০৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক এবং গত বছর বাংলাদেশ সফরকারী চীনা পানি বিশেষজ্ঞ দলের কার্যক্রমের বিষয়ও উঠে আসে। চীনের মন্ত্রী বলেন, দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক গবেষণা ও অভিজ্ঞতার ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব।

প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন রোধ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নৌ-নেভিগেশন সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর, তাই নদী ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন জাতীয় উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী আরও বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা খাতে চীনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা বাংলাদেশ কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানি বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আমন্ত্রণ জানান, যাতে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় আরও জোরদার হয়।

বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও চীনের এই সমঝোতাকে তিস্তা প্রকল্পসহ দেশের সামগ্রিক পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যতে নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষি সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।