২৬ টুকরো লাশ

প্রেমের ফাঁদ, অন্তরঙ্গ ভিডিও করে টাকা আদায় ছিল উদ্দেশ্য : র‌্যাব

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫
  • 118


রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে পরিকল্পিতভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা করে তার মরদেহ ২৬ টুকরো করেছে তারই বন্ধু জরেজুল ইসলাম ও জরেজের প্রেমিকা শামীমা আক্তার কোহিনুর। ব্লাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। শনিবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের কথা বলে জরেজ আশরাফুলকে রংপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ১২ নভেম্বর তারা শনির আখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওঠে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা মালটার শরবতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আশরাফুলকে অচেতন করেন। এ সময় জরেজ বাইরে থেকে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে স্কচটেপে মুখ আটকানো হয়। এরপর জরেজ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, মরদেহ গুম করতে পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি ড্রাম কিনে আনেন। তিনি মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন। দুপুরে একটি সিএনজি ভাড়া করে ড্রামগুলো নিয়ে বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে হাইকোর্টের পানির পাম্প সংলগ্ন রাস্তায় বড় গাছের নিচে ড্রাম রেখে দ্রুত সায়েদাবাদে চলে যান। এরপর শামীমাকে কুমিল্লায় নিজের বাড়িতে যেতে বলেন এবং নিজে রংপুরে চলে যান।

১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এলাকায় ড্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর সিআইডি আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণ করে এটি আশরাফুলের বলে নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে জরেজকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে র‌্যাব ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থেকে শামীমাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনির আখড়া এলাকা থেকে রক্তমাখা পায়জামা-পাঞ্জাবি, ব্যবহৃত দড়ি, স্কচটেপসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করাই ছিল হত্যার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো শত্রুতা জড়িত কি না, তা মূল আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে। ইতোমধ্যে ডিবি জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Din Mohammad

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পোশাক খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৬ টুকরো লাশ

প্রেমের ফাঁদ, অন্তরঙ্গ ভিডিও করে টাকা আদায় ছিল উদ্দেশ্য : র‌্যাব

Update Time : ০১:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৫


রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে পরিকল্পিতভাবে প্রেমের ফাঁদে ফেলে হত্যা করে তার মরদেহ ২৬ টুকরো করেছে তারই বন্ধু জরেজুল ইসলাম ও জরেজের প্রেমিকা শামীমা আক্তার কোহিনুর। ব্লাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। শনিবার কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।

তিনি জানান, প্রায় এক মাস আগে শামীমা আশরাফুলের সঙ্গে মিথ্যা প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় ব্যবসায়িক পাওনা আদায়ের কথা বলে জরেজ আশরাফুলকে রংপুর থেকে ঢাকায় নিয়ে আসে। ১২ নভেম্বর তারা শনির আখড়ার নূরপুর এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে ওঠে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা মালটার শরবতে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে আশরাফুলকে অচেতন করেন। এ সময় জরেজ বাইরে থেকে তাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে স্কচটেপে মুখ আটকানো হয়। এরপর জরেজ হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, মরদেহ গুম করতে পরদিন সকালে জরেজ বাজার থেকে চাপাতি ও দুটি ড্রাম কিনে আনেন। তিনি মরদেহ ২৬ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখেন। দুপুরে একটি সিএনজি ভাড়া করে ড্রামগুলো নিয়ে বের হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে হাইকোর্টের পানির পাম্প সংলগ্ন রাস্তায় বড় গাছের নিচে ড্রাম রেখে দ্রুত সায়েদাবাদে চলে যান। এরপর শামীমাকে কুমিল্লায় নিজের বাড়িতে যেতে বলেন এবং নিজে রংপুরে চলে যান।

১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এলাকায় ড্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর সিআইডি আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণ করে এটি আশরাফুলের বলে নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন বাদী হয়ে জরেজকে আসামি করে শাহবাগ থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে র‌্যাব ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম থেকে শামীমাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী শনির আখড়া এলাকা থেকে রক্তমাখা পায়জামা-পাঞ্জাবি, ব্যবহৃত দড়ি, স্কচটেপসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ব্লাকমেইল করে টাকা আদায় করাই ছিল হত্যার প্রধান উদ্দেশ্য। তবে হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো শত্রুতা জড়িত কি না, তা মূল আসামি জরেজকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যাবে। ইতোমধ্যে ডিবি জরেজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে।