যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রাথমিক ফলাফলে এগিয়ে রয়েছেন বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা। প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটেও দলটির প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। এই অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত বজায় থাকলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে আগামী দুই বছরেরও বেশি সময় কঠিন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গেলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে সীমিত হয়ে আসতে পারে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোট শেষে বিভিন্ন আসনের প্রাথমিক ও বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হতে শুরু করেছে। এসব ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট এবং নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ—উভয়টির নিয়ন্ত্রণ ছিল তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির হাতে। ফলে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ট্রাম্পের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল রাজনৈতিক পরিবেশ ছিল।
কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফল সেই পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রতিনিধি পরিষদে বড় ব্যবধানে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
বিবিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের এ পর্যন্ত ১০৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা ৭১টি আসনে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৩২টি আসনে।
প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসনসংখ্যা ৪৩৫। এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসনে জয়ী হতে হবে। ডেমোক্র্যাটরা বর্তমানে যে অগ্রগতি দেখাচ্ছেন, তা অব্যাহত থাকলে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
নির্বাচন বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের জয় রিপাবলিকান প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হতে পারে। কারণ, এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন আইনগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টি করার সুযোগ পাবেন বিরোধী দলের আইনপ্রণেতারা।
সিনেটেও ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতি
সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ৩৫টি আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে এ পর্যন্ত ১৬টি আসনের বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে। প্রকাশিত ফলাফলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ১১টি আসনে জয় পেয়েছেন। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা পেয়েছেন পাঁচটি আসন।
বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে সাধারণভাবে কোনো দলের অন্তত ৫১টি আসন প্রয়োজন হয়। ফলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া প্রতিনিধি পরিষদের তুলনায় কঠিন হলেও এবারের নির্বাচনী পরিস্থিতিতে সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সিনেটের লড়াই এবার কানসাস, টেক্সাস, আইওয়া, ওহাইও ও আলাস্কার মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল অঙ্গরাজ্যগুলোতেও ছড়িয়ে পড়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের ফলাফল সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে চাপে পড়বেন ট্রাম্প
মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী দলের হাতে চলে গেলে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠবে। প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করতে পারবেন। পাশাপাশি তাঁর আইনগত ও প্রশাসনিক কর্মসূচির বিরোধিতা করে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আটকে দেওয়ার ক্ষমতাও অর্জন করবেন।
অন্যদিকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারালে বিচারপতি, রাষ্ট্রদূত এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের প্রশাসনকে বিরোধী দলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হতে পারে। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষেত্রে সিনেটের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মার্কিন রাজনীতি ও নির্বাচন বিশ্লেষকদের উল্লেখযোগ্য অংশ মনে করছেন, ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন। সিনেটেও দলটির অবস্থান আগের তুলনায় শক্তিশালী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
নির্বাচনে ট্রাম্পের শাসনামল নিয়ে গণরায়ের প্রতিফলন
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শাসনামল নিয়ে এক ধরনের জাতীয় গণরায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মুদ্রাস্ফীতি, শুল্কনীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মতো বিষয়গুলো ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি করেছে।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার সময় ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে দ্রব্যমূল্য কমানো এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু মুদ্রাস্ফীতি, বিভিন্ন পণ্যের ওপর শুল্ক বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন নাগরিকদের একটি বড় অংশ অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৪ বছর বয়সী ভোটার টেলর কুক বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা এবারের নির্বাচনে তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেন, বাড়িভাড়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, পরিষেবা বিল এবং সম্পত্তি কর—সবকিছুর দাম ক্রমাগত বাড়ছে। এসব ব্যয় কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবেন, এমন প্রতিনিধিদেরই তিনি কংগ্রেসে দেখতে চান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তাঁর অনুমোদনের হার বর্তমানে ৩০ শতাংশের কাছাকাছি ওঠানামা করছে। এতে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
অর্থনৈতিক অসন্তোষ সামাল দিতে ট্রাম্পের প্রচারণা
নির্বাচনের আগে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। টেলিভিশনে সরাসরি ফোনে যুক্ত হয়ে তিনি নিজের প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে শক্তিশালী করার দাবি করেছেন তিনি।
ফক্স টেলিভিশনের ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও মহান অবস্থানে ধরে রাখতে হবে। তাঁর ভাষ্য, দুই বছর আগেও দেশটির অবস্থা শোচনীয় ছিল, কিন্তু বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।
রিপাবলিকান নেতারাও দাবি করছেন, ট্রাম্পের কর হ্রাসের নীতি এবং অভিবাসনবিরোধী অবস্থান সাধারণ মানুষের জন্য সুফল বয়ে আনবে। একই সঙ্গে তাঁরা ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের বামপন্থী উগ্রবাদী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।
মিয়ামির ৭০ বছর বয়সী কলম্বীয় বংশোদ্ভূত ভোটার মারু রেস্ট্রেপো এএফপিকে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা আগে ভালো অবস্থানে থাকলেও বর্তমানে তাঁরা পুরোপুরি সমাজতান্ত্রিক হয়ে গেছেন।
ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে বিভিন্ন নির্বাচনী সভায় অংশ নিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে জনমত জরিপের কিছু ইঙ্গিত বলছে, তাঁর উপস্থিতি সব ক্ষেত্রে দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনি।
সোমবারের সর্বশেষ প্রকাশ্য নির্বাচনী বক্তব্যেও ট্রাম্প ভোটের বিষয়টি খুব বেশি গুরুত্ব দেননি। বরং ওয়াশিংটনের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন জটিলতা ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ট্রাম্পের যা যা করা প্রয়োজন ছিল, তিনি সবই করেছেন। চার সপ্তাহ আগের তুলনায় রিপাবলিকানরা বর্তমানে অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছেন।
তবে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের সর্বশেষ বক্তব্যকে শোচনীয় বলে সমালোচনা করেছেন।
মিশিগানসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে কঠিন লড়াই
সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সামনে বেশ কিছু কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। দলটিকে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ আসন ধরে রাখার পাশাপাশি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণাধীন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও জয় নিশ্চিত করতে হচ্ছে।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। সেখানে ডেমোক্রেটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে কংগ্রেসনেত্রী হ্যালি স্টিভেন্স দলীয় সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের পরিবর্তে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন জানিয়েছেন। এতে দলটির নির্বাচনী সমীকরণে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে।
তবে প্রাথমিক ফলাফলের পাশাপাশি নির্বাচনী পূর্বাভাসেও ডেমোক্র্যাটদের এগিয়ে থাকার চিত্র দেখা যাচ্ছে।
‘ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ’-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৪১টি আসন এবং রিপাবলিকানরা ১৯৪টি আসন পেতে পারেন। অন্যদিকে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের ৫২-৪৮ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে।
এটি পূর্বাভাস, চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নয়।
নির্বাচনী প্রচারণায় রেকর্ড অর্থ ব্যয়
এবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারণার পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও প্রচার কার্যক্রমে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।
এ ছাড়া ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণায় প্রায় ৫০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনে অর্থের এই বিপুল প্রবাহ মার্কিন রাজনীতিতে ধনী ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
ফলাফল নিয়ে বিতর্কের আশঙ্কা
নির্বাচনে রিপাবলিকানরা পরাজিত হলে ফলাফল নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কাও রয়েছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অতীতেও নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি ফলাফল উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সে সময় ব্যাপক ভোটার জালিয়াতির অভিযোগ তুললেও তাঁর দাবির পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এবারের নির্বাচনেও তিনি বিভিন্ন সময়ে ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন।
মঙ্গলবার নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রতিনিধি পরিষদীয় আসনে ভোট গ্রহণের সময় ভোটিং মেশিনে ত্রুটি দেখা দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ডানপন্থী প্রভাবশালীদের অনেকে নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তোলেন। তবে স্থানীয় নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকলেও প্রতিটি ব্যালট যথাযথভাবে গণনা করা হবে।
সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তার ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের আগামী দিনের নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতিপথ। ডেমোক্র্যাটদের প্রাথমিক অগ্রগতি শেষ পর্যন্ত বিজয়ে রূপ নিলে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সূত্র: এএফপি, বিবিসি
ডেস্ক নিউজ 




















